ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

ভোক্তা ঠকানোই নিয়ম, প্রতিবাদেই অপমান—সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকায় অবস্থিত একটি খাবার রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকি, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা এবং প্রতিবাদ করায় সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি সাংবাদিক মহলেও তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান জানান, সম্প্রতি তিনি উক্ত রেস্টুরেন্টে খাবার গ্রহণ করেন। এ সময় বিল অনুযায়ী পূর্ণ মূল্য আদায় করা হলেও খাবারের পরিমাণ ছিল অর্ধেকেরও কম। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো দুর্ব্যবহার করে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদ জানানোয় রেস্টুরেন্টের মালিক সাংবাদিক পেশাকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন, যা শুধু একজন সাংবাদিক নয়—সমগ্র সাংবাদিক সমাজের জন্য চরম অপমানজনক। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত সাধারণ ভোক্তারাও বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, উক্ত রেস্টুরেন্ট প্রতিদিন ভ্যাট উল্লেখ না করেই সাধারণ ভোক্তাদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, কাগজপত্র ও ভ্যাট সংক্রান্ত বৈধ নথি যাচাই করা হলে সেগুলোর অস্তিত্ব নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করছেন তিনি।

আরও বিস্ফোরক অভিযোগ হলো—ভ্যাট অফিসের সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার সাথে উক্ত ব্যবসায়ীর গোপন লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। যদিও ব্যবসায়ী সরাসরি কিছু না বললেও, রাগান্বিত অবস্থায় সাংবাদিককে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বুঝিয়ে দেন যে তিনি “কারো তোয়াক্কা করেন না”।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান মনে করেন, রেস্টুরেন্টটির দৈনিক বেচাকেনা ও প্রকৃত ভ্যাট হিসাব তদন্ত করা হলে জাতির সামনে সঠিক সত্য উদঘাটিত হবে। এ ধরনের আচরণে পুরো সাংবাদিক সমাজ আজ লজ্জিত ও বিব্রত।

জানা গেছে, এই ঘটনার পর খুব শিগগিরই মাহমুদুল হাসান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ভ্যাট অফিস বরাবর পৃথকভাবে আবেদন করে উক্ত রেস্টুরেন্টের সকল তথ্য ও হিসাবপত্র যাচাইয়ের দাবি জানাবেন।

এদিকে আরও তথ্য উঠে এসেছে—উক্ত ব্যবসায়ীর মালিকানায় বনানী কাঁচাবাজার এলাকায় আরও দুটি খাবার হোটেল রয়েছে। যেগুলোর নাম “হোটেল শাহজালাল” ও “বৈশাখী”। ব্যবসায়ী নিজেই সাংবাদিকের কাছে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানার কথা একাধিকবার উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী মাহমুদুল হাসান বলেন, “যদি এই তথ্যগুলো সত্য হয় এবং সব রেস্টুরেন্টের কার্যক্রম তদন্ত করা হয়, তাহলে আরও অনেক অজানা তথ্য ও অনিয়ম সামনে আসবে—যাকে সাধারণ ভাষায় বলা যায়, থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

ভোক্তা ঠকানোই নিয়ম, প্রতিবাদেই অপমান—সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ

০২:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকায় অবস্থিত একটি খাবার রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকি, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা এবং প্রতিবাদ করায় সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি সাংবাদিক মহলেও তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান জানান, সম্প্রতি তিনি উক্ত রেস্টুরেন্টে খাবার গ্রহণ করেন। এ সময় বিল অনুযায়ী পূর্ণ মূল্য আদায় করা হলেও খাবারের পরিমাণ ছিল অর্ধেকেরও কম। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো দুর্ব্যবহার করে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদ জানানোয় রেস্টুরেন্টের মালিক সাংবাদিক পেশাকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন, যা শুধু একজন সাংবাদিক নয়—সমগ্র সাংবাদিক সমাজের জন্য চরম অপমানজনক। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত সাধারণ ভোক্তারাও বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, উক্ত রেস্টুরেন্ট প্রতিদিন ভ্যাট উল্লেখ না করেই সাধারণ ভোক্তাদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, কাগজপত্র ও ভ্যাট সংক্রান্ত বৈধ নথি যাচাই করা হলে সেগুলোর অস্তিত্ব নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করছেন তিনি।

আরও বিস্ফোরক অভিযোগ হলো—ভ্যাট অফিসের সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার সাথে উক্ত ব্যবসায়ীর গোপন লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। যদিও ব্যবসায়ী সরাসরি কিছু না বললেও, রাগান্বিত অবস্থায় সাংবাদিককে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বুঝিয়ে দেন যে তিনি “কারো তোয়াক্কা করেন না”।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান মনে করেন, রেস্টুরেন্টটির দৈনিক বেচাকেনা ও প্রকৃত ভ্যাট হিসাব তদন্ত করা হলে জাতির সামনে সঠিক সত্য উদঘাটিত হবে। এ ধরনের আচরণে পুরো সাংবাদিক সমাজ আজ লজ্জিত ও বিব্রত।

জানা গেছে, এই ঘটনার পর খুব শিগগিরই মাহমুদুল হাসান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ভ্যাট অফিস বরাবর পৃথকভাবে আবেদন করে উক্ত রেস্টুরেন্টের সকল তথ্য ও হিসাবপত্র যাচাইয়ের দাবি জানাবেন।

এদিকে আরও তথ্য উঠে এসেছে—উক্ত ব্যবসায়ীর মালিকানায় বনানী কাঁচাবাজার এলাকায় আরও দুটি খাবার হোটেল রয়েছে। যেগুলোর নাম “হোটেল শাহজালাল” ও “বৈশাখী”। ব্যবসায়ী নিজেই সাংবাদিকের কাছে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানার কথা একাধিকবার উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী মাহমুদুল হাসান বলেন, “যদি এই তথ্যগুলো সত্য হয় এবং সব রেস্টুরেন্টের কার্যক্রম তদন্ত করা হয়, তাহলে আরও অনেক অজানা তথ্য ও অনিয়ম সামনে আসবে—যাকে সাধারণ ভাষায় বলা যায়, থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।