
মোঃ হিমেল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ধসে পড়ার পাশাপাশি ভবনের একাংশ ধীরে ধীরে পাশের পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকটা সময় কাটছে খোলা আকাশের নিচে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষটি বাঁশ দিয়ে ঠেস দিয়ে কোনোভাবে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ভবনের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, যেকোনো সময় এর কোনো অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, জরাজীর্ণ কক্ষে ক্লাস করতে তাদের মধ্যে সবসময় আতঙ্ক কাজ করে। এ কারণে অনেক সময় বাইরে ক্লাস নিতে হচ্ছে। কিন্তু খোলা মাঠে পাঠদান করায় রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষ সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।
বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক গৌর চন্দ্র বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি অনুদানে কোনো ভবন পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের উদ্যোগে টিনশিটের আধাপাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে পাশের পুকুরের কারণে ভবনের কয়েকটি কক্ষ ভেঙে যাওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টি বালিকা বিদ্যালয় হলেও এর চারপাশে কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই। ফলে যেকোনো সময় অপরিচিত ব্যক্তিরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারেন। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে নির্মিত পুরোনো শ্রেণিকক্ষগুলো বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষও নেই। এ কারণে বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষগুলো ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, দ্রুত পুরোনো কক্ষগুলো সংস্কারের পাশাপাশি পাঠদান উপযোগী একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা আছে। এর আগে সংস্কারের কাজ করা হয়েছিল। তবে বৃষ্টির কারণে মাটি দিয়ে ভরাটের কাজ করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করার বিষয়ে কথা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ছুটিতে রয়েছেন। তিনি ফিরে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।
প্রতিনিধির নাম 



















