
কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
ইসলামী ব্যাংক বাগেরহাটের যাত্রাপুর বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় টাকা লেনদেনে অনিয়মের খবর শুনে ভিড় জমিয়েছে গ্রাহকেরা। হিসাব চেক করে টাকা দেখতে না পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন অনেকে। অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার কর্মকর্তাগণ। তানিশা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাদিউজ্জামান হাদি ভুয়া স্লিপের মাধ্যমে গ্রাহকের দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। হাদিউজ্জামান এখন পলাতক। তার নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ইসলামী ব্যাংকের যাত্রাপুর বাজার এজেন্ট শাখায় গ্রাহকও কৌতূহলীদের ভিড় শোরগোল। অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এজেন্ট শাখায় কর্মরত সকলকে। পাশে থাকা তানিশা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাদিউজ্জামান হাদির রুমটিতে গ্রাহকদের ভিড় থাকলেও তার চেয়ারটি শূন্য রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে গত ২ মাসের অধিক সময় সে ব্যাংকে আসেনা। একাউন্টে জমাকৃত টাকার গড়মিল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। খবর শুনে থানা পুলিশ, স্থানীয় যাত্রাপুর ও কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাজার ব্যাংকিং শাখায় উপস্থিত হন এবং মূল ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে গ্ৰাহকদের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। কথা হলে বাজার এজেন্ট শাখার গ্রাহক চাঁপাতলা এলাকার শাবানা বেগম জানান, আমি এই শাখায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। তারা আমায় চেক বই দেয়নি। এখন আমার একাউন্টে কোনো টাকা নেই। প্রায় একমাস ধরে আসছি আর যাচ্ছি কোনো সুরাহা হচ্ছে না। আজ দেখি অন্য গ্রাহকদের অনেকেরই আমার মত অবস্থা। কার্তিকদিয়া দত্তপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ২২ সালের ২১ ডিসেম্বর মসজিদের একাউন্টে ৭০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। খোঁজ নিয়ে দেখি টাকা জমা হয়নাই। তবে টাকা জমার স্লিপ দিয়েছে।মসজিদের টাকাও ছাড় দিচ্ছেনা এই ব্যাংক। এদের কঠিন বিচার হওয়া উচিত। চাঁপাতলা এলাকার মনোয়ারা বেগম বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রতি অগাধ বিশ্বাস থাকায় অন্য একটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ৭ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা এই এজেন্ট শাখায় জমা করেছি। ব্যালেন্স চেক করে দেখি আমার একাউন্ট শূন্য। আজ সকালে ব্যাংকে এসে টাকার কথা বললে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলেছে ম্যানেজার টাকা নিয়ে চলে গেছে। আপনি শান্ত হোন টাকা পাবেন। বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ইনচার্জ আব্দুল হালিম বলেন, এই আউটলেটটির মালিক তানিশা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাদিউজ্জামান হাদি। ৫ বছর ধরে চলা এই এজেন্ট ব্যাংকে ২ হাজার ৬ শত গ্রাহকের ৭ কোটি টাকার উপরে ডিপোজিট রয়েছে। গ্রাহকের টাকা আমরা নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকে জমা দিয়েছি। তবে কিছু সংখ্যক গ্রাহকের টাকা আউটলেটটির মালিক হাদিউজ্জামান হাদি ডিজিটাল স্লিপের পরিবর্তে ব্যাংকের স্লিপ ব্যবহার করে নিজে আত্মসাৎ করেছেন।আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমান দেড় কোটি টাকার মত। তিনি দুই মাসের অধিক সময় ধরে ব্যাংকে আসেননা না। সর্বশেষ তার সাথে কথা হলে তিনি যতদ্রুত সম্ভব জমি বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। হাদিউজ্জামান হাদির ফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে বাগেরহাট শাখার ব্যবস্থাপক অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ তরিকুল ইসলাম বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।এখানে ফিংগার প্রিন্টের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন করতে হয়। এজেন্ট ব্যাংকিং উদ্যোক্তাদের ব্যাংকের স্লিপ ব্যবহার করার কোনো নিয়ম নেই। উদ্যোক্তা প্রতারণার মাধ্যমে জমা স্লিপ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। আমরা বাগেরহাট মডেল থানায় ডিজি করেছি। উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
