ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

পাথরঘাটায় ৪ কোটি টাকার প্রকল্পে মাত্র ১০ লাখ টাকার কাজ! ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার পাথরঘাটায় কাবিখা, কাবিটা (খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ) ও টিআর প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প কাগজে-কলমে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো চিহ্ন নেই বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। সরেজমিন পরিদর্শনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাথরঘাটা উপজেলায় এসব প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা। এর মধ্যে ২১ লাখ টাকারও কাজ হয়নি।

প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী, কাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, কমিটির নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করে বাধ্যতামূলকভাবে সাইনবোর্ড স্থাপন করার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। এ অনিয়মের সাথে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম এবং সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের কার্যসহকারী মোঃ স্বপন জড়িত বলে জানিয়েছেন ওই অফিসের একাধিক কর্মকর্তা। কথিত উন্নয়নের নামে পাথরঘাটায় কাগজে-কলমে চলছে কোটি টাকার বাণিজ্য—বাস্তবে কাজ না করেই হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে সরকারি অর্থ। স্থানীয়দের একটাই দাবি: সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাথরঘাটা উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ১৫০টি প্রকল্পের কাজ করার কথা ছিল। কাগজে-কলমে এসব প্রকল্পের নাম থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে এই কাজের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এসব প্রকল্পের কাজে অনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার কাজ হয়েছে মাত্র।

সরেজমিনে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বরইতলা গ্রামের খাইরুলের বাড়ি থেকে ছগির মিনার বাড়ি পর্যন্ত মাটি ভরাটের জন্য ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা, আশরাফ আলীর বাড়ি থেকে কবির দফাদার বাড়ি পর্যন্ত আরও একটি প্রকল্পে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টাকা এবং একই রাস্তায় আরও দুটি প্রকল্পের আওতায় ২০ টন গম (সরকারি মূল্য প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা) ও নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, উত্তর হাতিমপুর এলাকার মালেক মাস্টারের বাড়ি থেকে আলমের ঘের পর্যন্ত মাটির রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১০৩ নং মাছরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা, নিজলাঠিমারা এসকান্দারের বাড়ি থেকে কিল্লাগামী মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য ১২ টন চাল (সরকারি মূল্য ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬৮ টাকা), একই এলাকার একটি পার্শ্ব রাস্তায় আরও ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ রাস্তায় কাজ না করেই বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে একজন ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের সভাপতি হতে পারেন না। অথচ কাগজে-কলমে দেখা গেছে, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সগীর আলম একাই ৯টি প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন এবং এসব প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম হাজী, মোঃ সগীর, সাহিন পঞ্চায়েত ও আবুল কালাম বলেন, গত দুই বছরে এই রাস্তাগুলোতে কোনো কাজ করতে দেখা যায়নি। মনে হয়েছিল ৫ আগস্টের পরে আগের দুর্নীতিবাজরা চলে গেছে, কিন্তু এখন দেখি আগের চেয়ে আরও বড় চোর এসে বসেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অধিকাংশই কাগজে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং তারা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মাছরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী অধিকারী বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সময়ে এক জাহাজ বালু ফেলেছেন, তা আমরা জানি না। এই এক জাহাজ বালুর দাম ১৫ হাজার টাকা, কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা। এসব কিছুই স্থানীয় সদস্য নিজে করেছেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্যসহকারী মোঃ স্বপন জানান, অফিসের সব কাজ করেছেন পিআইও। তিনি দেখে দেখে বিল পাস করেছেন। এর দায়ভার তারই। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

সাবেক ইউপি সদস্য শাহিন মোল্লা বলেন, ইউএনও বরাবর অভিযোগ করলেও তিনি শুধু পিআইওকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সব বিল পরিশোধ করেছেন। ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকার প্রকল্পের বিপরীতে ১০ লাখ টাকার দৃশ্যমান কাজও দেখানো সম্ভব না। এমন লুটপাট আমি জীবনে দেখিনি।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সগীর আলম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সব প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। একাধিক প্রকল্পে এক ব্যক্তির নাম থাকা যাবে না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে অনেক প্রকল্পে তার নাম রাখা হয়েছে। প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রুনু বেগমের কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে বলেন এবং কোনো মন্তব্য না করে তার অফিস ত্যাগ করেন।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, যেসব প্রকল্পের কাজ হয়নি, সেই প্রকল্প সম্পর্কে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ না হলে প্রকল্পের টাকা ফেরতের বিধান রয়েছে, আমরা আইনগতভাবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, পাথরঘাটার মতো এমন অনিয়ম কোথাও হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। কাজগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। পিআইও অফিস কোনো সঠিক তদারকি করেনি। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাই।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

পাথরঘাটায় ৪ কোটি টাকার প্রকল্পে মাত্র ১০ লাখ টাকার কাজ! ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ

১১:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার পাথরঘাটায় কাবিখা, কাবিটা (খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ) ও টিআর প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প কাগজে-কলমে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো চিহ্ন নেই বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। সরেজমিন পরিদর্শনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাথরঘাটা উপজেলায় এসব প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা। এর মধ্যে ২১ লাখ টাকারও কাজ হয়নি।

প্রকল্পের পরিপত্র অনুযায়ী, কাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, কমিটির নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করে বাধ্যতামূলকভাবে সাইনবোর্ড স্থাপন করার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। এ অনিয়মের সাথে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম এবং সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের কার্যসহকারী মোঃ স্বপন জড়িত বলে জানিয়েছেন ওই অফিসের একাধিক কর্মকর্তা। কথিত উন্নয়নের নামে পাথরঘাটায় কাগজে-কলমে চলছে কোটি টাকার বাণিজ্য—বাস্তবে কাজ না করেই হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে সরকারি অর্থ। স্থানীয়দের একটাই দাবি: সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাথরঘাটা উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ১৫০টি প্রকল্পের কাজ করার কথা ছিল। কাগজে-কলমে এসব প্রকল্পের নাম থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে এই কাজের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এসব প্রকল্পের কাজে অনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার কাজ হয়েছে মাত্র।

সরেজমিনে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বরইতলা গ্রামের খাইরুলের বাড়ি থেকে ছগির মিনার বাড়ি পর্যন্ত মাটি ভরাটের জন্য ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা, আশরাফ আলীর বাড়ি থেকে কবির দফাদার বাড়ি পর্যন্ত আরও একটি প্রকল্পে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টাকা এবং একই রাস্তায় আরও দুটি প্রকল্পের আওতায় ২০ টন গম (সরকারি মূল্য প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা) ও নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, উত্তর হাতিমপুর এলাকার মালেক মাস্টারের বাড়ি থেকে আলমের ঘের পর্যন্ত মাটির রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১০৩ নং মাছরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা, নিজলাঠিমারা এসকান্দারের বাড়ি থেকে কিল্লাগামী মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য ১২ টন চাল (সরকারি মূল্য ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬৮ টাকা), একই এলাকার একটি পার্শ্ব রাস্তায় আরও ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ রাস্তায় কাজ না করেই বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে একজন ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের সভাপতি হতে পারেন না। অথচ কাগজে-কলমে দেখা গেছে, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সগীর আলম একাই ৯টি প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন এবং এসব প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম হাজী, মোঃ সগীর, সাহিন পঞ্চায়েত ও আবুল কালাম বলেন, গত দুই বছরে এই রাস্তাগুলোতে কোনো কাজ করতে দেখা যায়নি। মনে হয়েছিল ৫ আগস্টের পরে আগের দুর্নীতিবাজরা চলে গেছে, কিন্তু এখন দেখি আগের চেয়ে আরও বড় চোর এসে বসেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অধিকাংশই কাগজে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং তারা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মাছরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী অধিকারী বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সময়ে এক জাহাজ বালু ফেলেছেন, তা আমরা জানি না। এই এক জাহাজ বালুর দাম ১৫ হাজার টাকা, কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা। এসব কিছুই স্থানীয় সদস্য নিজে করেছেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্যসহকারী মোঃ স্বপন জানান, অফিসের সব কাজ করেছেন পিআইও। তিনি দেখে দেখে বিল পাস করেছেন। এর দায়ভার তারই। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

সাবেক ইউপি সদস্য শাহিন মোল্লা বলেন, ইউএনও বরাবর অভিযোগ করলেও তিনি শুধু পিআইওকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সব বিল পরিশোধ করেছেন। ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকার প্রকল্পের বিপরীতে ১০ লাখ টাকার দৃশ্যমান কাজও দেখানো সম্ভব না। এমন লুটপাট আমি জীবনে দেখিনি।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সগীর আলম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সব প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। একাধিক প্রকল্পে এক ব্যক্তির নাম থাকা যাবে না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে অনেক প্রকল্পে তার নাম রাখা হয়েছে। প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রুনু বেগমের কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে বলেন এবং কোনো মন্তব্য না করে তার অফিস ত্যাগ করেন।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, যেসব প্রকল্পের কাজ হয়নি, সেই প্রকল্প সম্পর্কে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ না হলে প্রকল্পের টাকা ফেরতের বিধান রয়েছে, আমরা আইনগতভাবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, পাথরঘাটার মতো এমন অনিয়ম কোথাও হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। কাজগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। পিআইও অফিস কোনো সঠিক তদারকি করেনি। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাই।