ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

সম্মিলিত উদ্যোগে দাসখালী খালের পানি সরবরাহ, সুফল পাচ্ছেন কৃষক

কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:

বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দাসখালী খালে চলতি বছর সম্মিলিত উদ্যোগে পানি সরবরাহ করায় অন্যান্য বছরের তুলনায় ধান, সবজি ও মাছ চাষে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও জমির মালিকরা। স্থানীয় জমির মালিক, বর্গা চাষি ও মৎস্য চাষীদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে খালের পানি সুষ্ঠুভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
কৃষকরা জানান, বিগত বছরগুলোতে পানি ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার কারণে ধান ও সবজি চাষে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে চলতি বছর সম্মিলিত ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় ধানের চারা ও সবজির অবস্থা ভালো হয়েছে। বর্ষা মৌসুমেও পানি সরবরাহে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দাসখালী খালের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা যদি হঠাৎ বন্ধ বা অব্যবস্থাপনার মধ্যে পড়ে, তাহলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চাষিদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই কৃষকদের স্বার্থে বর্তমান সম্মিলিত পানি ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কেবি ফতেপুর বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক সুফল কান্তি পাল বলেন, আগে দাসখালী খালের পানি সরবরাহে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। ফলে কৃষকরা ধান ও সবজি চাষে আশানুরূপ সফলতা পেতেন না। এবার জমির মালিক ও বর্গা চাষিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিত ব্যবস্থাপনায় পানি সরবরাহ করছেন। এতে ধান, মাছ ও সবজি চাষে ইতোমধ্যে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার স্বার্থে এই ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখা জরুরি।
আসাদুজ্জামান জেমিস বলেন, দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবার সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিটির মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর ধানের চারা ভালো হয়েছে এবং সবজি চাষিরাও লাভবান হচ্ছেন। এই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ বা ব্যাহত হলে কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হবে।
স্থানীয় জমির মালিক ও বর্গা চাষীদের মধ্যে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার তুষার কান্তি পাল, আলী আকবর নয়ন, অনিল চন্দ্র পাল, সুফল কান্তি পাল, দুলাল কৃষ্ণ পাল, বিষ্ণুপদ পাল, উত্তম কুমার পাল ও বরকত শেখসহ অনেকে বলেন, সম্মিলিতভাবে পানি সরবরাহ করায় এবার কৃষিকাজে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। আগের তুলনায় ধানের চারা ও সবজির ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
তাদের একটাই দাবি, সম্মিলিত ব্যবস্থাপনায় যেভাবে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। কোনোভাবে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত বা অব্যবস্থাপনার মধ্যে পড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়ে চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

সম্মিলিত উদ্যোগে দাসখালী খালের পানি সরবরাহ, সুফল পাচ্ছেন কৃষক

০৯:৫৯:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:

বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দাসখালী খালে চলতি বছর সম্মিলিত উদ্যোগে পানি সরবরাহ করায় অন্যান্য বছরের তুলনায় ধান, সবজি ও মাছ চাষে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও জমির মালিকরা। স্থানীয় জমির মালিক, বর্গা চাষি ও মৎস্য চাষীদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে খালের পানি সুষ্ঠুভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
কৃষকরা জানান, বিগত বছরগুলোতে পানি ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার কারণে ধান ও সবজি চাষে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে চলতি বছর সম্মিলিত ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় ধানের চারা ও সবজির অবস্থা ভালো হয়েছে। বর্ষা মৌসুমেও পানি সরবরাহে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দাসখালী খালের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা যদি হঠাৎ বন্ধ বা অব্যবস্থাপনার মধ্যে পড়ে, তাহলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চাষিদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই কৃষকদের স্বার্থে বর্তমান সম্মিলিত পানি ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কেবি ফতেপুর বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক সুফল কান্তি পাল বলেন, আগে দাসখালী খালের পানি সরবরাহে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। ফলে কৃষকরা ধান ও সবজি চাষে আশানুরূপ সফলতা পেতেন না। এবার জমির মালিক ও বর্গা চাষিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিত ব্যবস্থাপনায় পানি সরবরাহ করছেন। এতে ধান, মাছ ও সবজি চাষে ইতোমধ্যে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার স্বার্থে এই ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখা জরুরি।
আসাদুজ্জামান জেমিস বলেন, দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবার সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিটির মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর ধানের চারা ভালো হয়েছে এবং সবজি চাষিরাও লাভবান হচ্ছেন। এই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ বা ব্যাহত হলে কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হবে।
স্থানীয় জমির মালিক ও বর্গা চাষীদের মধ্যে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার তুষার কান্তি পাল, আলী আকবর নয়ন, অনিল চন্দ্র পাল, সুফল কান্তি পাল, দুলাল কৃষ্ণ পাল, বিষ্ণুপদ পাল, উত্তম কুমার পাল ও বরকত শেখসহ অনেকে বলেন, সম্মিলিতভাবে পানি সরবরাহ করায় এবার কৃষিকাজে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। আগের তুলনায় ধানের চারা ও সবজির ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
তাদের একটাই দাবি, সম্মিলিত ব্যবস্থাপনায় যেভাবে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। কোনোভাবে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত বা অব্যবস্থাপনার মধ্যে পড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়ে চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।