ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

ডুমুরিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত দীর্ঘ ১ মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর মৃত্যু

খান আরিফুজ্জামান(নয়ন), ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধিঃ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের রানাই গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত এক গৃহবধূ টানা ১ মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। থানার লিখিত অভিযোগ, স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে তারিখে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্ত রানাই গ্রামের মৃত সাহাদাত মোল্যার ছেলে আনিচুর মোল্যার স্ত্রী মুক্তা বেগমের সাথে নিহত গৃহবধূ মোঃ মাসুদ মোল্যার স্ত্রী রেশমা বেগমের সাথে তাদের বসতবাড়ির পিছনে সরকারী টিওবয়েলে কাপড় ধোঁয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত মুক্তা বেগম তার স্বামী মাসুদ মোল্যার ইন্দনে নিহত গৃহবধূ রেশমা বেগমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তার ডান কানে স্বজোরে থাপ্পড় মারে যার ফলে রেশমা বেগমের ডান কানের পর্দা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে খুলনা খানজাহান আলী হসপিটালে ভর্তি করেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শে ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ স্থানান্তর করেন । সেখানে টানা ১ মাস লাইফ সাপোর্ট ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসরা গৃহবধূ রেশমা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে রেফার করার জন্য তার পরিবার কে জানান কিন্তু এরই মধ্যে রেশমা বেগমের চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে যাওয়ায় অর্থ সংকটের কারণে তার স্বামী মাসুদ মোল্যার পক্ষে ঢাকায় যেয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে গত ৯ জুন রেশমা বেগমকে তার স্বামীর বাড়ি রানাই গ্রামে আনা হয় এবং ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা চলতে থাকে কিন্তু দীর্ঘ ১ মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ জুন গৃহবধূ রেশমা বেগম সব কিছু ব্যর্থ করে মৃত্যুবরণ করেন।
রানাই গ্রামে চলছে এখন নিদারুণ শূন্যতা শোক আর হাহাকার। নিহত গৃহবধূ রেশমা বেগম কে হারিয়ে তার সন্তানরা পাগলপ্রায় তার সন্তানরা তার মায়ের মৃত্যুের সাথে জড়িত দোষীদের দ্রুত বিচার কামনা করেছেন প্রশাসনের নিকট।
নিহত গৃহবধূ রেশমা বেগমের স্বামী মাসুদ মোল্যা বলেন তার স্ত্রী রেশমা বেগমের স্মৃতি কেবলই ভাসছে চোখের সামনে তার স্ত্রীর মৃত্যুের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের নিকট।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূ রেশমা বেগমের স্বামী মাসুদ মোল্যা বাদী হয়ে গত ২৬ মে ডুমুরিয়া থানায় আনিচুর মোল্যা ও তার স্ত্রী মুক্তা বেগম কে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ।
তবে লিখিত অভিযোগের ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যাইনি, এজন্য তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক অসীম বিশ্বাস জানান, অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কারণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

ডুমুরিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত দীর্ঘ ১ মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর মৃত্যু

১০:৪২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

খান আরিফুজ্জামান(নয়ন), ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধিঃ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের রানাই গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত এক গৃহবধূ টানা ১ মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। থানার লিখিত অভিযোগ, স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে তারিখে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্ত রানাই গ্রামের মৃত সাহাদাত মোল্যার ছেলে আনিচুর মোল্যার স্ত্রী মুক্তা বেগমের সাথে নিহত গৃহবধূ মোঃ মাসুদ মোল্যার স্ত্রী রেশমা বেগমের সাথে তাদের বসতবাড়ির পিছনে সরকারী টিওবয়েলে কাপড় ধোঁয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত মুক্তা বেগম তার স্বামী মাসুদ মোল্যার ইন্দনে নিহত গৃহবধূ রেশমা বেগমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তার ডান কানে স্বজোরে থাপ্পড় মারে যার ফলে রেশমা বেগমের ডান কানের পর্দা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে খুলনা খানজাহান আলী হসপিটালে ভর্তি করেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শে ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ স্থানান্তর করেন । সেখানে টানা ১ মাস লাইফ সাপোর্ট ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসরা গৃহবধূ রেশমা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে রেফার করার জন্য তার পরিবার কে জানান কিন্তু এরই মধ্যে রেশমা বেগমের চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে যাওয়ায় অর্থ সংকটের কারণে তার স্বামী মাসুদ মোল্যার পক্ষে ঢাকায় যেয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে গত ৯ জুন রেশমা বেগমকে তার স্বামীর বাড়ি রানাই গ্রামে আনা হয় এবং ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা চলতে থাকে কিন্তু দীর্ঘ ১ মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ জুন গৃহবধূ রেশমা বেগম সব কিছু ব্যর্থ করে মৃত্যুবরণ করেন।
রানাই গ্রামে চলছে এখন নিদারুণ শূন্যতা শোক আর হাহাকার। নিহত গৃহবধূ রেশমা বেগম কে হারিয়ে তার সন্তানরা পাগলপ্রায় তার সন্তানরা তার মায়ের মৃত্যুের সাথে জড়িত দোষীদের দ্রুত বিচার কামনা করেছেন প্রশাসনের নিকট।
নিহত গৃহবধূ রেশমা বেগমের স্বামী মাসুদ মোল্যা বলেন তার স্ত্রী রেশমা বেগমের স্মৃতি কেবলই ভাসছে চোখের সামনে তার স্ত্রীর মৃত্যুের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের নিকট।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূ রেশমা বেগমের স্বামী মাসুদ মোল্যা বাদী হয়ে গত ২৬ মে ডুমুরিয়া থানায় আনিচুর মোল্যা ও তার স্ত্রী মুক্তা বেগম কে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ।
তবে লিখিত অভিযোগের ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যাইনি, এজন্য তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক অসীম বিশ্বাস জানান, অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কারণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।