ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

পাইকগাছা হাসপাতালে সপ্তাহের ৬ দিনই বন্ধ ওটি : জিম্মি উপকূলের প্রসূতিরা

শাহাজামান বাদশা, ​পাইকগাছা প্রতিনিধি:

​পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র প্রসূতি বা লেবার ওয়ার্ড বর্তমানে চরম নাজুক ও সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার এই একমাত্র ভরসাস্থলে সপ্তাহের ৬ দিনই অস্ত্রোপচার কক্ষ বা ওটি (OT) বন্ধ থাকে। এর ফলে উপকূলীয় এই জনপদের শত শত গর্ভবতী মায়ের জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের জুনিয়র কনসাল্টেন্ট (অ্যানেস্থিশিয়া) চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ডা. জহিরুল ইসলাম । তবে তিনি পাইকগাছায় পোস্টিং নিলেও বাস্তবে তিনি এখানে অত্যন্ত অনিয়মিত। পাইকগাছায় পোস্টিং হওয়ার পর থেকেই তিনি নিজ বাড়ি খুলনা থেকে সুবিধামতো যাতায়াত করে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া, সম্প্রতি খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের অ্যাটাচমেন্ট আদেশের সুযোগ নিয়ে তিনি সপ্তাহের ৪ দিন নিজের বাড়ির পাশে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,১দিন কয়রা হাসপাতাল এবং ১দিন শনিবার পাইকগাছা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন, ডিজিটাল ফিঙ্গার অ্যাটেনডেন্সে চোখ রাখলেই তার এই অনিয়মের সত্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

​পূর্বে এই হাসপাতালে প্রতিমাসে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও বর্তমানে তা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সপ্তাহে নামমাত্র এক দিন নির্দিষ্ট অফিস টাইমে ওই চিকিৎসক উপস্থিত থাকায় বাকি ৬ দিনই অস্ত্রোপচার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকছে। যার ফলে বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগী গর্ভবতী মা বোনেরা।

তথ্য সূত্রে  ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ থেকে ৪ জন বিশেষজ্ঞ সার্জন থাকা সত্ত্বেও সেখানে আসলে নিয়মিত কোনো অপারেশন বা সার্জারি কার্যক্রম পরিচালিত হয় কি না,তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি পাইকগাছা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান অসুস্থ। এ কারণে খুলনা শহরের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি পরিচালকের কাছে আবেদন করেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁর আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।

​নিয়মিত অ্যানেস্থিশিয়া চিকিৎসক না থাকায় জরুরি মুহূর্তে চরম বিপাকে পড়ছেন উপকূলের সাধারণ ও দরিদ্র গর্ভবতী মায়েরা। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা ও ঝুঁকি নিয়ে তাদের অনেক দূরে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে জেলা শহরে ছুটতে হচ্ছে,কিংবা এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক অপারেশন করাতে হচ্ছে,যা নিম্নবিত্ত অসহায় মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম এই হাসপাতালে পদায়িত থাকলেও সংযুক্তিতে ফুলতলা হাসপাতালে চার দিন কাজ করছেন। তিনি পাইকগাছায় এক দিন ও কয়রায় এক দিন দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালে সার্বক্ষণিক একজন অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু এ উপজেলার মানুষের চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল নয়। আশপাশের কয়রা, দাকোপ, আশাশুনি ও তালা উপজেলার অনেক মানুষও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই দ্রুত একজন নিয়মিত অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক পদায়ন করে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

পাইকগাছা হাসপাতালে সপ্তাহের ৬ দিনই বন্ধ ওটি : জিম্মি উপকূলের প্রসূতিরা

১২:২০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

শাহাজামান বাদশা, ​পাইকগাছা প্রতিনিধি:

​পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র প্রসূতি বা লেবার ওয়ার্ড বর্তমানে চরম নাজুক ও সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার এই একমাত্র ভরসাস্থলে সপ্তাহের ৬ দিনই অস্ত্রোপচার কক্ষ বা ওটি (OT) বন্ধ থাকে। এর ফলে উপকূলীয় এই জনপদের শত শত গর্ভবতী মায়ের জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের জুনিয়র কনসাল্টেন্ট (অ্যানেস্থিশিয়া) চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ডা. জহিরুল ইসলাম । তবে তিনি পাইকগাছায় পোস্টিং নিলেও বাস্তবে তিনি এখানে অত্যন্ত অনিয়মিত। পাইকগাছায় পোস্টিং হওয়ার পর থেকেই তিনি নিজ বাড়ি খুলনা থেকে সুবিধামতো যাতায়াত করে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া, সম্প্রতি খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের অ্যাটাচমেন্ট আদেশের সুযোগ নিয়ে তিনি সপ্তাহের ৪ দিন নিজের বাড়ির পাশে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,১দিন কয়রা হাসপাতাল এবং ১দিন শনিবার পাইকগাছা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন, ডিজিটাল ফিঙ্গার অ্যাটেনডেন্সে চোখ রাখলেই তার এই অনিয়মের সত্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

​পূর্বে এই হাসপাতালে প্রতিমাসে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও বর্তমানে তা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সপ্তাহে নামমাত্র এক দিন নির্দিষ্ট অফিস টাইমে ওই চিকিৎসক উপস্থিত থাকায় বাকি ৬ দিনই অস্ত্রোপচার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকছে। যার ফলে বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগী গর্ভবতী মা বোনেরা।

তথ্য সূত্রে  ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ থেকে ৪ জন বিশেষজ্ঞ সার্জন থাকা সত্ত্বেও সেখানে আসলে নিয়মিত কোনো অপারেশন বা সার্জারি কার্যক্রম পরিচালিত হয় কি না,তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি পাইকগাছা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান অসুস্থ। এ কারণে খুলনা শহরের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি পরিচালকের কাছে আবেদন করেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁর আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।

​নিয়মিত অ্যানেস্থিশিয়া চিকিৎসক না থাকায় জরুরি মুহূর্তে চরম বিপাকে পড়ছেন উপকূলের সাধারণ ও দরিদ্র গর্ভবতী মায়েরা। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা ও ঝুঁকি নিয়ে তাদের অনেক দূরে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে জেলা শহরে ছুটতে হচ্ছে,কিংবা এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক অপারেশন করাতে হচ্ছে,যা নিম্নবিত্ত অসহায় মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম এই হাসপাতালে পদায়িত থাকলেও সংযুক্তিতে ফুলতলা হাসপাতালে চার দিন কাজ করছেন। তিনি পাইকগাছায় এক দিন ও কয়রায় এক দিন দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালে সার্বক্ষণিক একজন অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু এ উপজেলার মানুষের চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল নয়। আশপাশের কয়রা, দাকোপ, আশাশুনি ও তালা উপজেলার অনেক মানুষও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই দ্রুত একজন নিয়মিত অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক পদায়ন করে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।