ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

লটারির আড়ালে দেদারসে জুয়া,খোলাহাটি বদরগঞ্জ শিল্প বাণিজ্য মেলা ঘিরে চরম উত্তেজনা, বাড়ছে অপরাধ!

মেসবাহ সৌরভ, নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি,দিনাজপুর।

প্রশাসনের নাকের ডগায়, দিনাজপুরের খোলাহাটি বদরগঞ্জ শিল্প বাণিজ্য মেলা এখন নিত্যনতুন বিতর্ক ও অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ‘আকর্ষণীয় লটারি’র ছদ্মবেশে মেলার প্রাঙ্গণ থেকে আশপাশের গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে অবৈধ জুয়ার কারবার, যা সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন নিঃস্ব করে দিচ্ছে।

মেলার মূল আকর্ষণ এখন আর পণ্য বা বিনোদন নয়, বরং প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত লটারি। অভিযোগ উঠেছে, মেলার নির্দিষ্ট স্টল ছাড়াও একদল সংঘবদ্ধ চক্র খোলাহাটি, বদরগঞ্জ সহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে  ঘুরে ঘুরে টিকিট বিক্রি করছে। দরিদ্র মানুষজন ‘সহজলভ্য ধন’-এর প্রলোভনে দৈনিক মজুরি বা সঞ্চয় হারিয়ে ফেলছেন।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান,
“আমরা মেলায় কেনাকাটা করতে এসেছিলাম, কিন্তু চারদিকই শুধু লটারির হাক-ডাক। পুরস্কারের লোভে অনেকেই দৈনিক ১০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ করছেন। এটা তো দিনের আলোয় ডাকাতি!”

লটারির জুয়া কেবল টাকা হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অভিযোগ, জেতার প্রত্যাশায় অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও ছোটখাটো অপরাধ বেড়েছে। বহু পরিবারের শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে, কারণ পরিবারের প্রধানরা রোজগারের অর্থ জুয়ায় হারাচ্ছেন।
এক অভিভাবক বলেন,
“শিশু-কিশোররাও লটারির শিকার হচ্ছে। পড়াশোনা ছেড়ে তারা টিকিট কিনতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।”
এটি সামাজিক অবক্ষয়ের একটি স্পষ্ট সংকেত।

যদিও মেলায় পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতি রয়েছে, তবুও অবৈধ জুয়ার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, মেলার নিরাপত্তা মূলত বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু লটারির আড়ালে চলা জুয়ার ওপর নজরদারি নেই।
খোলাহাটি বাজার সমিতির এক নেতা জানান,
“আমরা চাই প্রশাসন অবিলম্বে এই জুয়ার ফাঁদ বন্ধ করুক। মেলা জনগণের বিনোদন ও বাণিজ্যের জন্য, জুয়ার আখড়ার জন্য নয়।”

মেলার দর্শক ও সাধারণ মানুষকে লটারির টিকিট কেটে অর্থ খেলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার জন্য বলা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জনমহল জোর দাবি জানাচ্ছে, প্রশাসন যেন দ্রুত অবৈধ জুয়া চক্র ভেঙে মেলায় শান্তি ও সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

লটারির আড়ালে দেদারসে জুয়া,খোলাহাটি বদরগঞ্জ শিল্প বাণিজ্য মেলা ঘিরে চরম উত্তেজনা, বাড়ছে অপরাধ!

০৮:০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

মেসবাহ সৌরভ, নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি,দিনাজপুর।

প্রশাসনের নাকের ডগায়, দিনাজপুরের খোলাহাটি বদরগঞ্জ শিল্প বাণিজ্য মেলা এখন নিত্যনতুন বিতর্ক ও অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ‘আকর্ষণীয় লটারি’র ছদ্মবেশে মেলার প্রাঙ্গণ থেকে আশপাশের গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে অবৈধ জুয়ার কারবার, যা সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন নিঃস্ব করে দিচ্ছে।

মেলার মূল আকর্ষণ এখন আর পণ্য বা বিনোদন নয়, বরং প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত লটারি। অভিযোগ উঠেছে, মেলার নির্দিষ্ট স্টল ছাড়াও একদল সংঘবদ্ধ চক্র খোলাহাটি, বদরগঞ্জ সহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে  ঘুরে ঘুরে টিকিট বিক্রি করছে। দরিদ্র মানুষজন ‘সহজলভ্য ধন’-এর প্রলোভনে দৈনিক মজুরি বা সঞ্চয় হারিয়ে ফেলছেন।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান,
“আমরা মেলায় কেনাকাটা করতে এসেছিলাম, কিন্তু চারদিকই শুধু লটারির হাক-ডাক। পুরস্কারের লোভে অনেকেই দৈনিক ১০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ করছেন। এটা তো দিনের আলোয় ডাকাতি!”

লটারির জুয়া কেবল টাকা হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অভিযোগ, জেতার প্রত্যাশায় অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও ছোটখাটো অপরাধ বেড়েছে। বহু পরিবারের শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে, কারণ পরিবারের প্রধানরা রোজগারের অর্থ জুয়ায় হারাচ্ছেন।
এক অভিভাবক বলেন,
“শিশু-কিশোররাও লটারির শিকার হচ্ছে। পড়াশোনা ছেড়ে তারা টিকিট কিনতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।”
এটি সামাজিক অবক্ষয়ের একটি স্পষ্ট সংকেত।

যদিও মেলায় পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতি রয়েছে, তবুও অবৈধ জুয়ার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, মেলার নিরাপত্তা মূলত বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু লটারির আড়ালে চলা জুয়ার ওপর নজরদারি নেই।
খোলাহাটি বাজার সমিতির এক নেতা জানান,
“আমরা চাই প্রশাসন অবিলম্বে এই জুয়ার ফাঁদ বন্ধ করুক। মেলা জনগণের বিনোদন ও বাণিজ্যের জন্য, জুয়ার আখড়ার জন্য নয়।”

মেলার দর্শক ও সাধারণ মানুষকে লটারির টিকিট কেটে অর্থ খেলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার জন্য বলা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জনমহল জোর দাবি জানাচ্ছে, প্রশাসন যেন দ্রুত অবৈধ জুয়া চক্র ভেঙে মেলায় শান্তি ও সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনে।