
নেজাম উদ্দীন-রাঙ্গুনিয়া
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে সভাপতি এবং সাইফুল ইসলাম তালুকদারকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়াও মোজাফর হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মোহাম্মদ ওমর ফারুককে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে এই নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এই কমিটি গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও রূপকল্প তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং সংগঠনকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো। কমিটির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আগামী দিনে উপজেলা থেকে শুরু করে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিটি ঘোষণার পরপরই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে, বিশেষ করে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে এই নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে প্রত্যাশার পারদ উঁচুতে। সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার এই নতুন দায়িত্বকে দলের প্রতি ভালোবাসা ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ভুক্তভোগী বা অতীতে অবহেলিত কর্মীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেতারা আশ্বস্ত করেছেন যে, নতুন এই কমিটিতে কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রতিহিংসা বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক আধিপত্যের কোনো স্থান থাকবে না। তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের মূল্যায়ন এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করেছে। তবে, এই ৮১ সদস্যের বিশাল কমিটির কার্যকারিতা কতটুকু সফলভাবে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে এবং তারা কতটা ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতুহল রয়ে গেছে। কর্মীদের দাবি, কেবল কমিটি ঘোষণা নয়, বরং রাজপথের আন্দোলনে এবং দলের দুর্দিনে এই নবগঠিত কমিটির প্রতিটি সদস্যের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন রনি ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহারের উপস্থিতিতে নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অনৈতিক বা অন্যায় কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা ও আমানতদারি বজায় রাখার জন্য নবগঠিত কমিটির সদস্যদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি ও দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনার আলোকে সংগঠনকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নেতারা। তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়েও পর্যায়ক্রমে কমিটি গঠন করা হবে, যাতে কোনো কর্মীই মূলধারার রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকে। নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই উদ্যোগ কেবল একটি নতুন কমিটি গঠন নয়, বরং রাঙ্গুনিয়ার মাটিতে তারেক জিয়ার আদর্শিক রাজনীতির একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার প্রক্রিয়া।
রাঙ্গুনিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এই নতুন কমিটির প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা। দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রেখে আগামী দিনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই কমিটি কতটা সফল হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে রাঙ্গুনিয়ায় তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের ভবিষ্যৎ অবস্থান। ৮১ সদস্যের এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি যদি কেবল পদমর্যাদার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তৃণমূলের মানুষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে এবং দলের আদর্শিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যায়, তবেই তা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে। পরিশেষে, এই কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে গণ্য হবে।
প্রতিনিধির নাম 



















