ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

বাগেরহাটে শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক দরগার মেলা

কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি.

বাগেরহাটে প্রায় সাড়ে ছয়শ বছরের পুরানো ঐতিহাসিক দরকার মেলা শুরু হয়েছে। হযরত খানজাহান (রহ.) মাজারে শুক্রবার থেকে তিন দিনব্যাপী মেলায় দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ লোকের জনসমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই মেলা শুরু হয়। আগামী রোববার এই মেলা শেষ হবে। শুক্রবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খানজাহানের হাজার হাজার ভক্ত আশেকানরা মাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন।

মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন পশরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। বিশেষ করে তাল পাখা, মাটির পুতুল, কাঠের উপর কারুকার্য করা বিভিন্ন সামগ্রীসহ মনোহারী, মিষ্টি, পানের দোকানে বেচা বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। মেলায় এসেছে নাগরদোলা সহ বাচ্চাদের বিভিন্ন ব্রাইট। মেলা সংলগ্ন ষাট গম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ সহ খানজাহানের মাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এই মেলা। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ষাট গম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশগণ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া শত শত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন মেলার শৃঙ্খলার দায়িত্বে।

ভক্তরা এখানে জড়ো হয়ে তাদের মনোবাসনা পূরণের আশায় মিলিত হন। এখানে আসলে সিন্নি করলে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ হয় বলে তাদের বিশ্বাস। ভক্তরা খানজাহানের খনন করা দীঘিতে নেমে গোসল এবং মাজার জিয়ারত করেন।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তরা বলেন, খানজাহানের সাথে একটি মানুষের আত্মিক প্রেম ভালবাসা আছে। তার ভালবাসার জন্য এখানে প্রতিবছর আসি। এখানে নামাজ পড়ি, রোজা রাখি। মানত করি। তিনি আমাদের মনোবাসনা পূর্ণ করেন। চৈত্র মাসের পূর্ণিমা ছাড়াও প্রত্যেকটি পূর্ণিমায় খান জাহানের মাজারে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত উপস্থিত হন তার মাজার জিয়ারত করেন।

হযরত খানজাহান (রহ.) মাজারে প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, চৌদ্দশ খ্রিষ্টাব্দে হযরত খানজাহান (রহ.) পূর্ণভূমি বাগেরহাটে আসেন। পাঁচশ বছর আগে থেকেই চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত আশেকানদের মাজারে সমাগম ঘটে। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে এটি চলে আসছে। তারা এখানে এসে মাজার জিয়ারত ও দীঘিতে গোসল করেন। তারা মনোবাসনা পূর্ণের জন্য আল্লার দরবারে কান্নাকাটি করেন। ভক্তরা এখানে জড়ো হয়ে তাদের মনোবাসনা পূরণের আশায় মিলিত হন। এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। দক্ষিণাঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। মেলায় যাতে কোন বিশৃঙ্খলা না ঘটে সেজন্য প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

বাগেরহাটে শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক দরগার মেলা

০৬:৩৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫

কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি.

বাগেরহাটে প্রায় সাড়ে ছয়শ বছরের পুরানো ঐতিহাসিক দরকার মেলা শুরু হয়েছে। হযরত খানজাহান (রহ.) মাজারে শুক্রবার থেকে তিন দিনব্যাপী মেলায় দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ লোকের জনসমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই মেলা শুরু হয়। আগামী রোববার এই মেলা শেষ হবে। শুক্রবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খানজাহানের হাজার হাজার ভক্ত আশেকানরা মাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন।

মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন পশরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। বিশেষ করে তাল পাখা, মাটির পুতুল, কাঠের উপর কারুকার্য করা বিভিন্ন সামগ্রীসহ মনোহারী, মিষ্টি, পানের দোকানে বেচা বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। মেলায় এসেছে নাগরদোলা সহ বাচ্চাদের বিভিন্ন ব্রাইট। মেলা সংলগ্ন ষাট গম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ সহ খানজাহানের মাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এই মেলা। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ষাট গম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশগণ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া শত শত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন মেলার শৃঙ্খলার দায়িত্বে।

ভক্তরা এখানে জড়ো হয়ে তাদের মনোবাসনা পূরণের আশায় মিলিত হন। এখানে আসলে সিন্নি করলে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ হয় বলে তাদের বিশ্বাস। ভক্তরা খানজাহানের খনন করা দীঘিতে নেমে গোসল এবং মাজার জিয়ারত করেন।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তরা বলেন, খানজাহানের সাথে একটি মানুষের আত্মিক প্রেম ভালবাসা আছে। তার ভালবাসার জন্য এখানে প্রতিবছর আসি। এখানে নামাজ পড়ি, রোজা রাখি। মানত করি। তিনি আমাদের মনোবাসনা পূর্ণ করেন। চৈত্র মাসের পূর্ণিমা ছাড়াও প্রত্যেকটি পূর্ণিমায় খান জাহানের মাজারে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত উপস্থিত হন তার মাজার জিয়ারত করেন।

হযরত খানজাহান (রহ.) মাজারে প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, চৌদ্দশ খ্রিষ্টাব্দে হযরত খানজাহান (রহ.) পূর্ণভূমি বাগেরহাটে আসেন। পাঁচশ বছর আগে থেকেই চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত আশেকানদের মাজারে সমাগম ঘটে। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে এটি চলে আসছে। তারা এখানে এসে মাজার জিয়ারত ও দীঘিতে গোসল করেন। তারা মনোবাসনা পূর্ণের জন্য আল্লার দরবারে কান্নাকাটি করেন। ভক্তরা এখানে জড়ো হয়ে তাদের মনোবাসনা পূরণের আশায় মিলিত হন। এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। দক্ষিণাঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। মেলায় যাতে কোন বিশৃঙ্খলা না ঘটে সেজন্য প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।