ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগে টেন্ডার বানিজ্য প্রভাবশালী তিন ব্যক্তিই পেলো ৯০শতাংশ লটের নিলাম !

নিজস্ব প্রতিনিধি:
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগে গত ১১ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নিলাম প্রক্রিয়ায় নানান অসংগতি, দূর্নীতি ও কমিশন বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে। প্রায় তিন শতাধিক লটের ৯০ শতাংশই ডিপোর আস্থাভাজন তিন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দখলে। যাদের বিরুদ্ধে বনজ পরিবেশ ধ্বংসের একাধিক অভিযোগ রয়েছে, তারাই বনবিভাগের টেন্ডার পেয়েছেন। তাদের সাথে ডিপোর দহরমমহরম সম্পর্ক, কমিশন বানিজ্য ও ব্যবসার লভ্যাংশ ভাগাভাগিরও গুঞ্জন রয়েছে।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন রেঞ্জ অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে- গত ১১ডিসেম্বরের নিলামে সামাজিক বনায়নের লট আছে ২৭৬টি। যার মধ্যে- ফাসিঁয়াখালী রেঞ্জে ৪৬টি, ঈদগড় রেঞ্জে ১১০টি, বাকঁখালী রেঞ্জে ১০০টি, জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জে ২৫টি। এছাড়াও দেড় শতাধিক ইউডিওর এবং সিওর মামলার লটও রয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো, প্রভাবশালী তিন ব্যক্তির দখলেই প্রায় ২ শতাধিক সামাজিক বনায়নের লট। বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বিশেষ সহযোগিতায় নিলামে বাজিমাৎ দেখিয়েছে তারা৷ এমনটাই জানা যায়। খোদ বনবিভাগের মধ্যেই কানাঘুষা চলছে, নিলামে বাজিমাৎ দেখানো তিন ব্যক্তির সাথেই রয়েছে ডিপোর পার্টনারশিপ লটের ব্যবসা ও কমিশন বানিজ্য। উচ্চপদস্থ বনকর্তারা যখন এই দূর্নীতি-অনিয়মের সাথে জড়িত হয়ে যায়, তখন নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রশ্ন চলে আসে।

জানা যায়, অধিকাংশ লটের নিলাম পাওয়া তিন প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা হলেন ডুলাহাজারার জয়নাল আবেদীন ভুট্টো ও আবছার এবং ঈদগড়ের আতর আলী। তারা সকলেই বনের চোরাই গাছ পাচার, পাহাড় কাটা, পাহাড়ি ছড়া থেকে বালি উত্তোলনসহ বনজ পরিবেশ ধ্বংসের মতোন নানান অপরাধে জড়িত।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য, টেন্ডার শিডিউল ফরম সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ অফিসে বিতরণ না করে, এবার বিতরণ করেছে ডিপো অফিস সংলগ্ন শহর রেঞ্জ অফিসে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বিশেষ নির্দেশনায় সাধারণ টেন্ডার শিডিউল ফরম ক্রয়কারীদেরকে শিডিউল ফরমের সাথে সংশ্লিষ্ট লটের তালিকা সরবরাহ করা হয়নি। লটের পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে টেন্ডার ফরম যথাযথভাবে জমা দিতে না পারার কথা জানান বশির ও আরফাত নামের দুজন টেন্ডার শিডিউল ফরম ক্রয়কারী। তারা প্রতিবেদককে জানান, ডিপোর সাথে যাদের সম্পর্ক ভালো তারাই টেন্ডার পাওয়ায় অবাক হয়েছি। সম্ভবত তাদের সাথে ডিপো’র গোপন কোন চুক্তি থাকতে পারে। আমাদেরকে শিডিউল ফরমের সাথে লট তালিকা দেওয়া না হলেও, যারা টেন্ডার পেয়েছে তাদেরকে দেওয়া হয়েছিলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন কর্মচারী জানান, ডিপো স্যারের ইশারা ছাড়া কারোর টেন্ডার পাওয়া অসম্ভব। বনবিভাগে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আছেন, তাদের সুবিধায় ওপেন টেন্ডার না করে এবার সীল টেন্ডার করা হয়। লটের বৈধ কাগজ নিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে শত কোটি টাকার চোরাই গাছ পাচারের সিন্ডিকেটের সাথেও জড়িত তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ডিপো মারুফ হোসেনকে বারবার মুঠোফোনে কল করা হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জবির ইকোনমিকস ক্যারিয়ার ক্লাবের নেতৃত্বে মাইশা-নাদিয়া

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগে টেন্ডার বানিজ্য প্রভাবশালী তিন ব্যক্তিই পেলো ৯০শতাংশ লটের নিলাম !

০২:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি:
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগে গত ১১ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নিলাম প্রক্রিয়ায় নানান অসংগতি, দূর্নীতি ও কমিশন বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে। প্রায় তিন শতাধিক লটের ৯০ শতাংশই ডিপোর আস্থাভাজন তিন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দখলে। যাদের বিরুদ্ধে বনজ পরিবেশ ধ্বংসের একাধিক অভিযোগ রয়েছে, তারাই বনবিভাগের টেন্ডার পেয়েছেন। তাদের সাথে ডিপোর দহরমমহরম সম্পর্ক, কমিশন বানিজ্য ও ব্যবসার লভ্যাংশ ভাগাভাগিরও গুঞ্জন রয়েছে।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন রেঞ্জ অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে- গত ১১ডিসেম্বরের নিলামে সামাজিক বনায়নের লট আছে ২৭৬টি। যার মধ্যে- ফাসিঁয়াখালী রেঞ্জে ৪৬টি, ঈদগড় রেঞ্জে ১১০টি, বাকঁখালী রেঞ্জে ১০০টি, জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জে ২৫টি। এছাড়াও দেড় শতাধিক ইউডিওর এবং সিওর মামলার লটও রয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো, প্রভাবশালী তিন ব্যক্তির দখলেই প্রায় ২ শতাধিক সামাজিক বনায়নের লট। বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বিশেষ সহযোগিতায় নিলামে বাজিমাৎ দেখিয়েছে তারা৷ এমনটাই জানা যায়। খোদ বনবিভাগের মধ্যেই কানাঘুষা চলছে, নিলামে বাজিমাৎ দেখানো তিন ব্যক্তির সাথেই রয়েছে ডিপোর পার্টনারশিপ লটের ব্যবসা ও কমিশন বানিজ্য। উচ্চপদস্থ বনকর্তারা যখন এই দূর্নীতি-অনিয়মের সাথে জড়িত হয়ে যায়, তখন নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রশ্ন চলে আসে।

জানা যায়, অধিকাংশ লটের নিলাম পাওয়া তিন প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা হলেন ডুলাহাজারার জয়নাল আবেদীন ভুট্টো ও আবছার এবং ঈদগড়ের আতর আলী। তারা সকলেই বনের চোরাই গাছ পাচার, পাহাড় কাটা, পাহাড়ি ছড়া থেকে বালি উত্তোলনসহ বনজ পরিবেশ ধ্বংসের মতোন নানান অপরাধে জড়িত।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য, টেন্ডার শিডিউল ফরম সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ অফিসে বিতরণ না করে, এবার বিতরণ করেছে ডিপো অফিস সংলগ্ন শহর রেঞ্জ অফিসে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বিশেষ নির্দেশনায় সাধারণ টেন্ডার শিডিউল ফরম ক্রয়কারীদেরকে শিডিউল ফরমের সাথে সংশ্লিষ্ট লটের তালিকা সরবরাহ করা হয়নি। লটের পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে টেন্ডার ফরম যথাযথভাবে জমা দিতে না পারার কথা জানান বশির ও আরফাত নামের দুজন টেন্ডার শিডিউল ফরম ক্রয়কারী। তারা প্রতিবেদককে জানান, ডিপোর সাথে যাদের সম্পর্ক ভালো তারাই টেন্ডার পাওয়ায় অবাক হয়েছি। সম্ভবত তাদের সাথে ডিপো’র গোপন কোন চুক্তি থাকতে পারে। আমাদেরকে শিডিউল ফরমের সাথে লট তালিকা দেওয়া না হলেও, যারা টেন্ডার পেয়েছে তাদেরকে দেওয়া হয়েছিলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন কর্মচারী জানান, ডিপো স্যারের ইশারা ছাড়া কারোর টেন্ডার পাওয়া অসম্ভব। বনবিভাগে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আছেন, তাদের সুবিধায় ওপেন টেন্ডার না করে এবার সীল টেন্ডার করা হয়। লটের বৈধ কাগজ নিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে শত কোটি টাকার চোরাই গাছ পাচারের সিন্ডিকেটের সাথেও জড়িত তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ডিপো মারুফ হোসেনকে বারবার মুঠোফোনে কল করা হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।