ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

মহালছড়িতে ফুল বিঝুর মধ্য দিয়ে শুরু হলো তিনদিনব্যাপী বৈসাবি উৎসব

শফিক ইসলাম, মহালছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ঐতিহ্যবাহী ফুল বিঝুর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বৈসাবি। রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের শুভ সূচনা হয়।

চেঙ্গী নদী তীরবর্তী মনাটেক যাদুগানালা এলাকায় মনাটেক যাদুগানালা মৎস্যচাষ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড ও মনাটেক কজমা ক্লাবের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরে যাদুগানালা পুকুরে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল বিঝু উদযাপন করা হয়। এতে বিভিন্ন বয়সের শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি রত্ন উজ্জল চাকমা এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা। বক্তারা বলেন, পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর লক্ষ্যে তিনদিনব্যাপী এই উৎসব উদযাপন করা হয়, যার ধাপগুলো হলো—ফুল বিঝু, মূল বিঝু এবং গোজ্য পোজ্য দিন।

বক্তারা আরও জানান, বিঝু উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ “পাজন”, যা বিভিন্ন প্রকার সবজি ও তরকারি দিয়ে রান্না করা একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পাজনে কমপক্ষে ৩৬ প্রকার উপাদান থাকা আবশ্যক বলে ধরা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে এই উৎসব ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। ত্রিপুরাদের কাছে এটি ‘বৈসু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’, চাকমাদের ‘বিঝু’, খুমি ও ম্রোদের ‘চাংক্রাই’, খিয়াং ও লুসাইদের ‘সাংগ্রাই’ এবং তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’ নামে উদযাপিত হয়।

ঐতিহাসিক নির্দিষ্ট সময়কাল জানা না গেলেও যুগ যুগ ধরে এ উৎসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বৈসাবিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার হয়।

উৎসব উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীরা ফুল ভাসিয়ে অতীতের দুঃখ-কষ্ট ও গ্লানি ভুলে নতুন বছরে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

মহালছড়িতে ফুল বিঝুর মধ্য দিয়ে শুরু হলো তিনদিনব্যাপী বৈসাবি উৎসব

০৭:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শফিক ইসলাম, মহালছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ঐতিহ্যবাহী ফুল বিঝুর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বৈসাবি। রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের শুভ সূচনা হয়।

চেঙ্গী নদী তীরবর্তী মনাটেক যাদুগানালা এলাকায় মনাটেক যাদুগানালা মৎস্যচাষ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড ও মনাটেক কজমা ক্লাবের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরে যাদুগানালা পুকুরে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল বিঝু উদযাপন করা হয়। এতে বিভিন্ন বয়সের শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি রত্ন উজ্জল চাকমা এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা। বক্তারা বলেন, পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর লক্ষ্যে তিনদিনব্যাপী এই উৎসব উদযাপন করা হয়, যার ধাপগুলো হলো—ফুল বিঝু, মূল বিঝু এবং গোজ্য পোজ্য দিন।

বক্তারা আরও জানান, বিঝু উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ “পাজন”, যা বিভিন্ন প্রকার সবজি ও তরকারি দিয়ে রান্না করা একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পাজনে কমপক্ষে ৩৬ প্রকার উপাদান থাকা আবশ্যক বলে ধরা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে এই উৎসব ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। ত্রিপুরাদের কাছে এটি ‘বৈসু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’, চাকমাদের ‘বিঝু’, খুমি ও ম্রোদের ‘চাংক্রাই’, খিয়াং ও লুসাইদের ‘সাংগ্রাই’ এবং তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’ নামে উদযাপিত হয়।

ঐতিহাসিক নির্দিষ্ট সময়কাল জানা না গেলেও যুগ যুগ ধরে এ উৎসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বৈসাবিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার হয়।

উৎসব উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীরা ফুল ভাসিয়ে অতীতের দুঃখ-কষ্ট ও গ্লানি ভুলে নতুন বছরে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন।