ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

মহালছড়িতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন, টিকার আওতায় আসবে ৬৬৫০ শিশু

শফিক ইসলাম, মহালছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলার ১নং সদর ইউনিয়নের যৌথ খামার ত্রিপুরা পাড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাড়াকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মহালছড়ি উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন এবং গুইমারা উপজেলার ১টি ইউনিয়নসহ মোট ৫টি ইউনিয়নে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। পুরো কার্যক্রমে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে ১টি স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি ১২০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

এই ক্যাম্পেইনের আওতায় মোট ৬ হাজার ৬৫০ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্যক্রম সফল করতে ২৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ১৫ জন প্রশিক্ষিত টিকাদানকর্মী মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

ক্যাম্পেইনটি সোমবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম দুই সপ্তাহ কমিউনিটি পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এরপর এক সপ্তাহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান করা হবে। মোট ১১ দিনব্যাপী এই এমআর ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ধনিষ্ঠা চাকমা বলেন, হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এই টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত বয়সসীমার সব শিশুদের টিকার আওতায় আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অভিভাবকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা এক্ষেত্রে অপরিহার্য।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানেটারি পরিদর্শক মোঃ মনজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “প্রতিটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে আমাদের টিম সতর্ক রয়েছে।”
স্থানীয় পাড়াকর্মী ভূমিকা ত্রিপুরা জানান, আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করছি, যাতে কোনো শিশু টিকা থেকে বাদ না পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে এবং শিশুদের মধ্যে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

মহালছড়িতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন, টিকার আওতায় আসবে ৬৬৫০ শিশু

০১:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

শফিক ইসলাম, মহালছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলার ১নং সদর ইউনিয়নের যৌথ খামার ত্রিপুরা পাড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাড়াকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মহালছড়ি উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন এবং গুইমারা উপজেলার ১টি ইউনিয়নসহ মোট ৫টি ইউনিয়নে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। পুরো কার্যক্রমে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে ১টি স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি ১২০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

এই ক্যাম্পেইনের আওতায় মোট ৬ হাজার ৬৫০ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্যক্রম সফল করতে ২৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ১৫ জন প্রশিক্ষিত টিকাদানকর্মী মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

ক্যাম্পেইনটি সোমবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম দুই সপ্তাহ কমিউনিটি পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এরপর এক সপ্তাহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান করা হবে। মোট ১১ দিনব্যাপী এই এমআর ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ধনিষ্ঠা চাকমা বলেন, হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এই টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত বয়সসীমার সব শিশুদের টিকার আওতায় আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অভিভাবকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা এক্ষেত্রে অপরিহার্য।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানেটারি পরিদর্শক মোঃ মনজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “প্রতিটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে আমাদের টিম সতর্ক রয়েছে।”
স্থানীয় পাড়াকর্মী ভূমিকা ত্রিপুরা জানান, আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করছি, যাতে কোনো শিশু টিকা থেকে বাদ না পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে এবং শিশুদের মধ্যে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।