ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’- বক্তব্য ভাইরালের পর ওসি প্রত্যাহার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসেমের এমন একটি বক্তব্যের অডিওরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আজ রোববার সকালে তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

জেলার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে গতকাল শনিবার কলমাকান্দা থানার ওসি আবুল হাসেমের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ওসি আবুল হাসেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই রেকর্ডে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আবুল হাসেমকে বলতে শোনা গেছে- ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলে মিশে থাকব। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা,  আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পারি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।

ওই রেকর্ডে ওসি  আরও বলেন, ‘পুলিশের যে চাকরিটা এটা ওয়ান কাউন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সাথে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঠাল ভেঙ্গে খাইতে পারবেন না।সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাব না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যেই অধিকার সেযেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ যারা হক মারে রাসূল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’

ওসি আরও বলেন, বর্তমানে গুপ্ত গুপ্ত একটা শব্দ আছে, এই শব্দটা আবিষ্কার করছে তারেক জিয়া (প্রধানমন্ত্রী)। আপনারা যে গুপ্ত গুপ্ত থাকার চেষ্টা করেন এইটা কিন্ত আমরা বুঝতেছি। এইযে সেইদিন মামলাটা হইলো নাহ, এখান থেকে টাকা পয়সা নিয়েছেন। অনেকে আমার কাছে আসছিল টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়ে জানতে। আমি কিন্তু কিছুই জানি না। তারপরও তাদের নানা কিছু বুঝাইয়া দৌড়াইয়া দিছি। আমরা যারা সিস্টেমের মধ্যে আছি, তারা যেন মিলে ঝুলে চলি। বেশি চালাকির দরকার নাই।যেকোন কাজে আমরা নিজেদের কাউরে বিপদেও ফেলব না, কাউরে ঠকাবোও না। আরেকটা বিষয় আছে কিছু কিছু ঘটনায়  জায়গাতেই চার্জশিট, জায়গাতেই ফাইনাল, ওসি কিছুই জানল না। আরে ভাই আপনি তো নিজেই থানা একটা খুইল্যা ফেললেন। থানায় তো একজন ওসি আছে, তার সাথে সমন্বয় করবেন। নাইলে নয়টা কইরা ফেললেন দশটার সময় ধরা খাবেন। তখন বুইজেন খবর আছে।

তবে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসেম দাবি করেন- এটি তার বক্তব্য নয়। কীভাবে এই বক্তব্য এসেছে এটি তিনি জানেন না।

এরআগে গত ৫ মে চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী ছাড়াতে ঘুষের দর-কষাকষির কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শককে (এসআই) আবু হানিফকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’- বক্তব্য ভাইরালের পর ওসি প্রত্যাহার

০৪:২০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসেমের এমন একটি বক্তব্যের অডিওরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আজ রোববার সকালে তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

জেলার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে গতকাল শনিবার কলমাকান্দা থানার ওসি আবুল হাসেমের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ওসি আবুল হাসেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই রেকর্ডে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আবুল হাসেমকে বলতে শোনা গেছে- ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলে মিশে থাকব। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা,  আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পারি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।

ওই রেকর্ডে ওসি  আরও বলেন, ‘পুলিশের যে চাকরিটা এটা ওয়ান কাউন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সাথে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঠাল ভেঙ্গে খাইতে পারবেন না।সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাব না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যেই অধিকার সেযেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ যারা হক মারে রাসূল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’

ওসি আরও বলেন, বর্তমানে গুপ্ত গুপ্ত একটা শব্দ আছে, এই শব্দটা আবিষ্কার করছে তারেক জিয়া (প্রধানমন্ত্রী)। আপনারা যে গুপ্ত গুপ্ত থাকার চেষ্টা করেন এইটা কিন্ত আমরা বুঝতেছি। এইযে সেইদিন মামলাটা হইলো নাহ, এখান থেকে টাকা পয়সা নিয়েছেন। অনেকে আমার কাছে আসছিল টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়ে জানতে। আমি কিন্তু কিছুই জানি না। তারপরও তাদের নানা কিছু বুঝাইয়া দৌড়াইয়া দিছি। আমরা যারা সিস্টেমের মধ্যে আছি, তারা যেন মিলে ঝুলে চলি। বেশি চালাকির দরকার নাই।যেকোন কাজে আমরা নিজেদের কাউরে বিপদেও ফেলব না, কাউরে ঠকাবোও না। আরেকটা বিষয় আছে কিছু কিছু ঘটনায়  জায়গাতেই চার্জশিট, জায়গাতেই ফাইনাল, ওসি কিছুই জানল না। আরে ভাই আপনি তো নিজেই থানা একটা খুইল্যা ফেললেন। থানায় তো একজন ওসি আছে, তার সাথে সমন্বয় করবেন। নাইলে নয়টা কইরা ফেললেন দশটার সময় ধরা খাবেন। তখন বুইজেন খবর আছে।

তবে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসেম দাবি করেন- এটি তার বক্তব্য নয়। কীভাবে এই বক্তব্য এসেছে এটি তিনি জানেন না।

এরআগে গত ৫ মে চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী ছাড়াতে ঘুষের দর-কষাকষির কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শককে (এসআই) আবু হানিফকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়।