ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

সূর্যমুখী চাষে স্বপ্ন দেখছেন ডুমুরিয়ার কৃষক সনজ্ঞয়,কৃষি অফিসের সহায়তায় পেলেন সূর্যমুখী মাড়াই যন্ত্র

খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধিঃ

সূর্যের মত মুখ তার, নাম তাই সূর্যমুখী। উজ্জ্বল আভায় রূপ ছড়ানো এই ফুলের সৌন্দর্যে যে কেউ মুগ্ধ হতে পারেন। সবুজের মাঠে হলুদের মাঠটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। তবে সূর্যমুখী চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ডুমুরিয়ার প্রান্তিক চাষিরা।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের হাজিবুনিয়া গ্রামের সনজ্ঞয় ঢালী নামের এক কৃষক সূর্যমুখী চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
সূর্যমুখী চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ায় ২৪-২৫ অর্থ বছরে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ২৯ -পেড়িখালী ব্লক এর আওতাধীন কৃষক সনজ্ঞয় ঢালীকে বিনামুল্য সূর্যমুখী মাড়াই যন্ত্র দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকাল ৩ টায় উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিন ও পেড়িখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুধা রাণী জোদ্দার সহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের উপস্থিতে এ সূর্যমুখী মাড়াই যন্ত্র দেয়া হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, সূর্যমুখী ফুল চাষ করতে কম সময় আর স্বল্প খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় সুযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রান্তিক কৃষকদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। একজন কৃষকের দেখাদেখি অন্যান্যরাও সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলেও জানা গেছে।

কৃষক সনজ্ঞয় ঢালী বলেন, সূর্যমুখী ফুলের চাষে এক বিঘা জমিতে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। ফসল কেটে ঘরে তুলতে আরো কিছু টাকা খরচ হবে। পুরো ফসলে সামান্য রাসায়নিক সার আর দুইবার সেচ দিতে হয় বাগানে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে আমি ভালো ফলন পেয়েছি। এবার আমার আরো বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষের পরিকল্পনা আছে। আমি এতে অনেক বেশি খুশি। তিনি আরোও বলেন আমি ১ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হয়েছি। ১ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করলে ৫/৭ জন সদস্যের দুটো পরিবারের সারা বছরের ভৈজ্য তেলের যোগান দেয়া সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, সূর্যমুখী ফুলের চাষিদের কৃষি অফিস থেকে বীজসহ সার্বিক সহযোগীতা দেওয়া হয়ে থাকে । এটা বর্তমান সরকারের বড় ধরণের সাফল্য। এখন ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সনজ্ঞয় ঢালীর মত অন্যান্য চাষিও সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছে। ডুমুরিয়া অঞ্চল সূর্যমুখী চাষে উপযোগী হওয়ায় দিন দিন কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সূর্যমুখী ফুলের আবাদে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও পরার্মশ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিকেজি সূর্যমুখীর বীজের দাম ২২ টাকা। সুর্যমুখী তেলের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকা। এই তেল অনেক পুষ্টিকর এবং অন্য তেলের চেয়ে অনেক ভালো। সূর্যমুখীর বীজে তেল ছাড়াও খৌল হয়, যা দিয়ে মাছের খাবার এবং জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সূর্যমুখীর উৎপাদনে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ নেই। প্রান্তিক কৃষকদের আরো সার্বিক সহযোগিতা ও সূর্যমূখী চাষে আগ্রহী করে তুললে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে চাষ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সূর্যমুখী চাষের বাণিজ্যিক গুরুত্ব হলো এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোজ্যতেল ফসল, যা কম খরচে বেশি লাভ দেয় এবং স্থানীয় তেলের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। এর বীজ থেকে কোলেস্টেরল-মুক্ত তেল পাওয়া যায় যা স্বাস্থ্যকর। এছাড়া, সূর্যমুখীর ফুল থেকে হলুদ রঙ এবং পাতা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বাড়ায়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

সূর্যমুখী চাষে স্বপ্ন দেখছেন ডুমুরিয়ার কৃষক সনজ্ঞয়,কৃষি অফিসের সহায়তায় পেলেন সূর্যমুখী মাড়াই যন্ত্র

১০:০২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধিঃ

সূর্যের মত মুখ তার, নাম তাই সূর্যমুখী। উজ্জ্বল আভায় রূপ ছড়ানো এই ফুলের সৌন্দর্যে যে কেউ মুগ্ধ হতে পারেন। সবুজের মাঠে হলুদের মাঠটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। তবে সূর্যমুখী চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ডুমুরিয়ার প্রান্তিক চাষিরা।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের হাজিবুনিয়া গ্রামের সনজ্ঞয় ঢালী নামের এক কৃষক সূর্যমুখী চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
সূর্যমুখী চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ায় ২৪-২৫ অর্থ বছরে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ২৯ -পেড়িখালী ব্লক এর আওতাধীন কৃষক সনজ্ঞয় ঢালীকে বিনামুল্য সূর্যমুখী মাড়াই যন্ত্র দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকাল ৩ টায় উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিন ও পেড়িখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুধা রাণী জোদ্দার সহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের উপস্থিতে এ সূর্যমুখী মাড়াই যন্ত্র দেয়া হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, সূর্যমুখী ফুল চাষ করতে কম সময় আর স্বল্প খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় সুযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রান্তিক কৃষকদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। একজন কৃষকের দেখাদেখি অন্যান্যরাও সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলেও জানা গেছে।

কৃষক সনজ্ঞয় ঢালী বলেন, সূর্যমুখী ফুলের চাষে এক বিঘা জমিতে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। ফসল কেটে ঘরে তুলতে আরো কিছু টাকা খরচ হবে। পুরো ফসলে সামান্য রাসায়নিক সার আর দুইবার সেচ দিতে হয় বাগানে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে আমি ভালো ফলন পেয়েছি। এবার আমার আরো বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষের পরিকল্পনা আছে। আমি এতে অনেক বেশি খুশি। তিনি আরোও বলেন আমি ১ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হয়েছি। ১ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করলে ৫/৭ জন সদস্যের দুটো পরিবারের সারা বছরের ভৈজ্য তেলের যোগান দেয়া সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, সূর্যমুখী ফুলের চাষিদের কৃষি অফিস থেকে বীজসহ সার্বিক সহযোগীতা দেওয়া হয়ে থাকে । এটা বর্তমান সরকারের বড় ধরণের সাফল্য। এখন ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সনজ্ঞয় ঢালীর মত অন্যান্য চাষিও সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছে। ডুমুরিয়া অঞ্চল সূর্যমুখী চাষে উপযোগী হওয়ায় দিন দিন কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সূর্যমুখী ফুলের আবাদে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও পরার্মশ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিকেজি সূর্যমুখীর বীজের দাম ২২ টাকা। সুর্যমুখী তেলের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকা। এই তেল অনেক পুষ্টিকর এবং অন্য তেলের চেয়ে অনেক ভালো। সূর্যমুখীর বীজে তেল ছাড়াও খৌল হয়, যা দিয়ে মাছের খাবার এবং জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সূর্যমুখীর উৎপাদনে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ নেই। প্রান্তিক কৃষকদের আরো সার্বিক সহযোগিতা ও সূর্যমূখী চাষে আগ্রহী করে তুললে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে চাষ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সূর্যমুখী চাষের বাণিজ্যিক গুরুত্ব হলো এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোজ্যতেল ফসল, যা কম খরচে বেশি লাভ দেয় এবং স্থানীয় তেলের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। এর বীজ থেকে কোলেস্টেরল-মুক্ত তেল পাওয়া যায় যা স্বাস্থ্যকর। এছাড়া, সূর্যমুখীর ফুল থেকে হলুদ রঙ এবং পাতা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বাড়ায়।