ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন ২৯৮ নং আসনের খাগড়াছড়ির এমপি “ওয়াদুদ ভূইয়া

আবুল হোসেন রিপন, গুইমারা, খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ির গুইমারায় কৃষি উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বৃহৎ পরিসরে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে “দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি-২০২৬” এর আওতায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তৈইমাতাই ও পিলাক খালের পুনঃখনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলেন খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনের এমপি ওয়াদুদ ভূইয়া। বুধবার (২০ মে ২০২৬) দুপুর ৩টায় উপজেলার বাইল্যাছড়ি জোড়াব্রিজ এলাকার তৈইমাতাই খাল এবং পরে জালিয়াপাড়াস্থ পিলাক খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। পরে জালিয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিসকাতুন তামান্নার সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায়, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আফছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী ডালিমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা একসময় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই জনবান্ধব উদ্যোগকে আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা পাবে এবং মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে স্থানীয় মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি খাল সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর পরিচালিত অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় মোট ৯ দশমিক ১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল পুনঃখননে ব্যয় হবে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং এতে কাজ করছেন ৪১৬ জন শ্রমিক। অন্যদিকে ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈইমাতাই খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যেখানে নিয়োজিত আছে ৩৫৭ জন শ্রমিক। স্থানীয় শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। কর্মরত প্রতিটি শ্রমিক দৈনিক ৫০০ টাকা হারে মজুরি পাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন গতি সঞ্চার করবে।
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর খালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হতো না। ফলে জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি, বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তো। আবার শুকনো মৌসুমে সেচ সংকটের কারণে কৃষকরা পর্যাপ্ত আবাদ করতে পারতেন না। এমন বাস্তবতায় খাল পুনঃখননের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
তাদের প্রত্যাশা, খাল পুনঃখননের ফলে গুইমারায় কৃষি উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন ২৯৮ নং আসনের খাগড়াছড়ির এমপি “ওয়াদুদ ভূইয়া

০৬:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

আবুল হোসেন রিপন, গুইমারা, খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ির গুইমারায় কৃষি উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বৃহৎ পরিসরে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে “দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি-২০২৬” এর আওতায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তৈইমাতাই ও পিলাক খালের পুনঃখনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলেন খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনের এমপি ওয়াদুদ ভূইয়া। বুধবার (২০ মে ২০২৬) দুপুর ৩টায় উপজেলার বাইল্যাছড়ি জোড়াব্রিজ এলাকার তৈইমাতাই খাল এবং পরে জালিয়াপাড়াস্থ পিলাক খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। পরে জালিয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিসকাতুন তামান্নার সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায়, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আফছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী ডালিমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা একসময় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই জনবান্ধব উদ্যোগকে আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা পাবে এবং মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে স্থানীয় মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি খাল সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর পরিচালিত অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় মোট ৯ দশমিক ১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল পুনঃখননে ব্যয় হবে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং এতে কাজ করছেন ৪১৬ জন শ্রমিক। অন্যদিকে ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈইমাতাই খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যেখানে নিয়োজিত আছে ৩৫৭ জন শ্রমিক। স্থানীয় শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। কর্মরত প্রতিটি শ্রমিক দৈনিক ৫০০ টাকা হারে মজুরি পাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন গতি সঞ্চার করবে।
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর খালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হতো না। ফলে জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি, বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তো। আবার শুকনো মৌসুমে সেচ সংকটের কারণে কৃষকরা পর্যাপ্ত আবাদ করতে পারতেন না। এমন বাস্তবতায় খাল পুনঃখননের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
তাদের প্রত্যাশা, খাল পুনঃখননের ফলে গুইমারায় কৃষি উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।