ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

এনসিপি নেত্রী অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমার ফেসবুক লাইভের প্রতিবাদে রসুলপুরে সংবাদ সম্মেলন

অন্তর মাহমুদ, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি: 

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা’র ফেসবুক লাইভে রসুলপুরকে কেন্দ্র করে দেওয়া মন্তব্যের প্রতিবাদে রসুলপুর এলাকাবাসী সংবাদ সম্মেলন করেছে । 

সোমবার ৮ ডিসেম্বর মনজিলা ঝুমা সকালে তার ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করেন, রসুলপুর এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নামে চাঁদাবাজি করছে । তার এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় রসুলপুরের সাধারণ মানুষ সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ।

সোমবার বিকালে রসুলপুর গ্রামে স্থানীয় মসজিদ সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত প্রতিবাদমুলক সংবাদ সম্মেলনে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিগন জানান, ওয়াজ মাহফিলটি ছিল সম্পূর্ণ এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজন করা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। সমাজের বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় অর্থ সহযোগিতা করে প্রতি বছরের মতো এবারও মাহফিলের আয়োজন করেছে । কোনোভাবেই চাঁদাবাজি বা জোরপূর্বক অর্থ নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

সমাজবাসীরা অভিযোগ করেন, মনজিল ঝুমার এমন ভিত্তিহীন ও অসত্য মন্তব্যে পুরো এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তারা বলেন, “আমরা নিজেরাই স্বেচ্ছায় যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী  টাকা দিয়ে মাহফিল করেছি । এখানে চাঁদাবাজির প্রশ্নই আসে না । মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তিনি আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করেছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, আমি নিজেও স্বেচ্ছায় ১ হাজার টাকা দিয়েছি । কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নেয়া হয় নাই । চাঁদাবাজির অপবাদ সম্পুর্ণ মিথ্যা আমরা এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাই। 

রসুলপুর সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রোকন উদ্দিন নাসির বলেন, আমরা প্রতিবছর স্বেচ্ছাশ্রমে নিজদের অর্থায়নে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করে থাকি। কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নেয়ার কোন অভিযোগ নাই। মনজিলা ঝুমা আমাদের সমাজের কেউ না । তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজ দাবি করে ফেসবুকে লাইভে পোস্ট দিয়েছেন । তার পোস্ট ডিলেট সহ পুনরায় ফেইসবুক লাইভে এসে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে মন্তব্য করেন ভিডিও নিউজগুলো এখন ।

রসুলপুর সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মানিক মিয়া বলেন, আমাদের সমাজে সব ধর্মীয় অনুষ্ঠানই স্বেচ্ছাশ্রমে হয়। এবারও সমাজের মানুষেরা যে যতো পারে ততো দিয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ নেই। কিন্তু আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাজকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই ।”

রসুলপুর মসজিদের পেশ ইমাম মো. হাফিজুল ইসলাম শিকদার বলেন, এলাকার মানুষ নিজেরাই স্বেচ্ছায় আয়োজন ওয়াজের আযোজন করেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এলাাকাবাসী তথা বিএনপিকে চাঁদাবাজির অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনজিলা ঝুমার এই ভিত্তিহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করি ।”

মনজিলা ঝুমা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি। তারা এমসিপি নেত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা ও যথাযথ তদন্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সংবাদ সম্মেলনে রসুলপুর এলাকার শতাধিক মানুষ এই প্রতিবাদে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

এনসিপি নেত্রী অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমার ফেসবুক লাইভের প্রতিবাদে রসুলপুরে সংবাদ সম্মেলন

০৮:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

অন্তর মাহমুদ, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি: 

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা’র ফেসবুক লাইভে রসুলপুরকে কেন্দ্র করে দেওয়া মন্তব্যের প্রতিবাদে রসুলপুর এলাকাবাসী সংবাদ সম্মেলন করেছে । 

সোমবার ৮ ডিসেম্বর মনজিলা ঝুমা সকালে তার ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করেন, রসুলপুর এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নামে চাঁদাবাজি করছে । তার এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় রসুলপুরের সাধারণ মানুষ সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ।

সোমবার বিকালে রসুলপুর গ্রামে স্থানীয় মসজিদ সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত প্রতিবাদমুলক সংবাদ সম্মেলনে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিগন জানান, ওয়াজ মাহফিলটি ছিল সম্পূর্ণ এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজন করা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। সমাজের বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় অর্থ সহযোগিতা করে প্রতি বছরের মতো এবারও মাহফিলের আয়োজন করেছে । কোনোভাবেই চাঁদাবাজি বা জোরপূর্বক অর্থ নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

সমাজবাসীরা অভিযোগ করেন, মনজিল ঝুমার এমন ভিত্তিহীন ও অসত্য মন্তব্যে পুরো এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তারা বলেন, “আমরা নিজেরাই স্বেচ্ছায় যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী  টাকা দিয়ে মাহফিল করেছি । এখানে চাঁদাবাজির প্রশ্নই আসে না । মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তিনি আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করেছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, আমি নিজেও স্বেচ্ছায় ১ হাজার টাকা দিয়েছি । কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নেয়া হয় নাই । চাঁদাবাজির অপবাদ সম্পুর্ণ মিথ্যা আমরা এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাই। 

রসুলপুর সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রোকন উদ্দিন নাসির বলেন, আমরা প্রতিবছর স্বেচ্ছাশ্রমে নিজদের অর্থায়নে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করে থাকি। কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নেয়ার কোন অভিযোগ নাই। মনজিলা ঝুমা আমাদের সমাজের কেউ না । তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজ দাবি করে ফেসবুকে লাইভে পোস্ট দিয়েছেন । তার পোস্ট ডিলেট সহ পুনরায় ফেইসবুক লাইভে এসে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে মন্তব্য করেন ভিডিও নিউজগুলো এখন ।

রসুলপুর সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মানিক মিয়া বলেন, আমাদের সমাজে সব ধর্মীয় অনুষ্ঠানই স্বেচ্ছাশ্রমে হয়। এবারও সমাজের মানুষেরা যে যতো পারে ততো দিয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ নেই। কিন্তু আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাজকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই ।”

রসুলপুর মসজিদের পেশ ইমাম মো. হাফিজুল ইসলাম শিকদার বলেন, এলাকার মানুষ নিজেরাই স্বেচ্ছায় আয়োজন ওয়াজের আযোজন করেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এলাাকাবাসী তথা বিএনপিকে চাঁদাবাজির অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনজিলা ঝুমার এই ভিত্তিহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করি ।”

মনজিলা ঝুমা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি। তারা এমসিপি নেত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা ও যথাযথ তদন্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সংবাদ সম্মেলনে রসুলপুর এলাকার শতাধিক মানুষ এই প্রতিবাদে একাত্মতা প্রকাশ করেন।