ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

বদলগাছী উপজেলার বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের অশালীন বার্তার অভিযোগে উত্তেজনা

নুরুজ্জামান লিটন, জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা-এর বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে।

অভিযুক্ত পিয়ন সৈকত হোসেন উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের পরমান্দপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দীনের ছেলে। তিনি বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ অনুযায়ী, সৈকত হোসেন অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অশালীন বার্তা পাঠিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে বিদ্যালয়টি অবরুদ্ধ করে রাখেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তেজিত জনতার একাংশ অভিযুক্ত অফিস সহায়ককে মারধরও করেছে।

পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি, বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান এবং বিলাসবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান কেটু। তারা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

অভিযুক্ত সৈকত হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো অশালীন বার্তা পাঠাইনি। আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয়েছে, যাতে আমাকে বিপদে ফেলা যায়।”

বদলগাছী থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও ইশরাত জাহান ছনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

বদলগাছী উপজেলার বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের অশালীন বার্তার অভিযোগে উত্তেজনা

০৯:৫৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নুরুজ্জামান লিটন, জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা-এর বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে।

অভিযুক্ত পিয়ন সৈকত হোসেন উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের পরমান্দপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দীনের ছেলে। তিনি বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ অনুযায়ী, সৈকত হোসেন অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অশালীন বার্তা পাঠিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে বিদ্যালয়টি অবরুদ্ধ করে রাখেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তেজিত জনতার একাংশ অভিযুক্ত অফিস সহায়ককে মারধরও করেছে।

পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি, বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান এবং বিলাসবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান কেটু। তারা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

অভিযুক্ত সৈকত হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো অশালীন বার্তা পাঠাইনি। আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয়েছে, যাতে আমাকে বিপদে ফেলা যায়।”

বদলগাছী থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও ইশরাত জাহান ছনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।