ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

জুলাই আন্দোলনের অভিযোগে বিতর্কে আওয়ামী লীগ নেতা জসিম মুন্সি

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পোমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ওরফে জসিম মুন্সির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা, আন্দোলনে বাধা দেওয়া এবং দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, কিছু অভিযোগকারী দাবি করেছেন যে তিনি সে সময় সংঘটিত সহিংস কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই বা আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই রাউজান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় আন্দোলনকারীদের শহরে যেতে বাধা দিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে সড়ক অবরোধ ও হামলার ঘটনায় জসিম মুন্সি নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পোমরা এলাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদসহ বিভিন্ন দায়িত্বে দীর্ঘদিন ধরে বহাল রয়েছেন।
স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, জসিম মুন্সির বিরুদ্ধে একাধিক নামজারি ও দলিল সংক্রান্ত অনিয়ম এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, এসব বিষয়ে কেউ অভিযোগ করতে চাইলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি ৬৭৭ নম্বর খতিয়ানের ২০৮৯ নম্বর দানপত্র দলিলে আরএস ৬১২ নম্বর খতিয়ানের কয়েকটি দাগ এবং বিএস ৫৯৪ নম্বর খতিয়ানের মোট ৪০ শতক জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কম মূল্য দেখিয়ে দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব কম পরিশোধ করা হয়েছে। এতে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জসিম মুন্সি। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখকের কাজ করছি, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল হয়ে থাকলে সেটি সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।”
জুলাই আন্দোলনের সময়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি আওয়ামী লীগের দায়িত্বে ছিলাম, তাই অনেক কিছু করতে হয়েছে। তবে এলাকায় আমার অনেক উন্নয়নমূলক কাজও রয়েছে, সেগুলোও তুলে ধরা উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পোমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিরাজ সৌরভের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অফিসের সহকারী দিদার জানান, “আমি মাত্র তিন মাস আগে এখানে যোগ দিয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাঙ্গুনিয়ার সমন্বয়ক আদনান রাফি বলেন, “ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা হওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা অভিযোগ করেন, “বিগত সময়ে জসিম মুন্সির প্রভাবের কারণে আমরা এলাকায় স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারতাম না। পুলিশি হয়রানিরও শিকার হতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন বলে আমাদের অভিযোগ।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

জুলাই আন্দোলনের অভিযোগে বিতর্কে আওয়ামী লীগ নেতা জসিম মুন্সি

০২:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পোমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ওরফে জসিম মুন্সির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা, আন্দোলনে বাধা দেওয়া এবং দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, কিছু অভিযোগকারী দাবি করেছেন যে তিনি সে সময় সংঘটিত সহিংস কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই বা আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই রাউজান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় আন্দোলনকারীদের শহরে যেতে বাধা দিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে সড়ক অবরোধ ও হামলার ঘটনায় জসিম মুন্সি নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পোমরা এলাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদসহ বিভিন্ন দায়িত্বে দীর্ঘদিন ধরে বহাল রয়েছেন।
স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, জসিম মুন্সির বিরুদ্ধে একাধিক নামজারি ও দলিল সংক্রান্ত অনিয়ম এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, এসব বিষয়ে কেউ অভিযোগ করতে চাইলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি ৬৭৭ নম্বর খতিয়ানের ২০৮৯ নম্বর দানপত্র দলিলে আরএস ৬১২ নম্বর খতিয়ানের কয়েকটি দাগ এবং বিএস ৫৯৪ নম্বর খতিয়ানের মোট ৪০ শতক জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কম মূল্য দেখিয়ে দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব কম পরিশোধ করা হয়েছে। এতে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জসিম মুন্সি। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখকের কাজ করছি, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল হয়ে থাকলে সেটি সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।”
জুলাই আন্দোলনের সময়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি আওয়ামী লীগের দায়িত্বে ছিলাম, তাই অনেক কিছু করতে হয়েছে। তবে এলাকায় আমার অনেক উন্নয়নমূলক কাজও রয়েছে, সেগুলোও তুলে ধরা উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পোমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিরাজ সৌরভের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অফিসের সহকারী দিদার জানান, “আমি মাত্র তিন মাস আগে এখানে যোগ দিয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাঙ্গুনিয়ার সমন্বয়ক আদনান রাফি বলেন, “ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা হওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা অভিযোগ করেন, “বিগত সময়ে জসিম মুন্সির প্রভাবের কারণে আমরা এলাকায় স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারতাম না। পুলিশি হয়রানিরও শিকার হতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন বলে আমাদের অভিযোগ।”