ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

ধর্মীয় শিক্ষক ও আয়ার অনৈতিক কান্ডে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা, অপসারণ দাবী

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক ও আয়ার অনৈতিক কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের বিচার এবং বিদ্যালয় থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক ও স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের রাখালগাছি পল্লী উন্নয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র পাল। এ বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষক রবিউল ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক এবং মাসুরা খাতুন ওই বিদ্যালয়ের আয়া পদে কর্মরত আছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম এবং আয়া মাসুরা খাতুন বিদ্যালয়ে সারাক্ষণ ফিসফিস করে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে কথাবার্তা বলে। তারা আমাদের সাথে রূঢ় আচরণ করে। তাদের প্রেমের বিষয়টি বিদ্যালয় ছাড়াও আশেপাশের লোকজন জানে। এমনকি বিভিন্ন দোকানেও তাদের সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। আমরা আমাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের বিষয়টি জানিয়েছি। তারা এখনও পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। শিক্ষক ও আয়ার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা তাদের অপসারণ দাবি করছি।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীর অভিভাবক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও আয়ার চলাফেরা ও ভঙ্গিমা দেখে ছাত্রীরা আমাদের নালিশ করে। এ ঘটনায় রবিউল ইসলামের স্ত্রী বিদ্যালয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছে। একটি বালিকা বিদ্যালয়ে তাদের এ ধরনের আচরণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে তাদের বিদ্যালয় থেকে অপসারণ করা ছাড়া বিকল্প কোন উপায় নেই।

স্থানীয় বিএনপি নেতা জানান, রবিউলের স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা খাতুন একজন শিক্ষক। তাদের রুহানি আফরিন নামে ১১ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। রবিউল স্যার ও মাসুরা খাতুনের সম্পর্ক আজ থেকে নয়। অনেক পুরনো। একদিনে এই সম্পর্ক হয় নাই। গার্লস স্কুলে শিক্ষক ও আয়ার মধ্যে এই অনৈতিক সম্পর্ক মেনে নেওয়া যায় না। তারা এই প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য আর এখানে রাখবেন না বলে অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও তাদের দুজনকে বিদ্যালয় থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠান শিক্ষক রবিউল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের অনৈতিক সম্পর্ক নয়। আমরা বৈধ পথে বিবাহ করেছি। আমার বড় স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা খাতুন ও এলাকার একজন বিএনপি নেতা আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। তারা এগুলো উস্কানি দিতেছে। এতে তারা আমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

ঘটনার বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র পাল এর সাথে কথা হলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, সহকারি শিক্ষক রবিউল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের আয়া মাসুরা খাতুনের সম্পর্কের বিষয়টি অনেক আগেই জেনেছি। অভিভাবক শিক্ষার্থী স্থানীয় বাসিন্দা ও সহকারি শিক্ষকগন বিষয়টি জানিয়েছে। তারা দুজনে একসাথে বিদ্যালয় থেকে ছুটির আবেদন করেছে। তার স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা খাতুন বিদ্যালয়ে এসে আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদেরকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

ধর্মীয় শিক্ষক ও আয়ার অনৈতিক কান্ডে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা, অপসারণ দাবী

০৩:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক ও আয়ার অনৈতিক কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের বিচার এবং বিদ্যালয় থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক ও স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের রাখালগাছি পল্লী উন্নয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র পাল। এ বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষক রবিউল ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক এবং মাসুরা খাতুন ওই বিদ্যালয়ের আয়া পদে কর্মরত আছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম এবং আয়া মাসুরা খাতুন বিদ্যালয়ে সারাক্ষণ ফিসফিস করে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে কথাবার্তা বলে। তারা আমাদের সাথে রূঢ় আচরণ করে। তাদের প্রেমের বিষয়টি বিদ্যালয় ছাড়াও আশেপাশের লোকজন জানে। এমনকি বিভিন্ন দোকানেও তাদের সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। আমরা আমাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের বিষয়টি জানিয়েছি। তারা এখনও পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। শিক্ষক ও আয়ার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা তাদের অপসারণ দাবি করছি।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীর অভিভাবক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও আয়ার চলাফেরা ও ভঙ্গিমা দেখে ছাত্রীরা আমাদের নালিশ করে। এ ঘটনায় রবিউল ইসলামের স্ত্রী বিদ্যালয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছে। একটি বালিকা বিদ্যালয়ে তাদের এ ধরনের আচরণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে তাদের বিদ্যালয় থেকে অপসারণ করা ছাড়া বিকল্প কোন উপায় নেই।

স্থানীয় বিএনপি নেতা জানান, রবিউলের স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা খাতুন একজন শিক্ষক। তাদের রুহানি আফরিন নামে ১১ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। রবিউল স্যার ও মাসুরা খাতুনের সম্পর্ক আজ থেকে নয়। অনেক পুরনো। একদিনে এই সম্পর্ক হয় নাই। গার্লস স্কুলে শিক্ষক ও আয়ার মধ্যে এই অনৈতিক সম্পর্ক মেনে নেওয়া যায় না। তারা এই প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য আর এখানে রাখবেন না বলে অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও তাদের দুজনকে বিদ্যালয় থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠান শিক্ষক রবিউল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের অনৈতিক সম্পর্ক নয়। আমরা বৈধ পথে বিবাহ করেছি। আমার বড় স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা খাতুন ও এলাকার একজন বিএনপি নেতা আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। তারা এগুলো উস্কানি দিতেছে। এতে তারা আমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

ঘটনার বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র পাল এর সাথে কথা হলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, সহকারি শিক্ষক রবিউল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের আয়া মাসুরা খাতুনের সম্পর্কের বিষয়টি অনেক আগেই জেনেছি। অভিভাবক শিক্ষার্থী স্থানীয় বাসিন্দা ও সহকারি শিক্ষকগন বিষয়টি জানিয়েছে। তারা দুজনে একসাথে বিদ্যালয় থেকে ছুটির আবেদন করেছে। তার স্ত্রী সৈয়দা আয়েশা খাতুন বিদ্যালয়ে এসে আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদেরকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।