ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

হানিট্র্যাপের ফাঁদে স্কুলশিক্ষক, নওগাঁয় নারীসহ গ্রেপ্তার-৪

নুরুজ্জামান লিটন, জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ:

নওগাঁয় হানিট্র্যাপের মাধ্যমে এক স্কুল শিক্ষককে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। এ সময় এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জোর করে নেওয়া ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি পূর্বপাড়া এলাকার মোছা. চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার মো. রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর পূর্বপাড়া এলাকার মো. সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফুটানিগঞ্জ এলাকার মো. নাঈম হোসেন (২৫)।

পুলিশ জানায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার একটি গ্রামের এক স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল চামেলী আক্তার মিলির। বিভিন্ন প্রয়োজনে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিলি ওই শিক্ষককে জরুরি কথা বলার কথা জানিয়ে নওগাঁ শহরে তার বাসায় যেতে বলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষক সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে মিলিসহ কয়েকজন তাকে আটকে ফেলেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুই লাখ টাকার একটি চেকও লিখিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে নওগাঁ সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। প্রায় এক সপ্তাহের অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকেই ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তারা বিভিন্ন কৌশলে লোকজনকে প্রলোভনে ফেলে কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

হানিট্র্যাপের ফাঁদে স্কুলশিক্ষক, নওগাঁয় নারীসহ গ্রেপ্তার-৪

০৪:৩৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নুরুজ্জামান লিটন, জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ:

নওগাঁয় হানিট্র্যাপের মাধ্যমে এক স্কুল শিক্ষককে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। এ সময় এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জোর করে নেওয়া ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি পূর্বপাড়া এলাকার মোছা. চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার মো. রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর পূর্বপাড়া এলাকার মো. সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফুটানিগঞ্জ এলাকার মো. নাঈম হোসেন (২৫)।

পুলিশ জানায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার একটি গ্রামের এক স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল চামেলী আক্তার মিলির। বিভিন্ন প্রয়োজনে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিলি ওই শিক্ষককে জরুরি কথা বলার কথা জানিয়ে নওগাঁ শহরে তার বাসায় যেতে বলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষক সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে মিলিসহ কয়েকজন তাকে আটকে ফেলেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুই লাখ টাকার একটি চেকও লিখিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে নওগাঁ সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। প্রায় এক সপ্তাহের অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকেই ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তারা বিভিন্ন কৌশলে লোকজনকে প্রলোভনে ফেলে কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।