
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঠিকাদারের অবহেলায় রাস্তার কাজ ধীর গতিতে চলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় দশ গ্রামের মানুষ। কাজ সম্পন্ন করতে কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
উপজেলার নুরুল্লাহগঞ্জ ইউনিয়নে বাইশরশি সড়ক থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র (মানমন্দির) হয়ে ফুফুরহাটি পর্যন্ত ২৬০০ মিটার ডবল কাচাঁ রাস্তা পাকা করতে ঠিকাদারের অবহেলায় ধীর গতিতে চলায় ভোগান্তিতে পড়েছেন দশ গ্রামের মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলেই খানাখন্দ আর পানির জমা পড়ে চলাফেরায় অযোগ্য হয়ে পড়ে রাস্তাটি। এই এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, জনসাধারণ ও কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কৃষকরা তাদের কৃষিজাত পণ্য হাটবাজারে নেয়ার কোনরকম অবস্থা নাই। সবজি চাষ করে ক্ষতিতে পড়ছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ঐসমস্ত এলাকার জনসাধারণ।
“ভোগান্তিতে দশ গ্রামের মানুষ” এমন অভিযোগ করে বলেন সাংবাদিকদের কাছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ আকন বাড়িয়া গ্রামের গুলজার মোল্লা জানান, রোজার পর থেকে এই রাস্তা গর্ত করে চলে যায় ঠিকাদার। ৬ থেকে সাত ৭ হয়ে গেলেও রাস্তার কাজে কোন অগ্রগতি নাই। আমরা কৃষিজাত পন্য নিয়ে পাট, ধান নিয়ে কোন যান ব্যবহার করতে পারছিনা। আমাদের বাজারঘাট বন্ধ হয়ে গেছে এই রাস্তার কারণে। রাস্তার আশপাশে প্রায় দশ গ্রামের লোকজনের বিয়ে-শাদী পর্যন্ত হচ্ছে না রাস্তার কারণে। এই রাস্তা ছাড়া আমাদের যাতায়াতের আর কোন বিকল্প রাস্তা নাই। বিধায় দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।
অন্যদিকে বিলধোপাডাঙ্গা গ্রামের মোস্তফা মোল্লা জানান, আমি দুই মাস যাবত ঢাকা থেকে মালামাল নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছি না এ রাস্তার কারণে। রাস্তাটি ৬ মাস ধরে বক্স কেটে ওই অবস্থায় রেখে দিয়েছে ঠিকাদার। তারা কোন কাজ করে নাই ওই ভাবেই ফেলে রাখে। বালি ফেলে দিলেও মানুষ যাতায়াত করতে পারতো। আমাদের ৮-১০ গ্রামের জনসাধারণ ক্ষতির মধ্যে পড়ছে ঠিকাদারদের অবহেলার কারণে। এর পরিত্রাণ চাই আমরা।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা এলজিডি প্রকৌশলী আকতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, রাস্তা নির্মাণ করা হয় জনগণের সুবিধার্থে, সেখানে যদি ঠিকাদারের অবহেলায় ভোগান্তি হয় এটা দুঃখজনক।রাস্তার কাজ পেয়েছেন ইকবাল ব্রাদারস নামের এক ঠিকাদার। রাস্তাটি ২৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্ত ডবল রাস্তা যার ব্যয় হবে সাড়ে সাত কোটি টাকার। জনগণের ভোগান্তির শিকার যেন না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।
এদিকে স্থানীয় নুরুল্লাহগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাহাবুর জানান, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এই ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকাবাসী, আমি এবং এমপি মহোদয় মিলে কাজটি সম্পন্ন করতে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছি তারপরেও পারতেছিনা। দেখি এই বিষয়টি নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব কাজটা সম্পন্ন করার জন্য আরো চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
এদিকে ঠিকাদার মো. হিমেল সাংবাদিক দের জানান, কাজটি উদ্বোধন করেছেন ঈদের পরে তবে কাজ শুরু করেছি জুন মাস থেকে, তিন মাস হয় আমাদের কাজের বয়স। চুক্তি দুই বছর। আশা করি আগামী ৮ মাসের মধ্যে সম্পন্ন কাজ করতে পারব। তবে একটু ধীরগতি হওয়ার পিছনে একটু সমস্যা রয়েছে রাস্তার দুই পাশের কিছু লোকজন বাধাগ্রস্থ করায় আমরা কাজে পিছিয়েছি। তা না হলে হয়তো আরো কাজে গতি পাওয়া যেত। আমরা দ্রুতগতিতে কাজ করে যাচ্ছি।
প্রতিনিধির নাম 



















