
খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),
ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধিঃ
খুলনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ডুমুরিয়া। এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাড়া মহল্লায় দিন দিন বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র গোপনে পরিচালনা করছে এই অবৈধ ব্যবসা, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান, এমনকি কিছু গোপন আস্তানায় বসেই চলছে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার কার্যক্রম। ক্রিকেট ম্যাচ, অনলাইন ক্যাসিনো গেমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এ ধরনের জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে। অনেকেই দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় এই পথে ঝুঁকছে, যা তাদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। পরিবারগুলোও বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে।একাধিক অভিভাবক জানান, তাদের সন্তানরা রাত জেগে মোবাইলে ব্যস্ত থাকে, কিন্তু পরে জানা যায় তারা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এতে করে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি মোবাইল অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গোপনে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনেক ক্ষেত্রে বিকাশ ও অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে টাকা লেনদেন করা হচ্ছে, যা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি চক্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে এ ধরনের অপরাধ দমন কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, এ সমস্যা মোকাবেলায় প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এটি আরও বড় সামাজিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে কঠোর আইন প্রয়োগ ও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিনিধির নাম 



















