
শফিক ইসলাম,মহালছড়ি প্রতিনিধিঃ
পাহাড়ের রাণী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলার দর্শনীয় স্থান গুলো প্রস্তুত রয়েছে ঈদ আমাজে দর্শনার্থীদের বরণ করে নিতে।
সৌন্দর্যের লীলাভূমি খাগড়াছড়ি জেলার অন্যতম দর্শনীয় উপজেলা মহালছড়ি,অসংখ্য দৃষ্টি নন্দন স্থান রয়েছে এই উপজেলা জুড়ে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের আমেজ পরিপূর্ণ করতে প্রম্তুত রয়েছে পর্যটন স্পর্ট গুলো।
যারা ঐতিয্যবাহী মহালছড়ি উপজেলাতে ঘুরতে আসবেন জেনে নিন কোথায় গিয়ে পাবেন ঈদ আমেজের সবুজ প্রকৃতির তৃপ্তি।
১।দেবতা পুকুরঃ খাগড়াছড়ি সদর থেকে ১৫ কিঃমিঃ মাইসছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি সড়কের দিকে আসলেই পশ্চিম পাহাড়ে নুনছড়ি থলিপাড়া থেকে দেখা যাবে এই দৃষ্টি নন্দন পুকুর টি। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫০০ ফুট উপরে পাহাড়ের চূড়ায় হওয়ায় স্থানীয় ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ভাষায় এই স্থানটি বলা হয় “মাতাই পুথিরি” বা
দেবতার পুকুর। পাহাড়ের চূড়ায় হওয়া সত্বেও সারা বছরই পুকুরটিতে পরিপূর্ণ পানি থাকে। পুকুরের পাশে রয়েছে দুটি বিশাল আকৃতির পাথর, এই পাথর দুটি কে নিয়ে রয়েছে অনেক গল্প কথা। পুকুরে উঠতেই বাম পাশে রয়েছে একটু সুন্দর ঝর্ণা,ঝর্না পরেই রয়েছে পাথরের এটি ছোট নদী যেটি বান্দরবানের দেবতা খুমের মত দেখতে।
২। স্বপ্নবিলাশ ফ্লাওয়ার ভিলেজঃ খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কের মহালছড়ির মুড়াপাড়ায় রয়েছে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েনদ নেওয়ার মত একটি নার্সারী যেখানে ফুলে ফুলে ভরপুর, এত সুন্দর সব ফুলের সমারোহ এখানে রয়েছে যে প্রতিটা মানুষের মন কে করে তুলবো প্রফুল্ল। নার্সারীর পাশাপাশি রয়েছে রোস্তরা,ফুলের রাজ্য হারিয়ে যাবার পর যদি মনে হয় পেটে ক্ষুদা লেগেছে তাহলে অর্ডার করতে খেয়ে নিতে পারেন মুখরোচক খাবার।
৩।মনাটেক মহালছড়িঃ উপজেলা থেকে ৬ কিঃমিঃ পূর্বে সিঙ্গিনালা হয়ে একটু সামনে এগুলেই দেখতে পারবেন মনোরম মনাটেক গ্রাম। এই স্থানে বসলেই দূর থেকে উঁড়ে আসা শীতল বাসাত আপনাকে করে দিবে আরো শীতল। দু-ধারে দুরকম চিত্র। এক পাশে কৃত্রিম পুকুর অন্য পাশে বিস্তীর্ণ ধান্যজমি যা বর্ষায় ভরে যায় কাপ্তাই বাঁধের পানিতে। আর মাঝ খানে নানা রকম গাছগাছালি বসার বেঞ্চ। স্থানটিতে একবার গেলেই সহজে আর আসতে মন চাইবে না এটা শতভাগ ধরে নিতে পারেন।
৪। ২৪ মাইলঃ খাগড়াছড়ি,মহালছড়ি,সিন্দুকছড়ি গুইমারা রাঙ্গামাটি সড়কের সংযোগ স্থল হলো এই ২৪ মাইল। এখানে সড়কের ২ পাশে রয়েছে স্থানীয় বাঙালী, চাকমা,মারমা,ত্রিপুরাদের রেস্টুরেন্ট। এই রেস্টুরেন্ট গুলোতে পাবেন স্থানীয় ঐতিয্যবাহী বাহারী রঙ্গের খাবার।
দুপুরের খাবার টা খেযে নিতে পারেন ২৪ মাইল এলাকায়। এবং কিছু টা সময় কাটাতে পারেন সড়কের পাশে সূর্যমুখী ফুলের বাগানে। সড়কের দু পাশেই রয়েছে ২টি সূর্যমুখী ফুলের বাগান।
৫।ধুমনি ঘাটঃ মহালছড়ি থেকে যে সড়কটি সিন্দুকছড়ি গিয়েছে তার মাঝেই পাবেন ধুমনিঘাট। সেনা ক্যাম্পের বিপরীতে পাহাড়ের নিচে নামতে হবে এই মন মুগ্ধকর স্থানটিতে যেতে। এখানে বড় ছোট অসংখ্য পাথর,চারপাশে বিশাল আকৃতির পাহাড়, পাথরে উপরে প্রবাহিত পানি, পানি ও পাথরের উপড়ে চড়ে চড়ে নিজে আত্মতৃপ্ত করা। শীতল পরিবেশে কিছুটা সময় পানির গড়িয়ে পড়া সা সা শব্দে মেতে থাকা।
৬।ঠান্ডাছড়িঃ ধুমনি ঘাট থেকে ২কিঃমিঃ পশ্চিমে মহালছড়ি সিন্দুকছড়ি সংযোগ সড়কের ঠান্ডাছড়ি নামক স্থানটি। পাথর কেটে সড়ক তৈরি করার ফলে পাথরের পাহাড়টি নতুন রুপ ধারণ করেছে, সেই পাথরের পাহাড় বেঁয়ে পড়ছে ছোট ছোট ঝর্নার বরফ গলা ঠান্ডা পানি।
একটু করে উঁচু পাহাড়ে উঠলেই মনে হবে এই বুঝি বিশাল পাহাড় আপনার পাশে দাঁড়িযে,চাইলেই ছুঁয়ে দেখা যাবে।
ঈদের ছুটিতে শরীর মন কে চাঙ্গা করতে চলে আসতে পারেন মহালছড়িতে
প্রতিনিধির নাম 



















