ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত

মোঃ আল আমিন মালদ্বীপ

আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল বাংলাদেশ-চীন। আঞ্চলিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও চীন তাদের অভিন্ন প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বৃহস্পতিবার ১৩ ই নভেম্বর বিকেলে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উভয়ই এই অঙ্গীকার দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলে মনে করেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে দুই কূটনীতিক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। তাঁরা বিশেষভাবে জোর দেন আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন জোরদারের ওপর। মালদ্বীপে বাংলাদেশ-চীন ও মালদ্বীপের মধ্যেকার ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার কাঠামো আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। যাতে তিনটি দেশই সম্মিলিতভাবে প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে অবদান রাখতে পারে।আলোচনায় মালদ্বীপে চলমান বিভিন্ন চীনা বিনিয়োগ প্রকল্পে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। চায়না-মালদ্বীপ ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ, ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন, আঞ্চলিক বিমানবন্দর নির্মাণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেট) সম্প্রসারণ প্রকল্পে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন উভয় কূটনীতিক। চীনের রাষ্ট্রদূত কং জিয়ানহুয়া বলেন, “মালদ্বীপে চীনের উন্নয়ন সহযোগিতা সবসময় ‘উইন-উইন পার্টনারশিপ’-এর নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে। যার লক্ষ্য সকলের অন্তর্ভুক্তমূলক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।” তিনি বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, চীনা দূতাবাস মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবসময় সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের উন্নয়ন সহযোগিতায় চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি ও সক্ষম দেশ হিসেবে আঞ্চলিক সহযোগিতায় একটি স্বাভাবিক অংশীদার। অবকাঠামো, শিক্ষা, নীল অর্থনীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে যৌথভাবে কাজের সুযোগ বিশাল।” উভয় রাষ্ট্রদূত মালদ্বীপের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন। তাঁরা একমত হন, তিন দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
চীনের রাষ্ট্রদূত কং জিয়ানহুয়া সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে বলেন, “মালদ্বীপে অবস্থিত চীনা দূতাবাস সবসময় বাংলাদেশের জন্য সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত রাখবে।” উত্তরে হাইকমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশও প্রস্তুত রয়েছে এমন যেকোনো সহযোগিতায় অংশ নিতে, যেখানে তিন দেশের জনগণ সম্মিলিতভাবে উপকৃত হতে পারে।”
বৈঠকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক বন্ধন পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দুই কূটনীতিকই বিশ্বাস প্রকাশ করেন, ঐতিহাসিক সংযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা বজায় থাকলে আঞ্চলিক শান্তি, সংলাপ ও টেকসই উন্নয়ন আরও শক্তিশালী হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত

০৯:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ আল আমিন মালদ্বীপ

আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল বাংলাদেশ-চীন। আঞ্চলিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও চীন তাদের অভিন্ন প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বৃহস্পতিবার ১৩ ই নভেম্বর বিকেলে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উভয়ই এই অঙ্গীকার দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলে মনে করেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে দুই কূটনীতিক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। তাঁরা বিশেষভাবে জোর দেন আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন জোরদারের ওপর। মালদ্বীপে বাংলাদেশ-চীন ও মালদ্বীপের মধ্যেকার ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার কাঠামো আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। যাতে তিনটি দেশই সম্মিলিতভাবে প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে অবদান রাখতে পারে।আলোচনায় মালদ্বীপে চলমান বিভিন্ন চীনা বিনিয়োগ প্রকল্পে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। চায়না-মালদ্বীপ ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ, ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন, আঞ্চলিক বিমানবন্দর নির্মাণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেট) সম্প্রসারণ প্রকল্পে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন উভয় কূটনীতিক। চীনের রাষ্ট্রদূত কং জিয়ানহুয়া বলেন, “মালদ্বীপে চীনের উন্নয়ন সহযোগিতা সবসময় ‘উইন-উইন পার্টনারশিপ’-এর নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে। যার লক্ষ্য সকলের অন্তর্ভুক্তমূলক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।” তিনি বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, চীনা দূতাবাস মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবসময় সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের উন্নয়ন সহযোগিতায় চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি ও সক্ষম দেশ হিসেবে আঞ্চলিক সহযোগিতায় একটি স্বাভাবিক অংশীদার। অবকাঠামো, শিক্ষা, নীল অর্থনীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে যৌথভাবে কাজের সুযোগ বিশাল।” উভয় রাষ্ট্রদূত মালদ্বীপের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন। তাঁরা একমত হন, তিন দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
চীনের রাষ্ট্রদূত কং জিয়ানহুয়া সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে বলেন, “মালদ্বীপে অবস্থিত চীনা দূতাবাস সবসময় বাংলাদেশের জন্য সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত রাখবে।” উত্তরে হাইকমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশও প্রস্তুত রয়েছে এমন যেকোনো সহযোগিতায় অংশ নিতে, যেখানে তিন দেশের জনগণ সম্মিলিতভাবে উপকৃত হতে পারে।”
বৈঠকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক বন্ধন পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দুই কূটনীতিকই বিশ্বাস প্রকাশ করেন, ঐতিহাসিক সংযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা বজায় থাকলে আঞ্চলিক শান্তি, সংলাপ ও টেকসই উন্নয়ন আরও শক্তিশালী হবে।