সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

শরীয়তপুর জাজিরার বিলাসপুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন

শরীয়তপুরের জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নে এক মাস না যেতেই ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে দু’টি পক্ষ। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। বুধবার (১৫-ফেব্রুয়ারী) সকালে বিলাসপুরের বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় এই সংঘর্ষ হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম ধাপে বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মুলাই বেপারী কান্দি হয়ে বুধাইর হাট পর্যন্ত এরপর বুধাইর হাট বাজার থেকে সাবেক সাংসদ বি এম মোজাম্মেল ভুইয়ার বাড়ি পর্যন্ত এবং সবশেষে মহড় খার কান্দির পাশে নদীর পারে সংঘর্ষে অন্তত কয়েক হাজার হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান আ: কুদ্দুস বেপারী ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আ: জলিল মাদবর গ্রুপের লোকজনের মধ্যে উক্ত সংর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর থাকায় ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়েছে এবং বাকিরা জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। জানা যায়, চেয়ারম্যান আ: কুদ্দুস বেপারী জাজিরা উপজেলা আওয়ামিলীগের সাবেক সদস্য এবং আ: জলিল মাদবর জাজিরা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য। দীর্ঘদিন যাবত তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। যা গত বছরের (১৫-জুন) ইউপি নির্বাচনের পরে আরও বৃদ্ধি পায়। এদিকে বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জাজিরা থানা পুলিশ গুলি করে এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। তবে বিভিন্ন জায়গায় আলাদা আলাদা ফোর্স গুলি এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করায় এখনও সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি। কয়েক ঘন্টা সংঘর্ষ চলার পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় সজিব(২২) নামে একজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে জাজিরা থানা পুলিশ। সাবেক যুবলীগ নেতা এবং পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আ: জলিল মাদবর জানান, নির্বাচনের পর থেকেই আমার সমর্থকদের বাড়িতে থাকতে দেয়া হচ্ছেনা। প্রশাসনের সহযোগিতায় বাড়িতে থাকলেও বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয়াসহ প্রতিনিয়ত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার একইভাবে হামলা চালালে আমার লোকজনও জবাব দিতে বাধ্য হয়। চেয়ারম্যান আ: কুদ্দুস বেপারী জানান, সকালে হঠাৎ আ: জলিল মাদবরের সমর্থকরা আমার বাড়ি ঘেরাও করে হামলা চালালে আমার লোকজন তাদেরকে প্রতিহত করে এবং আমি তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করি। এছাড়া এই ধরনের অপ্রীতিকর পরিবেশ তিনি চাননা দাবী করে বলেন, মারামারি হলে আমার নূন্যতম কোন লাভ থাকলে আমি করতাম। কিন্তু আমার এতে কোন লাভই নেই, সুতরাং কেনোইবা আমি সংঘর্ষে জড়াবো। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকাল বেলা আমরা সংঘর্ষের খবর পেয়ে সাথে সাথে বিলাসপুরে যাই এবং গুলি ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উল্লেখ্য: গত (২৩-জানুয়ারী) বিলাসপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫ শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাজিরা থানা পুলিশ ১৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে কোন মামলা না করে এই ঘটনায় প্রথমে আটককৃতদের থানায় হাজির করা ও গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার বিষয়ে ৯৯৯/২৩ নম্বরের একটি এবং আটককৃতদের ছেড়ে দেয়া প্রসঙ্গে ১০০৮/২৩ নম্বরের একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

থেকে আরও পড়ুন