ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

বিভিন্ন পর্যায়ে নারী নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ মতবিনিময় সভা কক্সবাজার অনুষ্ঠিত

মোঃ ওসমান গনি ইলি, কক্সবাজার:

নারীর নেতৃত্ব বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের কার্যকর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারে “বিভিন্ন পর্যায়ে নারী নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৪ জুন) কক্সবাজার পৌরসভা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে খান ফাউন্ডেশন ও পালস বাংলাদেশ। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রদান করছে সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এবং টেকনিক্যাল সহযোগিতায় রয়েছে নাগরিকতা-জিএফএ (Nagorikota-GFA)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার। তিনি বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন শুধু একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয় নয়, এটি টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং তাদের কণ্ঠস্বরকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পালস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কলিম, উইমেন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জাহানারা ইসলাম, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোদেস্তা বেগম, মোঃ আব্দুল আউয়াল, সহকারী পরিচালক সমাজ সেবা অধিদপ্তর এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওসমান গনি (ইলি)।
বক্তারা বলেন, সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে এখনো অনেক নারী সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সহিংসতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তিশালী নারী নেটওয়ার্ক গঠন, দক্ষতা উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী নেতৃত্বের বিকাশ অত্যন্ত জরুরি।
মতবিনিময় সভায় নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী নারী নেত্রী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। নারীদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও নেতৃত্বকে উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে টেকসই উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।
বক্তারা আরও বলেন, খান ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার, সুশাসন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, নারী উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অন্যদিকে পালস বাংলাদেশ নাগরিক সচেতনতা, সামাজিক জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে ইতোমধ্যে প্রশংসা অর্জন করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ নারীদের সংগঠিত ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন-ওমর খৈয়াম, প্রকল্প সমন্বয়কারী ,খান ফাউন্ডেশন, সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন , মোঃ আবু সালাম জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা, শামীম আক্তার, বেদনা খাতুন ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
প্রাণবন্ত আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। বক্তারা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য হ্রাস এবং একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে সকল অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

বিভিন্ন পর্যায়ে নারী নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ মতবিনিময় সভা কক্সবাজার অনুষ্ঠিত

১০:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

মোঃ ওসমান গনি ইলি, কক্সবাজার:

নারীর নেতৃত্ব বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের কার্যকর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারে “বিভিন্ন পর্যায়ে নারী নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৪ জুন) কক্সবাজার পৌরসভা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে খান ফাউন্ডেশন ও পালস বাংলাদেশ। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রদান করছে সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এবং টেকনিক্যাল সহযোগিতায় রয়েছে নাগরিকতা-জিএফএ (Nagorikota-GFA)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার। তিনি বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন শুধু একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয় নয়, এটি টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং তাদের কণ্ঠস্বরকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পালস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কলিম, উইমেন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জাহানারা ইসলাম, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোদেস্তা বেগম, মোঃ আব্দুল আউয়াল, সহকারী পরিচালক সমাজ সেবা অধিদপ্তর এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওসমান গনি (ইলি)।
বক্তারা বলেন, সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে এখনো অনেক নারী সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সহিংসতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তিশালী নারী নেটওয়ার্ক গঠন, দক্ষতা উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী নেতৃত্বের বিকাশ অত্যন্ত জরুরি।
মতবিনিময় সভায় নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী নারী নেত্রী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। নারীদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও নেতৃত্বকে উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে টেকসই উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।
বক্তারা আরও বলেন, খান ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার, সুশাসন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, নারী উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অন্যদিকে পালস বাংলাদেশ নাগরিক সচেতনতা, সামাজিক জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে ইতোমধ্যে প্রশংসা অর্জন করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ নারীদের সংগঠিত ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন-ওমর খৈয়াম, প্রকল্প সমন্বয়কারী ,খান ফাউন্ডেশন, সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন , মোঃ আবু সালাম জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা, শামীম আক্তার, বেদনা খাতুন ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
প্রাণবন্ত আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। বক্তারা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য হ্রাস এবং একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে সকল অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।