
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই কমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বরগুনার পাথরঘাটায় পদ্মা কমিউনিটি ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স সেন্টার (সিসিআরসি)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) সকালে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা সিসিআরসি কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এ সভার আয়োজন করে পদ্মা সিসিআরসি। এতে সহযোগিতা করে সিসিডিবি-পিসিআরসিবি প্রকল্প (ফেইজ-২), পাথরঘাটা।
পদ্মা সিসিআরসি সভাপতি আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমন্বয়ক সুজন চন্দ্র বিশ্বাস। এছাড়াও পদ্মা গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক সিসিডিবি সদস্য, উপকারভোগী, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে সৃষ্ট বিভিন্ন ঝুঁকি, দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীবিকা উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি কমিউনিটির সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় সিসিআরসি কমিটির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করা হয় এবং আগামী দিনের কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বাজেট সদস্যদের সামনে উন্মুক্তভাবে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। কমিউনিটির কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, পদ্মা সিসিআরসি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক উন্নয়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সভায় অংশগ্রহণকারীদের উন্মুক্ত মতামত গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও জনমুখী ও কার্যকর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সমন্বয়ক সুজন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন, সংগঠিত এবং অংশগ্রহণমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি সহনশীল ও টেকসই কমিউনিটি গঠনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি আরও বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানান।
প্রতিনিধির নাম 



















