ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

বাগেরহাট সদর ইউএনওর পরিচয়ে অভিযান পরিচালনার নামে প্রতারণা

কামরুজ্জামান শিমুল, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:

বাগেরহাট সদর ইউএনও এর পরিচয়ে অজ্ঞাত মোবাইল নাম্বার থেকে তিনটি করাতকলে লক্ষাধিক টাকা দাবি করা হয়েছে। আর এ কাজে সহায়তা করেছে কচুয়া উপজেলা ভূমি অফিসে নৈশ প্রহরী মোহাম্মদ রোমান সরদার (৩৭) । বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের হাতে আটক রোমানকে মঙ্গলবার গভীর রাতে মুচলেকার মাধ্যমে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। রোমান জেলা সদরের বেমরতা এলাকার মৃত মোহাম্মদ গাউস সরদারের ছেলে।

স্থানীয় করাত কলের মালিক নাজমুল হাসান পান্না জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে রোমান তার মোবাইলে আমাকে কথা বলতে বলে, মোবাইলের অপরপ্রান্ত থেকে সদর উপজেলার ইউএনও পরিচয়ে আমাকে জানানো হয় যে, ভোক্তা অধিকার করাত কলে অভিযান পরিচালনা করবে, ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী ও পুলিশের গাড়ি প্রস্তুত রয়েছে। এখনই বিকাশে ৩৫ হাজার টাকা দিলে লিস্ট থেকে নাম কেটে দেওয়া হবে। ঠিক এই মুহূর্তে কাছে টাকা নেই, বাসা থেকে টাকা এনে দিতে হবে এভাবে কালক্ষেপণ করার ফলে বুঝতে পারি বিষয়টি প্রতারণা। তৎক্ষণাৎ টাকা দিয়ে দিলে প্রতারিত হতাম।

অপর দুই করাত কলের মালিক শেখ ইকরাম হোসেনের নিকট ৫০ হাজার টাকা এবং মোঃ ওসমান গনির নিকট ৩০ হাজার টাকা অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে একইভাবে দাবি করেন। তারা সকলেই বিষয়টি প্রতারণা বুঝতে পেরে কালক্ষেপণ করেন এবং সময় নেন। সর্বশেষ বিষয়টি প্রতারণা প্রমাণিত হলে বারবার ইউএনও পরিচয় দেওয়া নাম্বারে কল দেওয়া হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কচুয়া উপজেলা ভূমি অফিসের নৈশ প্রহরী মোহাম্মদ রোমান সরদার বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ০১৮২৬১৪২৮৭৯ নাম্বার থেকে সদর উপজেলার ইউএনও পরিচয় দিয়ে আমার মাধ্যমে তিনটি করাত কলে অভিযান পরিচালনা করার কথা বলে টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে অফিসে গিয়ে বিষয়টি আমার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিষয়টি বুঝতে পেরেছি এটা প্রতারণা। করাত কলের কোন মালিক প্রতারিত হয়ে টাকা দেয়নি। তবে এই প্রতারণায় জড়িত থাকার দায়ে স্থানীয়রা আমাকে ডেকে নিয়েছিল। তারা বিষয়টি নিয়ে স্যারদের সাথে কথা বলেছে। আমি ভুল শিকার করেছি। মুচলেকা দিয়ে আপাতত মুক্তি পেয়েছি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানাজ পারভীন বিথী অভিযান কিংবা এসব ঘটনা সম্বন্ধে তিনি জানেন না বলে জানান। তবে কচুয়া উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বলেন বিষয়টি শুনেছি এটা প্রতারণা, তবে ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

বাগেরহাট সদর ইউএনওর পরিচয়ে অভিযান পরিচালনার নামে প্রতারণা

১২:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

কামরুজ্জামান শিমুল, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:

বাগেরহাট সদর ইউএনও এর পরিচয়ে অজ্ঞাত মোবাইল নাম্বার থেকে তিনটি করাতকলে লক্ষাধিক টাকা দাবি করা হয়েছে। আর এ কাজে সহায়তা করেছে কচুয়া উপজেলা ভূমি অফিসে নৈশ প্রহরী মোহাম্মদ রোমান সরদার (৩৭) । বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের হাতে আটক রোমানকে মঙ্গলবার গভীর রাতে মুচলেকার মাধ্যমে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। রোমান জেলা সদরের বেমরতা এলাকার মৃত মোহাম্মদ গাউস সরদারের ছেলে।

স্থানীয় করাত কলের মালিক নাজমুল হাসান পান্না জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে রোমান তার মোবাইলে আমাকে কথা বলতে বলে, মোবাইলের অপরপ্রান্ত থেকে সদর উপজেলার ইউএনও পরিচয়ে আমাকে জানানো হয় যে, ভোক্তা অধিকার করাত কলে অভিযান পরিচালনা করবে, ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী ও পুলিশের গাড়ি প্রস্তুত রয়েছে। এখনই বিকাশে ৩৫ হাজার টাকা দিলে লিস্ট থেকে নাম কেটে দেওয়া হবে। ঠিক এই মুহূর্তে কাছে টাকা নেই, বাসা থেকে টাকা এনে দিতে হবে এভাবে কালক্ষেপণ করার ফলে বুঝতে পারি বিষয়টি প্রতারণা। তৎক্ষণাৎ টাকা দিয়ে দিলে প্রতারিত হতাম।

অপর দুই করাত কলের মালিক শেখ ইকরাম হোসেনের নিকট ৫০ হাজার টাকা এবং মোঃ ওসমান গনির নিকট ৩০ হাজার টাকা অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে একইভাবে দাবি করেন। তারা সকলেই বিষয়টি প্রতারণা বুঝতে পেরে কালক্ষেপণ করেন এবং সময় নেন। সর্বশেষ বিষয়টি প্রতারণা প্রমাণিত হলে বারবার ইউএনও পরিচয় দেওয়া নাম্বারে কল দেওয়া হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কচুয়া উপজেলা ভূমি অফিসের নৈশ প্রহরী মোহাম্মদ রোমান সরদার বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ০১৮২৬১৪২৮৭৯ নাম্বার থেকে সদর উপজেলার ইউএনও পরিচয় দিয়ে আমার মাধ্যমে তিনটি করাত কলে অভিযান পরিচালনা করার কথা বলে টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে অফিসে গিয়ে বিষয়টি আমার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিষয়টি বুঝতে পেরেছি এটা প্রতারণা। করাত কলের কোন মালিক প্রতারিত হয়ে টাকা দেয়নি। তবে এই প্রতারণায় জড়িত থাকার দায়ে স্থানীয়রা আমাকে ডেকে নিয়েছিল। তারা বিষয়টি নিয়ে স্যারদের সাথে কথা বলেছে। আমি ভুল শিকার করেছি। মুচলেকা দিয়ে আপাতত মুক্তি পেয়েছি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানাজ পারভীন বিথী অভিযান কিংবা এসব ঘটনা সম্বন্ধে তিনি জানেন না বলে জানান। তবে কচুয়া উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বলেন বিষয়টি শুনেছি এটা প্রতারণা, তবে ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।