ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

গ্যারেজ থেকে পুলিশ লাইনে মিশুক, হাতে ১ হাজারের রশিদ!

মো. ওসমান গনি (ইলি), কক্সবাজার:

গ্যারেজের সামনে থেকে মিশুক গাড়ি আটক করে নেওয়া হচ্ছে পুলিশ লাইনে। পরে সংশ্লিষ্ট চালকদের ডেকে তাঁদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে জরিমানার রশিদ এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী মিশুকচালক।

চালকদের অভিযোগ, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মিশুকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে চালকদের দিনের আয় বন্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে মামলা ও জরিমানার চাপে আর্থিক সংকটে পড়ছেন স্বল্প আয়ের চালকরা।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট ফাইসাল, ভুক্তভোগীদের দাবি, গ্যারেজের সামনে থেকে মিশুক আটক করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। পরে চালকদের সেখানে ডেকে এনে ১ হাজার টাকা করে রশিদ দেওয়া হয়।

চালকদের অভিযোগ, বাস স্টেশন, ডলফিন মোড়, গুনগাছ তলা,থানার রাস্তার মাথা,ভুলাবৌ প্যাটুল পাম্প, পুলিশ লাইনে এর সামনে দৈনিক মিশুক গাড়ী আটক করে মামলা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে প্রতিটি গাড়িই কি একই ধরনের আইন লঙ্ঘন করেছিল? নাকি প্রতিটি গাড়ির বিরুদ্ধে পৃথক কোনো অপরাধের অভিযোগ ছিল?

যদি প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়ে থাকে, তাহলে প্রতিটি মামলার কারণ, সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা, অপরাধের ধরন, জরিমানার পরিমাণ এবং গাড়ি আটকের কারণ সরকারি নথিতে থাকার কথা। এসব নথি পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

চালকদের দাবি, তাঁরা আইনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেন না। গাড়ি গুলো শহরের মধ্যে চলে হায়ওয়ে রোডে চলেনা। সুজা চলিলেও মামলায় লেখা হয় উল্টো পথে চলার কারণে মামলা দেওয়া হয়। তবে অভিযোগের ভিত্তি ও আইনি ধারা স্পষ্ট না করে বারবার গাড়ি আটক ও মামলা দেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিশুকচালক মো. হোসাইন। তিনি বলেন, আমরা গাড়ি চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাই। গাড়ি আটক করে নিয়ে গেলে সেদিন আর আয় থাকে না। এরপর মামলা ও জরিমানার টাকা দিতে হয়। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এভাবে চলা খুব কঠিন
গাড়ি আটক করার পর তাঁরা অনেক সময় বুঝতে পারেন না, ঠিক কোন অপরাধে তাঁদের গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁর দাবি, অপরাধ থাকলে মামলা হোক কিন্তু মামলার কারণ ও আইনি ধারা চালককে স্পষ্টভাবে জানানো হোক।

প্রতি বন্ধী নুরুল আলম বলেন, তিনদিন আগেই গাড়ি আটক করেছে এবং ১ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে আনছি। ৪ দিনের মধ্যে আবারো গাড়ি আটক করেছেন ফাইসাল স্যার নামে একজন সুন্দর পুলিশ। আল্লাহ কে বিচার দেওয়াতে তিনি রাগ করে ১ মাসের জন্য গাড়ির আটকে দিয়েছেন। ১০ হাজার টাকা দাবী করেন। পরে দেবদূত স্যারের সহযোগিতায় গাড়িটি ছাড়িয়ে আনা হয়।

জাহেদ নামে একজন চালক বলেন ১ হাজার টাকা দিলে বৈধতা পাই না দিলে অবৈধ। ৫শত টাকা দিলে মামলা দেওয়া হয়না না দিলে মামলা হয়। আমরা গরীব আসহায় মানুষের পাশে কেউ নেই।

নবী হোসেন নামে একজন মিশুক চালক বলেন আমি গাড়িটি নিয়ে নিউ টাটা সামনে নামিয়ে গ্যারেজে যাচ্ছে এমন সময় গাড়ি উঠে বলেন পুলিশ লাইনে পৌঁছে দাও। পরে দেখি আমার হাতে ১ হাজার টাকা করে রশিদ দেওয়া হয় । কিন্তু ওই রশিদ কোন ধরনের জরিমানার, কোন আইনের কোন ধারায় জরিমানা করা হয়েছে, আদায়কৃত অর্থ কোথায় জমা হচ্ছে এবং রশিদটি সরকারি বিধি অনুযায়ী ইস্যু করা হয়েছে কি না এসব প্রশ্নেরও নিরপেক্ষভাবে উত্তর পাওয়া প্রয়োজন।

একটি মিশুক গাড়ি আটক হওয়ার সঙ্গে শুধু চালক নন, গাড়ির মালিকও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অধিকাংশ চালক দৈনিক আয় করে সংসার চালান। একটি গাড়ি একদিন চলাচল করতে না পারলে চালকের আয় বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি মালিকেরও আর্থিক ক্ষতি হয়।

চালকদের ভাষ্য, তাঁরা ট্রাফিক পুলিশের আইনগত অভিযান চান। কিন্তু তাঁদের দাবি অপরাধ থাকলে মামলা হোক, তবে প্রতিটি মামলার সুনির্দিষ্ট কারণ, আইনি ধারা ও প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকতে হবে।

একই সঙ্গে ১ হাজার টাকার রশিদগুলো কোন ধরনের জরিমানার, আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, আটক গাড়িগুলো কতক্ষণ পুলিশ লাইনে রাখা হচ্ছে এবং প্রতিটি মামলার কপি সংশ্লিষ্ট চালকদের দেওয়া হচ্ছে কি না—তাও দেখা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একই এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মিশুকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কারণ কী এবং চালকদের করা অভিযোগের বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত বা পর্যালোচনা করেছে কি না।

এসব তথ্য-নথি যাচাই করা গেলে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, নাকি চালকদের অভিযোগের পেছনে অন্য কোনো বাস্তবতা রয়েছে—তা স্পষ্ট হতে পারে।

ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

চালকদের অভিযোগ, আইন প্রয়োগের নামে তাঁদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বারবার মামলা-জরিমানার কারণে তাঁরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ এটিকে হয়রানিমূলক অভিযান বলেও দাবি করেছেন।

ট্যাফিক পুলিশের সার্জেন ফাইসালের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন গাড়িটি উল্টো পথে আসায় আটক করা হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

গ্যারেজ থেকে পুলিশ লাইনে মিশুক, হাতে ১ হাজারের রশিদ!

০৮:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

মো. ওসমান গনি (ইলি), কক্সবাজার:

গ্যারেজের সামনে থেকে মিশুক গাড়ি আটক করে নেওয়া হচ্ছে পুলিশ লাইনে। পরে সংশ্লিষ্ট চালকদের ডেকে তাঁদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে জরিমানার রশিদ এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী মিশুকচালক।

চালকদের অভিযোগ, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মিশুকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে চালকদের দিনের আয় বন্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে মামলা ও জরিমানার চাপে আর্থিক সংকটে পড়ছেন স্বল্প আয়ের চালকরা।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট ফাইসাল, ভুক্তভোগীদের দাবি, গ্যারেজের সামনে থেকে মিশুক আটক করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। পরে চালকদের সেখানে ডেকে এনে ১ হাজার টাকা করে রশিদ দেওয়া হয়।

চালকদের অভিযোগ, বাস স্টেশন, ডলফিন মোড়, গুনগাছ তলা,থানার রাস্তার মাথা,ভুলাবৌ প্যাটুল পাম্প, পুলিশ লাইনে এর সামনে দৈনিক মিশুক গাড়ী আটক করে মামলা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে প্রতিটি গাড়িই কি একই ধরনের আইন লঙ্ঘন করেছিল? নাকি প্রতিটি গাড়ির বিরুদ্ধে পৃথক কোনো অপরাধের অভিযোগ ছিল?

যদি প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়ে থাকে, তাহলে প্রতিটি মামলার কারণ, সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা, অপরাধের ধরন, জরিমানার পরিমাণ এবং গাড়ি আটকের কারণ সরকারি নথিতে থাকার কথা। এসব নথি পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

চালকদের দাবি, তাঁরা আইনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেন না। গাড়ি গুলো শহরের মধ্যে চলে হায়ওয়ে রোডে চলেনা। সুজা চলিলেও মামলায় লেখা হয় উল্টো পথে চলার কারণে মামলা দেওয়া হয়। তবে অভিযোগের ভিত্তি ও আইনি ধারা স্পষ্ট না করে বারবার গাড়ি আটক ও মামলা দেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিশুকচালক মো. হোসাইন। তিনি বলেন, আমরা গাড়ি চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাই। গাড়ি আটক করে নিয়ে গেলে সেদিন আর আয় থাকে না। এরপর মামলা ও জরিমানার টাকা দিতে হয়। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এভাবে চলা খুব কঠিন
গাড়ি আটক করার পর তাঁরা অনেক সময় বুঝতে পারেন না, ঠিক কোন অপরাধে তাঁদের গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁর দাবি, অপরাধ থাকলে মামলা হোক কিন্তু মামলার কারণ ও আইনি ধারা চালককে স্পষ্টভাবে জানানো হোক।

প্রতি বন্ধী নুরুল আলম বলেন, তিনদিন আগেই গাড়ি আটক করেছে এবং ১ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে আনছি। ৪ দিনের মধ্যে আবারো গাড়ি আটক করেছেন ফাইসাল স্যার নামে একজন সুন্দর পুলিশ। আল্লাহ কে বিচার দেওয়াতে তিনি রাগ করে ১ মাসের জন্য গাড়ির আটকে দিয়েছেন। ১০ হাজার টাকা দাবী করেন। পরে দেবদূত স্যারের সহযোগিতায় গাড়িটি ছাড়িয়ে আনা হয়।

জাহেদ নামে একজন চালক বলেন ১ হাজার টাকা দিলে বৈধতা পাই না দিলে অবৈধ। ৫শত টাকা দিলে মামলা দেওয়া হয়না না দিলে মামলা হয়। আমরা গরীব আসহায় মানুষের পাশে কেউ নেই।

নবী হোসেন নামে একজন মিশুক চালক বলেন আমি গাড়িটি নিয়ে নিউ টাটা সামনে নামিয়ে গ্যারেজে যাচ্ছে এমন সময় গাড়ি উঠে বলেন পুলিশ লাইনে পৌঁছে দাও। পরে দেখি আমার হাতে ১ হাজার টাকা করে রশিদ দেওয়া হয় । কিন্তু ওই রশিদ কোন ধরনের জরিমানার, কোন আইনের কোন ধারায় জরিমানা করা হয়েছে, আদায়কৃত অর্থ কোথায় জমা হচ্ছে এবং রশিদটি সরকারি বিধি অনুযায়ী ইস্যু করা হয়েছে কি না এসব প্রশ্নেরও নিরপেক্ষভাবে উত্তর পাওয়া প্রয়োজন।

একটি মিশুক গাড়ি আটক হওয়ার সঙ্গে শুধু চালক নন, গাড়ির মালিকও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অধিকাংশ চালক দৈনিক আয় করে সংসার চালান। একটি গাড়ি একদিন চলাচল করতে না পারলে চালকের আয় বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি মালিকেরও আর্থিক ক্ষতি হয়।

চালকদের ভাষ্য, তাঁরা ট্রাফিক পুলিশের আইনগত অভিযান চান। কিন্তু তাঁদের দাবি অপরাধ থাকলে মামলা হোক, তবে প্রতিটি মামলার সুনির্দিষ্ট কারণ, আইনি ধারা ও প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকতে হবে।

একই সঙ্গে ১ হাজার টাকার রশিদগুলো কোন ধরনের জরিমানার, আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, আটক গাড়িগুলো কতক্ষণ পুলিশ লাইনে রাখা হচ্ছে এবং প্রতিটি মামলার কপি সংশ্লিষ্ট চালকদের দেওয়া হচ্ছে কি না—তাও দেখা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একই এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মিশুকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কারণ কী এবং চালকদের করা অভিযোগের বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত বা পর্যালোচনা করেছে কি না।

এসব তথ্য-নথি যাচাই করা গেলে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, নাকি চালকদের অভিযোগের পেছনে অন্য কোনো বাস্তবতা রয়েছে—তা স্পষ্ট হতে পারে।

ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

চালকদের অভিযোগ, আইন প্রয়োগের নামে তাঁদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বারবার মামলা-জরিমানার কারণে তাঁরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ এটিকে হয়রানিমূলক অভিযান বলেও দাবি করেছেন।

ট্যাফিক পুলিশের সার্জেন ফাইসালের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন গাড়িটি উল্টো পথে আসায় আটক করা হয়েছে।