ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

ঘোড়াঘাটে নতুন বরকে পাশের ঘরে রেখে নববধূর আত্মহনন

মাহফুজুর রহমান সরকার,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

নতুন বরকে নিয়ে যখন সবাই টিভি দেখছিলেন। তখন পাশের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সুমনা (১৯) নামে এক নববধূ। এমনি এক ঘটনা ঘটছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে। মেহেদীর রং না মুছতেই রহস্যজনক কারণে নানার বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। 

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত অনুমান সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার পালশা ইউনিয়নের চৌধুরী গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সুমনা আক্তার ওই ইউনিয়নের চাটশাল সোনারপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়ার মেয়ে। ছোট বেলা থেকেই সে তাঁর নানার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুমনার বাবা-মা দু’জনে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাই ছোট বেলা থেকেই সে তার নানা-নানীর কাছে থাকতেন। হঠাৎ করে ১৮ আগস্ট সুমনার সাথে পার্শ্ববর্তী চৌরিয়া গ্রামের আব্দুস সোবহানের সাথে বিয়ে হয়। জামাই আব্দুস সোবহান পেশায় একজন কৃষক। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতেই ছিলেন সুমনা। মঙ্গলবার সকাল অনুমান ১০ টার দিকে ৯ দিন পর নানার বাড়িতে স্বামীকে নিয়ে বেড়াতে আসেন সুমনা। রাতে যখন সবাই টিভি দেখছিলেন, তখন সুমনা সকলের অজান্তে পাশের ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে বাড়ির লোকজন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তাকে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমনার মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, কিছু দিন আগে নানা মোজাফফর হোসেন পাশের গ্রামের আব্দুস সোবহানের সাথে তাঁর নাতনি সুমনাকে বিয়ে দেন। মেয়ে নানার বাড়ি বেড়াতে এসে এ ঘটনা ঘটায়। 

তিনি আরও জানান, সুমনার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। ইতিপূর্বে এক মামাতো ভাইয়ের সাথে সুমনার বিয়ে হয়েছিল। দুই বছর আগে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। অন্য দিকে আব্দুস সুবহানেরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তিন মাস পূর্ব আব্দুস সোবহানেরও প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাঁদের নতুন বিবাহিত জীবন। আসলে কেন আত্মহত্যা করেছে তা বুঝতে পারছি না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান,ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মৃত্যুর কারণ সন্ধানে তদন্ত চলছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

ঘোড়াঘাটে নতুন বরকে পাশের ঘরে রেখে নববধূর আত্মহনন

০৩:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

মাহফুজুর রহমান সরকার,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

নতুন বরকে নিয়ে যখন সবাই টিভি দেখছিলেন। তখন পাশের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সুমনা (১৯) নামে এক নববধূ। এমনি এক ঘটনা ঘটছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে। মেহেদীর রং না মুছতেই রহস্যজনক কারণে নানার বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। 

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত অনুমান সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার পালশা ইউনিয়নের চৌধুরী গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সুমনা আক্তার ওই ইউনিয়নের চাটশাল সোনারপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়ার মেয়ে। ছোট বেলা থেকেই সে তাঁর নানার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুমনার বাবা-মা দু’জনে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাই ছোট বেলা থেকেই সে তার নানা-নানীর কাছে থাকতেন। হঠাৎ করে ১৮ আগস্ট সুমনার সাথে পার্শ্ববর্তী চৌরিয়া গ্রামের আব্দুস সোবহানের সাথে বিয়ে হয়। জামাই আব্দুস সোবহান পেশায় একজন কৃষক। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতেই ছিলেন সুমনা। মঙ্গলবার সকাল অনুমান ১০ টার দিকে ৯ দিন পর নানার বাড়িতে স্বামীকে নিয়ে বেড়াতে আসেন সুমনা। রাতে যখন সবাই টিভি দেখছিলেন, তখন সুমনা সকলের অজান্তে পাশের ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে বাড়ির লোকজন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তাকে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমনার মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, কিছু দিন আগে নানা মোজাফফর হোসেন পাশের গ্রামের আব্দুস সোবহানের সাথে তাঁর নাতনি সুমনাকে বিয়ে দেন। মেয়ে নানার বাড়ি বেড়াতে এসে এ ঘটনা ঘটায়। 

তিনি আরও জানান, সুমনার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। ইতিপূর্বে এক মামাতো ভাইয়ের সাথে সুমনার বিয়ে হয়েছিল। দুই বছর আগে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। অন্য দিকে আব্দুস সুবহানেরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তিন মাস পূর্ব আব্দুস সোবহানেরও প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাঁদের নতুন বিবাহিত জীবন। আসলে কেন আত্মহত্যা করেছে তা বুঝতে পারছি না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান,ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মৃত্যুর কারণ সন্ধানে তদন্ত চলছে।