ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

মেয়ের হাতে পিতার নির্মম মৃত্যু: সমাজ কি তবে পুরুষের কষ্ট দেখতে পায় না?

✍ লেখক: মোঃ ওসমান গণি ইলি

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমাদের সমাজ আবারও একটি অপ্রিয় সত্যের মুখোমুখি হলো—পুরুষ নির্যাতনও বাস্তব, এবং তা কখনো কখনো জীবন কেড়ে নেয়।

ঘটনাটি ছিল অবিশ্বাস্য এবং একইসাথে মর্মান্তিক। এক তরুণী, যার সমকামী সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল, এক পর্যায়ে নিজ পিতার নৈতিক প্রতিবাদকে ‘অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করে। বাড়িতে বান্ধবীর সঙ্গে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সময় পিতা বাধা দিলে, সেই মেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চরম নিষ্ঠুরতার পথে হাঁটে।

প্রথমে সে মিথ্যা ধর্ষণের নাটক সাজায়, যেন পিতাকে সমাজ ও আইনের চোখে অপরাধী প্রমাণ করতে পারে। কিন্তু এতেও ক্ষোভের আগুন নিভে না। অবশেষে, সে নিজের বাবার ওপর ছুরি দিয়ে একের পর এক আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সে নিজেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বলে—“আমি বাবাকে খুন করেছি, লাশ নিয়ে যান।”

এই ঘটনা আমাদের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
আমরা কি এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে একজন কন্যা বাবাকে খুন করে স্বীকারও করে নেয়, অথচ আমরা চুপচাপ দেখছি?

এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠতেই পারে—

যদি এমন অপরাধ কোনো ছেলে করত, তাহলে কি সামাজিক প্রতিক্রিয়া এতটা নরম হতো?

কেন পুরুষ নির্যাতনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আলাদা আইন নেই?

কেন একজন বাবা নিজের সন্তানের হাতে খুন হয়ে গেলেও, সেটা “সংবেদনশীল” বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়?

আমরা চাই:

পুরুষ নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ

মিথ্যা ধর্ষণ মামলা ও অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি

পুরুষদের জন্য আইনি ও মানসিক সহায়তা ব্যবস্থা চালু করা

সত্য উদঘাটনে সাংবাদিকতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি

আমরা বিশ্বাস করি—ন্যায়বিচার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার প্রাপ্য।
এই সমাজে নারী যেমন সুরক্ষা দাবি করতে পারে, তেমনি একজন পিতা, একজন ভাই, একজন স্বামীও সেই অধিকার রাখেন।

সত্য জানুন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিন।
এমন নৃশংস অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক—এটাই আমাদের প্রার্থনা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

মেয়ের হাতে পিতার নির্মম মৃত্যু: সমাজ কি তবে পুরুষের কষ্ট দেখতে পায় না?

১১:৫৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫

✍ লেখক: মোঃ ওসমান গণি ইলি

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমাদের সমাজ আবারও একটি অপ্রিয় সত্যের মুখোমুখি হলো—পুরুষ নির্যাতনও বাস্তব, এবং তা কখনো কখনো জীবন কেড়ে নেয়।

ঘটনাটি ছিল অবিশ্বাস্য এবং একইসাথে মর্মান্তিক। এক তরুণী, যার সমকামী সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল, এক পর্যায়ে নিজ পিতার নৈতিক প্রতিবাদকে ‘অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করে। বাড়িতে বান্ধবীর সঙ্গে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সময় পিতা বাধা দিলে, সেই মেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চরম নিষ্ঠুরতার পথে হাঁটে।

প্রথমে সে মিথ্যা ধর্ষণের নাটক সাজায়, যেন পিতাকে সমাজ ও আইনের চোখে অপরাধী প্রমাণ করতে পারে। কিন্তু এতেও ক্ষোভের আগুন নিভে না। অবশেষে, সে নিজের বাবার ওপর ছুরি দিয়ে একের পর এক আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সে নিজেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বলে—“আমি বাবাকে খুন করেছি, লাশ নিয়ে যান।”

এই ঘটনা আমাদের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
আমরা কি এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে একজন কন্যা বাবাকে খুন করে স্বীকারও করে নেয়, অথচ আমরা চুপচাপ দেখছি?

এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠতেই পারে—

যদি এমন অপরাধ কোনো ছেলে করত, তাহলে কি সামাজিক প্রতিক্রিয়া এতটা নরম হতো?

কেন পুরুষ নির্যাতনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আলাদা আইন নেই?

কেন একজন বাবা নিজের সন্তানের হাতে খুন হয়ে গেলেও, সেটা “সংবেদনশীল” বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়?

আমরা চাই:

পুরুষ নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ

মিথ্যা ধর্ষণ মামলা ও অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি

পুরুষদের জন্য আইনি ও মানসিক সহায়তা ব্যবস্থা চালু করা

সত্য উদঘাটনে সাংবাদিকতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি

আমরা বিশ্বাস করি—ন্যায়বিচার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার প্রাপ্য।
এই সমাজে নারী যেমন সুরক্ষা দাবি করতে পারে, তেমনি একজন পিতা, একজন ভাই, একজন স্বামীও সেই অধিকার রাখেন।

সত্য জানুন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিন।
এমন নৃশংস অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক—এটাই আমাদের প্রার্থনা।