ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

বিএডিসিতে প্রভাবশালী চক্রের দাপট, ঝুঁকিতে কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর অভ্যন্তরে প্রভাবশালী একটি চক্রের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করছেন। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও মহাব্যবস্থাপক (বীজ) মোঃ আবীর হোসেন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোঃ কামরুজ্জামান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই দুজনকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি বলয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছে।
বিএডিসির অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সেগুলোর অধিকাংশই কার্যকর তদন্তের আওতায় আসেনি। বরং প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগগুলো চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।
অভিযোগ রয়েছে, বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদার নির্বাচন, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং কাজের মান নিয়ন্ত্রণে অনিয়ম হয়েছে। কিছু কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে, ফলে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে।
একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, অনিয়ম নিয়ে কেউ কথা বলতে চাইলে তাকে নানাভাবে চাপে রাখা হয়। এমনকি কোনো তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি বন্ধ করতে তৎপরতা চালানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, “বিএডিসির ভেতরে এখন এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেকেই খোলামেলা কথা বলতে ভয় পান। অভিযোগ উঠলেও সেগুলো নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ খুব কমই দেখা যায়।”
আরেক কর্মকর্তা বলেন, “প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও পদায়নের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কয়েকজনের প্রভাব রয়েছে বলে অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসিতে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ বীজ, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিষ্ঠানের ওপর দেশের লাখো কৃষক নির্ভরশীল।
বিশেষ করে আসন্ন রবি মৌসুমকে সামনে রেখে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্রশাসনিক অস্থিরতা ও অনিয়মের প্রভাব চলমান থাকলে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে মোঃ আবীর হোসেন অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছি।”
অন্যদিকে মোঃ কামরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে ফিরে আসা এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

বিএডিসিতে প্রভাবশালী চক্রের দাপট, ঝুঁকিতে কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থা

০৪:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর অভ্যন্তরে প্রভাবশালী একটি চক্রের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করছেন। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও মহাব্যবস্থাপক (বীজ) মোঃ আবীর হোসেন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোঃ কামরুজ্জামান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই দুজনকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি বলয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছে।
বিএডিসির অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সেগুলোর অধিকাংশই কার্যকর তদন্তের আওতায় আসেনি। বরং প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগগুলো চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।
অভিযোগ রয়েছে, বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদার নির্বাচন, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং কাজের মান নিয়ন্ত্রণে অনিয়ম হয়েছে। কিছু কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে, ফলে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে।
একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, অনিয়ম নিয়ে কেউ কথা বলতে চাইলে তাকে নানাভাবে চাপে রাখা হয়। এমনকি কোনো তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি বন্ধ করতে তৎপরতা চালানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, “বিএডিসির ভেতরে এখন এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেকেই খোলামেলা কথা বলতে ভয় পান। অভিযোগ উঠলেও সেগুলো নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ খুব কমই দেখা যায়।”
আরেক কর্মকর্তা বলেন, “প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও পদায়নের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কয়েকজনের প্রভাব রয়েছে বলে অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসিতে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ বীজ, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিষ্ঠানের ওপর দেশের লাখো কৃষক নির্ভরশীল।
বিশেষ করে আসন্ন রবি মৌসুমকে সামনে রেখে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্রশাসনিক অস্থিরতা ও অনিয়মের প্রভাব চলমান থাকলে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে মোঃ আবীর হোসেন অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছি।”
অন্যদিকে মোঃ কামরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে ফিরে আসা এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।