ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

প্রবাসী এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার: কাজী এনায়েত উল্লাহ

প্রবাসী। এক দেশ প্রেমিকের নাম। মা-বাবা, স্ত্রী – সন্তানের মত অতি প্রিয়জন ত্যাগ করে দেশ ও তাদের কল্যাণে হাড়ভাংগা পরিশ্রমে একাকৃত্ব প্রবাসজীবন। তার হাড়ভাংগা শ্রমের অর্থে উন্নয়ন ঘটে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের। তার অর্থেই তৈরি হয় বর্তমান অর্থনীতি, তার অর্থের নির্ভর করে দেশের টাকার মান, তার অর্থের উপর নির্ভর করে উন্নয়ন, তার অর্থের উপর নির্ভর বৈদেশিক বাণিজ্য। কিন্তু মানুষ হিসাবে তার কোন মূল্যায়ন নেই। সে দেশে তার মূল্যায়ন শুধু শ্রমিক হিসাবে, আর যে নেয় বা ভোগ করে, সে হয়ে উঠে দেশের হত্তাকত্তা বা মনীব। যার হাড়ভাংগা শ্রমে গড়ে উঠে অর্থনীতি, তাকে মূল্যায়ন করতে হলে তাকে রাজনৈতিক অধিকার দিতে হবে, তাকে ভোটের অধিকার দিতে, তাকে তার সম্পত্তির নিরাপত্তার অধিকার দিতে হবে, তার স্বজনের নিরাপত্তার অধিকার দিতে হবে। এগুলো কোন চাওয়া বা ভিক্ষা নয়, এটি এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যার্যতা ও সাম্যতা।

 

একটি দেশের অর্থনীতি অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স। তাই রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে একটি নিদিষ্ট সংখ্যক আসন প্রবাসীদের জন্য বরাদ্দ থাকতে হবে। তাহলে প্রবাসীদের সরাসরি সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং তারা দেশ সেবায় সরাসরি অংশ করতে পারবে। প্রবাসীরা কোন নিদিষ্ট দলের নয়, এই নীতিতে সকল দল রাজনৈতিকভাবে উপযুক্ত প্রবাসীদের কাছে নমিনেশন পেপার গ্রহণ করবেন। এতে রাজনৈতিক সংস্কার হওয়ার পাশাপাশি প্রবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হবে, রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে, নতুন ধারার পরিবর্তনশীল রাজনীতি সৃষ্টি হবে, নতুন আংগীকের উন্নত বাংলাদেশ তৈরি হবে।

 

প্রবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা মানে কেবল সংসদে আসন বরাদ্দ দেওয়া নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক করা। বর্তমানে প্রবাসীরা ভোটাধিকার থেকে কার্যত বঞ্চিত, নীতিনির্ধারণে তাদের মতামতের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিফলন নেই। অথচ তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স জাতীয় বাজেটের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই বৈষম্য রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার আস্থার সংকট তৈরি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্যও ক্ষতিকর।

 

প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব সংসদে থাকলে প্রবাস-সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যাগুলো—যেমন রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণা, দূতাবাসের সেবা ঘাটতি, শ্রমিক নির্যাতন, দেশে সম্পত্তি দখল, পরিবার হয়রানি—এসব বিষয় সরাসরি জাতীয় আলোচনায় আসবে। এতে নীতিনির্ধারণ হবে বাস্তবভিত্তিক, মানবিক এবং দায়বদ্ধ। প্রবাসীরা তখন কেবল রেমিট্যান্স প্রেরক নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

 

অতএব, প্রবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের অবদান ও ত্যাগের ন্যায্য স্বীকৃতি। একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী স্তরে পৌঁছাতে হবে। প্রবাসী ও দেশের মানুষের মধ্যে এই অধিকারভিত্তিক সংযোগই পারে একটি সত্যিকারের সাম্যভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে।

 

কাজী এনায়েত উল্লাহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস‍্য পদ প্রার্থী

ঢাকা ১৭ নির্বাচনী এলাকা

বাংলাদেশ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

প্রবাসী এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার: কাজী এনায়েত উল্লাহ

০৫:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

প্রবাসী। এক দেশ প্রেমিকের নাম। মা-বাবা, স্ত্রী – সন্তানের মত অতি প্রিয়জন ত্যাগ করে দেশ ও তাদের কল্যাণে হাড়ভাংগা পরিশ্রমে একাকৃত্ব প্রবাসজীবন। তার হাড়ভাংগা শ্রমের অর্থে উন্নয়ন ঘটে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের। তার অর্থেই তৈরি হয় বর্তমান অর্থনীতি, তার অর্থের নির্ভর করে দেশের টাকার মান, তার অর্থের উপর নির্ভর করে উন্নয়ন, তার অর্থের উপর নির্ভর বৈদেশিক বাণিজ্য। কিন্তু মানুষ হিসাবে তার কোন মূল্যায়ন নেই। সে দেশে তার মূল্যায়ন শুধু শ্রমিক হিসাবে, আর যে নেয় বা ভোগ করে, সে হয়ে উঠে দেশের হত্তাকত্তা বা মনীব। যার হাড়ভাংগা শ্রমে গড়ে উঠে অর্থনীতি, তাকে মূল্যায়ন করতে হলে তাকে রাজনৈতিক অধিকার দিতে হবে, তাকে ভোটের অধিকার দিতে, তাকে তার সম্পত্তির নিরাপত্তার অধিকার দিতে হবে, তার স্বজনের নিরাপত্তার অধিকার দিতে হবে। এগুলো কোন চাওয়া বা ভিক্ষা নয়, এটি এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যার্যতা ও সাম্যতা।

 

একটি দেশের অর্থনীতি অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স। তাই রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে একটি নিদিষ্ট সংখ্যক আসন প্রবাসীদের জন্য বরাদ্দ থাকতে হবে। তাহলে প্রবাসীদের সরাসরি সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং তারা দেশ সেবায় সরাসরি অংশ করতে পারবে। প্রবাসীরা কোন নিদিষ্ট দলের নয়, এই নীতিতে সকল দল রাজনৈতিকভাবে উপযুক্ত প্রবাসীদের কাছে নমিনেশন পেপার গ্রহণ করবেন। এতে রাজনৈতিক সংস্কার হওয়ার পাশাপাশি প্রবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হবে, রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে, নতুন ধারার পরিবর্তনশীল রাজনীতি সৃষ্টি হবে, নতুন আংগীকের উন্নত বাংলাদেশ তৈরি হবে।

 

প্রবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা মানে কেবল সংসদে আসন বরাদ্দ দেওয়া নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক করা। বর্তমানে প্রবাসীরা ভোটাধিকার থেকে কার্যত বঞ্চিত, নীতিনির্ধারণে তাদের মতামতের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিফলন নেই। অথচ তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স জাতীয় বাজেটের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই বৈষম্য রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার আস্থার সংকট তৈরি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্যও ক্ষতিকর।

 

প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব সংসদে থাকলে প্রবাস-সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যাগুলো—যেমন রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণা, দূতাবাসের সেবা ঘাটতি, শ্রমিক নির্যাতন, দেশে সম্পত্তি দখল, পরিবার হয়রানি—এসব বিষয় সরাসরি জাতীয় আলোচনায় আসবে। এতে নীতিনির্ধারণ হবে বাস্তবভিত্তিক, মানবিক এবং দায়বদ্ধ। প্রবাসীরা তখন কেবল রেমিট্যান্স প্রেরক নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

 

অতএব, প্রবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের অবদান ও ত্যাগের ন্যায্য স্বীকৃতি। একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী স্তরে পৌঁছাতে হবে। প্রবাসী ও দেশের মানুষের মধ্যে এই অধিকারভিত্তিক সংযোগই পারে একটি সত্যিকারের সাম্যভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে।

 

কাজী এনায়েত উল্লাহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস‍্য পদ প্রার্থী

ঢাকা ১৭ নির্বাচনী এলাকা

বাংলাদেশ।