ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

পাইকগাছায় জমির সীমানা নির্ধারণের ঘেরাবেড়া দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, একই পরিবারের আহত ৪

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের কাঠিপাড়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘেরাবেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের নারীসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মাথায় ও কপালে মারাত্মক জখম হওয়ায় তাদের পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে কাঠিপাড়া শ্মশানঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

​​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির সীমানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন বিকেলে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘেরাবেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

​হামলায় আহতরা হলেন—আলাউদ্দিন গাজী (৬০), তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৪০), ছেলে নাজমুল গাজী (২৫) এবং আত্মীয় জামাল গাজী (৩৫)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত আলাউদ্দিন গাজীর কপালে ৪টি এবং তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের কপালে ২টি সেলাই দিতে হয়েছে।

​ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়েছে।

​অন্যদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিবাদী পক্ষের ইউনুস গাজী বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আমিন দিয়ে মাপজোখ করা হয়েছিল। ঘেরাবেড়া দেওয়ার সময় সামান্য হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আমরা হাত দিয়ে আঘাত করেছি, তবে তারা কীভাবে এতটা জখম হলেন তা আমাদের জানা নেই। হয়তো পড়ে গিয়ে এমন চোট পেয়েছেন।”

​তবে বিবাদী পক্ষের এমন দাবি নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, সাধারণ ধাক্কাধাক্কিতে কপালে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়ে একাধিক সেলাই লাগার কথা নয়। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

​সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এই নৃশংস হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটির পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

পাইকগাছায় জমির সীমানা নির্ধারণের ঘেরাবেড়া দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, একই পরিবারের আহত ৪

১২:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের কাঠিপাড়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘেরাবেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের নারীসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মাথায় ও কপালে মারাত্মক জখম হওয়ায় তাদের পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে কাঠিপাড়া শ্মশানঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

​​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির সীমানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন বিকেলে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘেরাবেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

​হামলায় আহতরা হলেন—আলাউদ্দিন গাজী (৬০), তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৪০), ছেলে নাজমুল গাজী (২৫) এবং আত্মীয় জামাল গাজী (৩৫)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত আলাউদ্দিন গাজীর কপালে ৪টি এবং তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের কপালে ২টি সেলাই দিতে হয়েছে।

​ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়েছে।

​অন্যদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিবাদী পক্ষের ইউনুস গাজী বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আমিন দিয়ে মাপজোখ করা হয়েছিল। ঘেরাবেড়া দেওয়ার সময় সামান্য হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আমরা হাত দিয়ে আঘাত করেছি, তবে তারা কীভাবে এতটা জখম হলেন তা আমাদের জানা নেই। হয়তো পড়ে গিয়ে এমন চোট পেয়েছেন।”

​তবে বিবাদী পক্ষের এমন দাবি নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, সাধারণ ধাক্কাধাক্কিতে কপালে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়ে একাধিক সেলাই লাগার কথা নয়। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

​সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এই নৃশংস হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটির পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।