ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

অনৈতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা : কক্সবাজারে অনুমোদনবিহীন স্পা সেন্টারের বেপরোয়া বিস্তার:

নিজস্ব প্রতিবেদক

পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে গত কয়েক বছরে mushrooming হারে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন নামে ম্যাসেজ ও থেরাপি সেন্টার। স্থানীয়দের ভাষায়, “ব্যাঙের ছাতার মতো” অর্ধশতাধিক স্পা সেন্টার গড়ে উঠলেও-এর বেশিরভাগই নাকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। স্পা শিল্পের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা পেশাগত নীতিমালাও অনেক কেত্রেই মেনে চলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুমোনবিহীন স্পা সেন্টারগুলোর অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে সুগন্ধা পয়েন্টের গোল্ড থাই স্পা।

উখিয়া মরিচ্যা পালং এর মধ্যম হলদিয়া এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে রেহানা বেগম রিংকি এবং তার প্রেমিক বাহারছড়াস্থ আতা উল্লাহ রেজভীর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে, কক্সবাজার পর্যটন নগরীর সুগন্ধায় সিলভিয়া রিসোর্টে গোল্ড থাই স্পা। অভিযোগ রয়েছে কিছু স্বামী-পরিত্যক্তা বা আর্থিকভাবে দুর্বল নারীকে থেরাপিস্ট বানিয়ে এ ধরনের ‘বডি ম্যাসাজ’-এর নামে অবৈধ সম্পর্ক তৈরির সুযোগ তৈরি করা হয়। এতে যৌনবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যানার পেস্টুন টাঙিয়ে এসব স্পা সেন্টারের প্রচার-প্রচারণা চলছে প্রকাশ্যে। শরীরের রক্ত সঞ্চালন সক্রিয় ও পেশিশক্তি সচল রাখতে স্পা অত্যাবশ্যকীয়। এমনসব চমকপ্রদ উক্তির মাধ্যমে কক্সবাজারে আসা পর্যটক ও স্থানীয় ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে অবাধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যখন কোনো ব্যক্তি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে স্পা করার উদ্দেশ্যে সেন্টারে যায় তখন যৌন উত্তেজনামূলক নানান কথাবার্তা বলে শারীরিক সম্পর্কের জন্য বাধ্য করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা থেকে আগত একজন পর্যটক বলেন, ‘শরীরের সতেজতা বৃদ্ধির জন্য আমি স্পা’তে গিয়েছিলাম। রিসিপশনে দায়িত্বরত মহিলার সাথে কথাবার্তা বলে যখন আমি রুমে প্রবেশ করি ১০-১৫ মিনিট মতো শরীর ম্যাসাজের পর আমাকে শারীরিক সম্পর্কের অফার করা হয়।’

এছাড়া একটি মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আবুল কাসেম নামের একজন পর্যটক গোল্ড থাই স্পা’র সেবা গ্রহণ করতে গেলে, সেখানে থাকা কর্মীরা তাকে ভিডিও ধারণ করে পুলিশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করেন। মোবাইল ফোনে ওই ভুক্তভোগী তার অভিযোগ জানান, যা স্পার অবৈধ কার্যক্রমের আরও এক ভয়ানক দিক তুলে ধরে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হোটেল-মোটেল জোনে অন্তত ২২টি স্পা চালু আছে যেগুলোর বেশিরভাগই নিবন্ধনহীন। অধিকাংশ পরিচালিত হয় তরুণী ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীদের দিয়ে। ব্যবস্থাপনায় নারী কর্মীদের সামনে রাখা হলেও আসল মালিকানা থাকে কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং ‘ক্রাইম প্রোটেকশন’ হিসেবে দায়িত্বরত অসাধু পুলিশ সদস্যদের হাতে।

এসব স্পা সেন্টারগুলোর মধ্যে সিলভিয়া রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় রিংকিসহ যৌথ মালিকানাধীন ‘গোল্ড থাই স্পা’ অন্যতম, যেখানে স্থানীয় মসজিদ কমিটির সদস্য ও সৈকত পাড়াবাসীরা এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এলাকা থেকে বন্ধ করার দাবি তুলেছেন। এছাড়াও সৈকত পাড়া কক্স অবকাশ হোটেলে ‘লাক্সারি থাই স্পা’, জিনিয়া রিসোর্টে ‘স্মার্ট থাই স্পা’, হোটেল হোয়াইট বীচে ‘এভ্যালা টাচ থাই স্পা’ এবং লেগুনা বীচ হোটেলে ‘নিউ সেভেন এসকে থাই স্পা’-এর মতো স্পা সেন্টারগুলো আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া, অন্যান্য স্পা সেন্টারগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রিলোক্স থাই স্পা’, ‘এ্যরোমা থাই স্পা’, ‘থাই মেলোডি স্পা’, ‘ব্ল্যাক রোজ খাই স্পা’, ‘এঞ্জেল টাচ’ ইত্যাদি।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, গোল্ড থাই স্পার মালিক রিংকি উখিয়ার হওয়ার সুবাদে রোহিঙ্গা নারী ও মাদকের বিস্তার করে বলে অনেকে ধারণা করছেন। তথ্য রয়েছে স্পা সেন্টার গুলোতে অপরাধের কেন্দ্রবৃন্ধু হিসেবে আরও স্পষ্ট করছে।

তদন্তসূত্রে জানা যায়, গোল্ড থাই স্পার ভেতরে গোপন কক্ষে নিয়মিত মাদক সেবন হয়। আগত গ্রাহকদের প্রথমে ‘সেবা’ দেখিয়ে পরে প্রলোভনে ফেলে ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিওকে ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রিংকি ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে তথ্য-উপাত্তে এসব অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে।

স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, “স্পার রুমের ভেতরে কী হচ্ছে তা মালিকপক্ষ জানেই, বরং তারাই পরিচালনা করে।”

মালিক রিংকি ও প্রেমিক আতা উল্লাহ রেজভির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্পার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ সহ মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশ্রয়, কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভবনমালিককে মোটা অংকের ভাড়া দিয়ে নীরবতা নিশ্চিত করার মত নানান অনিয়ম উঠে আসে অনুসন্ধানে। আগেও কাগজপত্র দেখানোর অনুরোধ করা হলে তারা তা দেখাতে পারেনি।

চিকিৎসকদের মতে, এভাবে অনুমোদনহীনভাবে স্পা পরিচালনা, থেরাপিস্টদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব এবং গোপন যৌন কার্যক্রম-সব মিলিয়ে যৌনবাহিত রোগ (STD) ছড়ানোর ঝুঁকি বাস্তব।

একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন- “স্পা সেন্টার চালাতে হলে প্রশিক্ষিত থেরাপিস্ট, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত মনিটরিং জরুরি। এগুলো না থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়া অনিবার্য।”

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এই স্পা সেন্টারগুলোর বেশিরভাগই প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ও পতিতা ব্যবসায়ীদের এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে। এসব স্পা সেন্টারগুলো গেস্ট হাউস ও অভিজাত হোটেলগুলোর মাসিক রুম ভাড়া নিয়ে যৌন উত্তেজক সেবা দিয়ে লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছে। মূলত, ধনাঢ্য পরিবারের সদস্য, কিছু পর্যটক এবং এনজিও কর্মীরা তাদের গ্রাহক। ফুল বডি ম্যাসেজের জন্য এখানে দাম ২০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়, যেখানে প্রতিটি স্পা সেন্টারে ১০-১৫ জন সুন্দরী নারী থাকে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ও রাখাইন নারী।

ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ম্যাসেজের নামে প্রথমে কোমল ব্যবহার, তারপর সরাসরি ‘স্পেশাল অফার’। প্রস্তাব পছন্দ হলে, রুমেই চালানো হয় পুরো সেবা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

অনৈতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা : কক্সবাজারে অনুমোদনবিহীন স্পা সেন্টারের বেপরোয়া বিস্তার:

০৯:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে গত কয়েক বছরে mushrooming হারে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন নামে ম্যাসেজ ও থেরাপি সেন্টার। স্থানীয়দের ভাষায়, “ব্যাঙের ছাতার মতো” অর্ধশতাধিক স্পা সেন্টার গড়ে উঠলেও-এর বেশিরভাগই নাকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। স্পা শিল্পের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা পেশাগত নীতিমালাও অনেক কেত্রেই মেনে চলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুমোনবিহীন স্পা সেন্টারগুলোর অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে সুগন্ধা পয়েন্টের গোল্ড থাই স্পা।

উখিয়া মরিচ্যা পালং এর মধ্যম হলদিয়া এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে রেহানা বেগম রিংকি এবং তার প্রেমিক বাহারছড়াস্থ আতা উল্লাহ রেজভীর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে, কক্সবাজার পর্যটন নগরীর সুগন্ধায় সিলভিয়া রিসোর্টে গোল্ড থাই স্পা। অভিযোগ রয়েছে কিছু স্বামী-পরিত্যক্তা বা আর্থিকভাবে দুর্বল নারীকে থেরাপিস্ট বানিয়ে এ ধরনের ‘বডি ম্যাসাজ’-এর নামে অবৈধ সম্পর্ক তৈরির সুযোগ তৈরি করা হয়। এতে যৌনবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যানার পেস্টুন টাঙিয়ে এসব স্পা সেন্টারের প্রচার-প্রচারণা চলছে প্রকাশ্যে। শরীরের রক্ত সঞ্চালন সক্রিয় ও পেশিশক্তি সচল রাখতে স্পা অত্যাবশ্যকীয়। এমনসব চমকপ্রদ উক্তির মাধ্যমে কক্সবাজারে আসা পর্যটক ও স্থানীয় ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে অবাধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যখন কোনো ব্যক্তি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে স্পা করার উদ্দেশ্যে সেন্টারে যায় তখন যৌন উত্তেজনামূলক নানান কথাবার্তা বলে শারীরিক সম্পর্কের জন্য বাধ্য করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা থেকে আগত একজন পর্যটক বলেন, ‘শরীরের সতেজতা বৃদ্ধির জন্য আমি স্পা’তে গিয়েছিলাম। রিসিপশনে দায়িত্বরত মহিলার সাথে কথাবার্তা বলে যখন আমি রুমে প্রবেশ করি ১০-১৫ মিনিট মতো শরীর ম্যাসাজের পর আমাকে শারীরিক সম্পর্কের অফার করা হয়।’

এছাড়া একটি মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আবুল কাসেম নামের একজন পর্যটক গোল্ড থাই স্পা’র সেবা গ্রহণ করতে গেলে, সেখানে থাকা কর্মীরা তাকে ভিডিও ধারণ করে পুলিশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করেন। মোবাইল ফোনে ওই ভুক্তভোগী তার অভিযোগ জানান, যা স্পার অবৈধ কার্যক্রমের আরও এক ভয়ানক দিক তুলে ধরে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হোটেল-মোটেল জোনে অন্তত ২২টি স্পা চালু আছে যেগুলোর বেশিরভাগই নিবন্ধনহীন। অধিকাংশ পরিচালিত হয় তরুণী ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীদের দিয়ে। ব্যবস্থাপনায় নারী কর্মীদের সামনে রাখা হলেও আসল মালিকানা থাকে কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং ‘ক্রাইম প্রোটেকশন’ হিসেবে দায়িত্বরত অসাধু পুলিশ সদস্যদের হাতে।

এসব স্পা সেন্টারগুলোর মধ্যে সিলভিয়া রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় রিংকিসহ যৌথ মালিকানাধীন ‘গোল্ড থাই স্পা’ অন্যতম, যেখানে স্থানীয় মসজিদ কমিটির সদস্য ও সৈকত পাড়াবাসীরা এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এলাকা থেকে বন্ধ করার দাবি তুলেছেন। এছাড়াও সৈকত পাড়া কক্স অবকাশ হোটেলে ‘লাক্সারি থাই স্পা’, জিনিয়া রিসোর্টে ‘স্মার্ট থাই স্পা’, হোটেল হোয়াইট বীচে ‘এভ্যালা টাচ থাই স্পা’ এবং লেগুনা বীচ হোটেলে ‘নিউ সেভেন এসকে থাই স্পা’-এর মতো স্পা সেন্টারগুলো আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া, অন্যান্য স্পা সেন্টারগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রিলোক্স থাই স্পা’, ‘এ্যরোমা থাই স্পা’, ‘থাই মেলোডি স্পা’, ‘ব্ল্যাক রোজ খাই স্পা’, ‘এঞ্জেল টাচ’ ইত্যাদি।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, গোল্ড থাই স্পার মালিক রিংকি উখিয়ার হওয়ার সুবাদে রোহিঙ্গা নারী ও মাদকের বিস্তার করে বলে অনেকে ধারণা করছেন। তথ্য রয়েছে স্পা সেন্টার গুলোতে অপরাধের কেন্দ্রবৃন্ধু হিসেবে আরও স্পষ্ট করছে।

তদন্তসূত্রে জানা যায়, গোল্ড থাই স্পার ভেতরে গোপন কক্ষে নিয়মিত মাদক সেবন হয়। আগত গ্রাহকদের প্রথমে ‘সেবা’ দেখিয়ে পরে প্রলোভনে ফেলে ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিওকে ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রিংকি ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে তথ্য-উপাত্তে এসব অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে।

স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, “স্পার রুমের ভেতরে কী হচ্ছে তা মালিকপক্ষ জানেই, বরং তারাই পরিচালনা করে।”

মালিক রিংকি ও প্রেমিক আতা উল্লাহ রেজভির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্পার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ সহ মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশ্রয়, কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভবনমালিককে মোটা অংকের ভাড়া দিয়ে নীরবতা নিশ্চিত করার মত নানান অনিয়ম উঠে আসে অনুসন্ধানে। আগেও কাগজপত্র দেখানোর অনুরোধ করা হলে তারা তা দেখাতে পারেনি।

চিকিৎসকদের মতে, এভাবে অনুমোদনহীনভাবে স্পা পরিচালনা, থেরাপিস্টদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব এবং গোপন যৌন কার্যক্রম-সব মিলিয়ে যৌনবাহিত রোগ (STD) ছড়ানোর ঝুঁকি বাস্তব।

একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন- “স্পা সেন্টার চালাতে হলে প্রশিক্ষিত থেরাপিস্ট, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত মনিটরিং জরুরি। এগুলো না থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়া অনিবার্য।”

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এই স্পা সেন্টারগুলোর বেশিরভাগই প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ও পতিতা ব্যবসায়ীদের এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে। এসব স্পা সেন্টারগুলো গেস্ট হাউস ও অভিজাত হোটেলগুলোর মাসিক রুম ভাড়া নিয়ে যৌন উত্তেজক সেবা দিয়ে লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছে। মূলত, ধনাঢ্য পরিবারের সদস্য, কিছু পর্যটক এবং এনজিও কর্মীরা তাদের গ্রাহক। ফুল বডি ম্যাসেজের জন্য এখানে দাম ২০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়, যেখানে প্রতিটি স্পা সেন্টারে ১০-১৫ জন সুন্দরী নারী থাকে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ও রাখাইন নারী।

ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ম্যাসেজের নামে প্রথমে কোমল ব্যবহার, তারপর সরাসরি ‘স্পেশাল অফার’। প্রস্তাব পছন্দ হলে, রুমেই চালানো হয় পুরো সেবা।