ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

মানিকগঞ্জের বানিয়াজুরী ইউনিয়ন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি অভিযোগ

মিরাজ খান (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়ন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ দাসের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারী আচরণের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এমন অভিযোগ করেছেন সহকর্মীরা।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিষ্ঠানের ২১ জন শিক্ষক ও কর্মচারী লিখিতভাবে অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে—পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি, বেতন আদায়সহ বিভিন্ন অজুহাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। ছাত্র জনতার গনঅদ্ভূথনের পর রবীন্দ্রনাথের অপসারণ চেয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষার্থীদের গণঅভ্যুত্থানের পরও বহাল তবিয়তেই রয়েছেন আওয়ামী লীগপন্থী প্রভাবশালী এই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরা লিখিত অভিযোগে শিক্ষক ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রশাসনিক কাজের জন্য সরকারি বাজেট আনুমোদিত ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানের কোন কাজে ব্যয় না করে ২১ টি খাত দেখিয়ে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৭শ টাকা নিজে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। টাকা আত্মসাৎতের বিষয় অস্বীকার করলেও উপজেলা হিসাবরক্ষক অফিসে খোঁজ গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে।

প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পোশাকের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত টাকা সংশ্লিষ্টদের না দিয়ে তিনি অবৈধ পন্থায় নিজে আত্মসাৎ করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগের পর কর্মচারীদের ১৫০০ করে টাকা দিয়েছে বলে জানা যায়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান থেকেও ইন্টারনেট বিল, কম্পিউটার সংক্রান্ত খরচ, ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ টাকা উত্তোলন করেন। পানির বিল, আসবাবপত্র, বই ও সাময়িকি, রাসায়নিক দ্রব্য, ক্রীড়া সামগ্রীর ক্রয় দেখিয়েও ভূয়া বিল ভাইচারে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করেছেন। অথচ উল্লেখিত খাতে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন কাজ হয়নি হয়নি বলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। তাছাড়া পানির বিল বিষয়ে কোন খাত অত্র প্রতিষ্ঠানে নেই বলেও জানা যায়। এদিকে ২০২৪ এবং ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর ভর্তির টাকা নীতিমালা অনুযায়ী খরচ না করে ব্যক্তিগতভাবে খরচ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সেশনের সরকারি শিক্ষকদের এ সি আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা না দিয়ে নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রাখার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে।

বানিয়াজুরী ইউনিয়ন সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের আভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি এবং সকল শিক্ষক মন্ডলী একত্রিত হয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, কর্মচারীদের পোশাকের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত টাকা সংশ্লিষ্টদের না দিয়ে তিনি অবৈধ পন্থায় নিজে আত্মসাৎ করেন। প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরীর বইয়ের জন্য অর্থ বাধ্য থাকলেও বই সংগ্রহ করছে না। তাছাড়া স্কুল এন্ড কলেজের স্কুল শাখায় শিক্ষক সংকট থাকলেও কলেজের কোন শিক্ষক প্রক্সিক্লাস না নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে অর্থ আত্মসাৎতের অভিযোগের বিষয়ে

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ দাস এর কাছে জানতে চাইলে, শিক্ষকদের জানিয়ে দেন এ বিষয়ে তার (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) কিছুই জানা নেই। কে বা কারা তার স্বাক্ষর নকল করে এটা করেছে। অধ্যক্ষ নিজেই উদ্যোগী হয়ে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য গত ১৫ই অক্টোবর তিন সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সে কমিটিতে রাখা হয়েছিল বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মোনায়েম হোসেন খান, মোঃ হেলাল উদ্দিন ও মোঃ নাজিম উদ্দিনকে। গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ দাস উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে একাধারে তিনদিন প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেন। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানে আসলে তার নিজের হাতে গঠিত তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে গেলেন গত ২৬ অক্টোবর রহস্যজনক কারণে তদন্ত কমিটি বাতিল করে আবার পরিপত্র জারি করেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মোনায়েম খান বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্যার আমাদের ওপর কতটা মানসিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন, তা বলে বোঝানো যাবে না । তার অর্থ কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির সীমানা পেরিয়ে গেছে। যার কারণে আমরা বাধ্য হয়ে তার সকল অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি। অভিযোগ করার কারণে আমাদের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। উচ্চপর্যায়ে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা না নেয়া হলে স্বনামধন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম আরো ক্ষুন্ন হয়ে যাবে। আমরা চাই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার।

জেলা প্রশাসকের কাছে শিক্ষকরা অভিযোগ দেয়ার পর সুর পাল্টে যায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের, নিজের কিছু ভুলের কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, টাকা কিভাবে উত্তোলন হয়েছে বিষয়টি আমি বুঝতে পারিনি। আমার হয়তো কোথাও ভুল ছিল। শিক্ষকরা আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছে, তা বেশিরভাগই সত্য নয়। প্রমানিত হলে সব শাস্তি আমি মাথা পেতে নেব। তিনি আরো বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আমার অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ করেছে। কি কারনে করেছে সেটা জানিনা।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম বলেন,ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত আছি।
তিনি আরো বলেন বিষয়টি তদন্ত চলছে তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিকট বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জবিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩

মানিকগঞ্জের বানিয়াজুরী ইউনিয়ন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি অভিযোগ

০৬:০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

মিরাজ খান (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়ন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ দাসের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারী আচরণের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এমন অভিযোগ করেছেন সহকর্মীরা।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিষ্ঠানের ২১ জন শিক্ষক ও কর্মচারী লিখিতভাবে অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে—পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি, বেতন আদায়সহ বিভিন্ন অজুহাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। ছাত্র জনতার গনঅদ্ভূথনের পর রবীন্দ্রনাথের অপসারণ চেয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষার্থীদের গণঅভ্যুত্থানের পরও বহাল তবিয়তেই রয়েছেন আওয়ামী লীগপন্থী প্রভাবশালী এই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরা লিখিত অভিযোগে শিক্ষক ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রশাসনিক কাজের জন্য সরকারি বাজেট আনুমোদিত ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানের কোন কাজে ব্যয় না করে ২১ টি খাত দেখিয়ে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৭শ টাকা নিজে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। টাকা আত্মসাৎতের বিষয় অস্বীকার করলেও উপজেলা হিসাবরক্ষক অফিসে খোঁজ গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে।

প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পোশাকের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত টাকা সংশ্লিষ্টদের না দিয়ে তিনি অবৈধ পন্থায় নিজে আত্মসাৎ করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগের পর কর্মচারীদের ১৫০০ করে টাকা দিয়েছে বলে জানা যায়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান থেকেও ইন্টারনেট বিল, কম্পিউটার সংক্রান্ত খরচ, ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ টাকা উত্তোলন করেন। পানির বিল, আসবাবপত্র, বই ও সাময়িকি, রাসায়নিক দ্রব্য, ক্রীড়া সামগ্রীর ক্রয় দেখিয়েও ভূয়া বিল ভাইচারে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করেছেন। অথচ উল্লেখিত খাতে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন কাজ হয়নি হয়নি বলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। তাছাড়া পানির বিল বিষয়ে কোন খাত অত্র প্রতিষ্ঠানে নেই বলেও জানা যায়। এদিকে ২০২৪ এবং ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর ভর্তির টাকা নীতিমালা অনুযায়ী খরচ না করে ব্যক্তিগতভাবে খরচ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সেশনের সরকারি শিক্ষকদের এ সি আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা না দিয়ে নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রাখার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে।

বানিয়াজুরী ইউনিয়ন সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের আভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি এবং সকল শিক্ষক মন্ডলী একত্রিত হয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, কর্মচারীদের পোশাকের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত টাকা সংশ্লিষ্টদের না দিয়ে তিনি অবৈধ পন্থায় নিজে আত্মসাৎ করেন। প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরীর বইয়ের জন্য অর্থ বাধ্য থাকলেও বই সংগ্রহ করছে না। তাছাড়া স্কুল এন্ড কলেজের স্কুল শাখায় শিক্ষক সংকট থাকলেও কলেজের কোন শিক্ষক প্রক্সিক্লাস না নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে অর্থ আত্মসাৎতের অভিযোগের বিষয়ে

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ দাস এর কাছে জানতে চাইলে, শিক্ষকদের জানিয়ে দেন এ বিষয়ে তার (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) কিছুই জানা নেই। কে বা কারা তার স্বাক্ষর নকল করে এটা করেছে। অধ্যক্ষ নিজেই উদ্যোগী হয়ে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য গত ১৫ই অক্টোবর তিন সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সে কমিটিতে রাখা হয়েছিল বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মোনায়েম হোসেন খান, মোঃ হেলাল উদ্দিন ও মোঃ নাজিম উদ্দিনকে। গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ দাস উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে একাধারে তিনদিন প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেন। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানে আসলে তার নিজের হাতে গঠিত তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে গেলেন গত ২৬ অক্টোবর রহস্যজনক কারণে তদন্ত কমিটি বাতিল করে আবার পরিপত্র জারি করেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মোনায়েম খান বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্যার আমাদের ওপর কতটা মানসিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন, তা বলে বোঝানো যাবে না । তার অর্থ কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির সীমানা পেরিয়ে গেছে। যার কারণে আমরা বাধ্য হয়ে তার সকল অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি। অভিযোগ করার কারণে আমাদের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। উচ্চপর্যায়ে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা না নেয়া হলে স্বনামধন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম আরো ক্ষুন্ন হয়ে যাবে। আমরা চাই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার।

জেলা প্রশাসকের কাছে শিক্ষকরা অভিযোগ দেয়ার পর সুর পাল্টে যায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের, নিজের কিছু ভুলের কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, টাকা কিভাবে উত্তোলন হয়েছে বিষয়টি আমি বুঝতে পারিনি। আমার হয়তো কোথাও ভুল ছিল। শিক্ষকরা আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছে, তা বেশিরভাগই সত্য নয়। প্রমানিত হলে সব শাস্তি আমি মাথা পেতে নেব। তিনি আরো বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আমার অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ করেছে। কি কারনে করেছে সেটা জানিনা।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম বলেন,ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ সম্পর্কে আমি অবগত আছি।
তিনি আরো বলেন বিষয়টি তদন্ত চলছে তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিকট বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করা হবে।