ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

অতিরিক্ত বিলের নামে অর্থ আদায়, পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএমকে আইনি নোটিশ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. ইমদাদুল হককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার নেত্রকোনা জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আরিফুল ইসলাম তার মক্কেল ফিস ফিড মিল নামে প্রতিষ্ঠানের মালিক লতিফুর রহমানের পক্ষে এ নোটিশ দেন।

ভুক্তভোগী লতিফুর রহমান মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য। মোহনগঞ্জ  পৌরশহরের পালেহা এলাকায় ফিস ফিড মিল নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে প্রস্তুত করা একটি বিলে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ১৫,০৫০ ইউনিট দেখিয়ে ৪৯ হাজার ৬৬৯ টাকা পরিশোধের দাবি করা হয়। তবে পূর্ববর্তী বিলের সঙ্গে অসামঞ্জস্য থাকায় গ্রাহক লতিফুর রহমান আপত্তি তুললে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, মিটারটি পুড়ে গেছে এবং নতুন মিটার সংযোগ দিলে পুরোনো রিডিং পাওয়া যাবে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০ থেকে ২২ দিন পর একটি প্রত্যয়নপত্রে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ ১২,২০৫ ইউনিট উল্লেখ করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে ২,৮৪৫ ইউনিট বেশি দেখিয়ে প্রায় ৩০ হাজার ৬১২ টাকা অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত বিল পরিশোধ না করলে পুড়ে যাওয়া মিটার পরিবর্তন করা হবে না—এমন মৌখিক চাপের কারণে লতিফুর রহমান বাধ্য হয়ে বিলম্ব ফিসহ পুরো ৪৯ হাজার ৬৬৯ টাকা পরিশোধ করেন। এ কারণে তার ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রায় তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

পরে নতুন মিটার সংযোগ দেওয়ার পর প্রকৃত ব্যবহৃত ইউনিট ১২,২০৫ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপরও অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকা ফেরতের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে মার্চ মাসের নতুন বিল পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এনে কেন তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করা হবে না—তার লিখিত জবাব সাত কর্মদিবসের মধ্যে দিতে নোটিশে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী লতিফুর রহমান আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতারণা করে আমার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে।  বিষয়টি ডিজিএমকে জানানোর পরও কোন প্রতিকার পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. ইমদাদুল হক বলেন,  আইনি নোটিশের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে শুনেছি। তবে এখনও হাতে পাইনি। পাওয়ার পর যথাযথ নিয়মে এর জবান দেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

অতিরিক্ত বিলের নামে অর্থ আদায়, পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএমকে আইনি নোটিশ

০৬:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. ইমদাদুল হককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার নেত্রকোনা জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আরিফুল ইসলাম তার মক্কেল ফিস ফিড মিল নামে প্রতিষ্ঠানের মালিক লতিফুর রহমানের পক্ষে এ নোটিশ দেন।

ভুক্তভোগী লতিফুর রহমান মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য। মোহনগঞ্জ  পৌরশহরের পালেহা এলাকায় ফিস ফিড মিল নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে প্রস্তুত করা একটি বিলে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ১৫,০৫০ ইউনিট দেখিয়ে ৪৯ হাজার ৬৬৯ টাকা পরিশোধের দাবি করা হয়। তবে পূর্ববর্তী বিলের সঙ্গে অসামঞ্জস্য থাকায় গ্রাহক লতিফুর রহমান আপত্তি তুললে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, মিটারটি পুড়ে গেছে এবং নতুন মিটার সংযোগ দিলে পুরোনো রিডিং পাওয়া যাবে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০ থেকে ২২ দিন পর একটি প্রত্যয়নপত্রে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ ১২,২০৫ ইউনিট উল্লেখ করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে ২,৮৪৫ ইউনিট বেশি দেখিয়ে প্রায় ৩০ হাজার ৬১২ টাকা অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত বিল পরিশোধ না করলে পুড়ে যাওয়া মিটার পরিবর্তন করা হবে না—এমন মৌখিক চাপের কারণে লতিফুর রহমান বাধ্য হয়ে বিলম্ব ফিসহ পুরো ৪৯ হাজার ৬৬৯ টাকা পরিশোধ করেন। এ কারণে তার ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রায় তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

পরে নতুন মিটার সংযোগ দেওয়ার পর প্রকৃত ব্যবহৃত ইউনিট ১২,২০৫ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপরও অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকা ফেরতের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে মার্চ মাসের নতুন বিল পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এনে কেন তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করা হবে না—তার লিখিত জবাব সাত কর্মদিবসের মধ্যে দিতে নোটিশে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী লতিফুর রহমান আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতারণা করে আমার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে।  বিষয়টি ডিজিএমকে জানানোর পরও কোন প্রতিকার পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. ইমদাদুল হক বলেন,  আইনি নোটিশের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে শুনেছি। তবে এখনও হাতে পাইনি। পাওয়ার পর যথাযথ নিয়মে এর জবান দেওয়া হবে।