
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়কে ঘিরে দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত একটি সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পেশাদারত্বহীন দাবি করে এর সত্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
একটি বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল প্রতিবেদনের প্রধান শর্ত হলো তথ্যের সঠিক উৎস এবং অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় স্পষ্ট করা। কিন্তু ইনকিলাবের প্রতিবেদনে তথাকথিত ‘কর্মকর্তা-কর্মচারী’ বা অভিযোগকারীদের কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কোনো অনুসন্ধানের জন্য যেসব সুনির্দিষ্ট তথ্যের প্রয়োজন, তা পুরো প্রতিবেদনে অনুপস্থিত। যদি বিআরটিএ-র কোনো কর্মকর্তা সত্যি কোনো বক্তব্য বা তথ্য দিয়ে থাকেন, তবে কেন তাদের পরিচয় গোপন রাখা হলো—এ নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নাম-পরিচয়হীন এমন প্রতিবেদনের পেছনে কোনো সঠিক প্রমাণ আদৌ আছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও সচেতন মহলের মনে বড় ধরনের সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
সাধারণ নাগরিকদের একাংশের মতে, প্রকাশিত সংবাদের কথাগুলো শতভাগ মিথ্যা না হলেও প্রতিবেদকের উপস্থাপিত তথ্য ও তার পূর্বাপর রিপোর্টগুলো কতটুকু সত্য বা বস্তুনিষ্ঠ, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইনকিলাবের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক সংবাদমাধ্যমের আড়ালে নিজের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা তোলা, অনিবন্ধিত ভুঁইফোড় সংগঠনের পরিচয় দিয়ে বিআরটিএ-র কক্ষে কক্ষে গিয়ে প্রভাব বিস্তার করা এবং অনৈতিক সুবিধা আদায়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ ও ভাঙনের সুর বাজছে।
রহিম নামে এক স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, “সুনির্দিষ্ট নাম ও তথ্যপ্রমাণ ছাড়া অস্পষ্ট তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। বাস্তবে বিআরটিএ-তে নিজের পছন্দমতো কাজ না হওয়া এবং দালালি কর্মকাণ্ডের পথ সুগম করতেই প্রতিবেদক এমন বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট তৈরি করেছেন। সত্যি যদি প্রতিবেদকের হাতে কোনো দুর্নীতির বা চাঁদাবাজির সুস্পষ্ট প্রমাণ থেকে থাকে, তবে বেনামী বা ঢালাও অভিযোগ না তুলে তাদের নাম-পরিচয়সহ তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত ছিল।”
বিআরটিএ কার্যালয়ের বর্তমান চিত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, সেখানে আগের মতো সুসংগঠিত কোনো দালাল চক্রের বড় ধরনের তৎপরতা নেই। সাধারণ মানুষ কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি সরকারি নিয়মে সেবা নিতে পারছেন।
বিআরটিএ-তে সেবা নিতে আসা আকাশ নামে এক গ্রাহক প্রকাশিত নিউজের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যদি সত্যি বিআরটিএ কর্মকর্তারা কোনো বহিরাগত বা দালালের মাধ্যমে কাজ করতেন, তবে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের কাজ সহজেই আটকে যেত। কিন্তু বর্তমানে দালালি চক্র বন্ধ থাকায় আমরা সরাসরি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সেবা পাচ্ছি। বাস্তবে যারা ভেতরে নিজেদের সুবিধা করতে পারছে না, তারাই এখন কাল্পনিক নিউজ বানিয়ে পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।”
এছাড়া বিআরটিএ-র বর্তমান প্রজ্ঞাপন ও সেবা প্রদান সম্পর্কিত হালনাগাদ তথ্য সম্পর্কে কোনো ধারণা না রেখেই কেবল অনুমানের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূল সত্য আড়াল করে এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যমের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই বিভ্রান্তিকর সংবাদের সুষ্ঠু জবাব ও সত্যতা প্রমাণের দাবি জানিয়েছেন বিআরটিএ-র সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
প্রতিনিধির নাম 



















