ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রশাসনের সহায়তায় ঘের দখলের অভিযোগ 

বাগেরহাট প্রতিনিধি 

বাগেরহাটে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রশাসনের সহায়তায় মৎস্য  ঘের দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের রাধাবল্লব গ্রামে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী এস এম ইমাম হোসেন বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ কারী এস এম ইমাম হোসেন বাগেরহাট জেলা সদরের দেওয়ানবাটি এলাকার মৃত শেখ সরদার হোসেনের ছেলে।

 ভুক্তভোগী ইমাম হোসেন জানান, সদর উপজেলার রাধাবল্লব গ্রামে ২০২০ সাল থেকে একটি মৎস্য ঘেরে মাছের চাষ করে আসছি। গত ৫ আগস্ট এর পর স্থানীয় শিমুল, রেজা, জসিম সরদার, বুলু, সেলিমসহ কিছু সন্ত্রাসী  আমার ঘের থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায় এবং আমার ঘের দখল করে। তখন স্থানীয় ছাত্র প্রতিনিধিদের সহায়তায় উদ্ধার করেছি। কিন্তু গত ৮ মার্চ এই সন্ত্রাসী গ্রুপ আবার আমার ঘেরের কাজের লোককে হুমকি প্রদর্শন করে ও আমাকে ঘের থেকে চলে যেতে বলে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ১০ মার্চ এই সন্ত্রাসীদের  বিরুদ্ধে আদালতে একটি ১৪৪ ধারায় মামলা করি। 

আদালত আমার যাবতীয় কাগজপত্র দেখে সন্তুষ্ট হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে ঘেরে প্রবেশে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু তারা এই ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে পুনরায় আমার ঘেরে  যায়। আমার ঘেরের কাজের লোকটাকে মেরে বের করে দেয়, ঘের দখল করে। গত দুইদিন ধরে ঘের থেকে  মাছ ধরে বিক্রি করছে তারা। এপর্যন্ত তারা আমার ঘের থেকে মাছ ধরে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার সহায়তা চাইলেও তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিমুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ঘের দখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জমির মালিকের কাছ থেকে বাৎসরিক হারির টাকা দেওয়ার মাধ্যমে ঘেরটি আমরা ভোগ দখলে নিয়েছি। বিগত দিনে ইমাম হোসেন জমির মালিকদের হারির টাকা ঠিকমত প্রদান না করায় তাকে চলতি বছর থেকে ওই ঘেরে মৎস্য চাষ করিতে দিবে না।

জানতে চাইলে বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহমুদ উল হাসান বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শ করে ১৪৪ ধারা নোটিশটি জারি করেছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রশাসনের সহায়তায় ঘের দখলের অভিযোগ 

০৫:১৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

বাগেরহাট প্রতিনিধি 

বাগেরহাটে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রশাসনের সহায়তায় মৎস্য  ঘের দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের রাধাবল্লব গ্রামে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী এস এম ইমাম হোসেন বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ কারী এস এম ইমাম হোসেন বাগেরহাট জেলা সদরের দেওয়ানবাটি এলাকার মৃত শেখ সরদার হোসেনের ছেলে।

 ভুক্তভোগী ইমাম হোসেন জানান, সদর উপজেলার রাধাবল্লব গ্রামে ২০২০ সাল থেকে একটি মৎস্য ঘেরে মাছের চাষ করে আসছি। গত ৫ আগস্ট এর পর স্থানীয় শিমুল, রেজা, জসিম সরদার, বুলু, সেলিমসহ কিছু সন্ত্রাসী  আমার ঘের থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায় এবং আমার ঘের দখল করে। তখন স্থানীয় ছাত্র প্রতিনিধিদের সহায়তায় উদ্ধার করেছি। কিন্তু গত ৮ মার্চ এই সন্ত্রাসী গ্রুপ আবার আমার ঘেরের কাজের লোককে হুমকি প্রদর্শন করে ও আমাকে ঘের থেকে চলে যেতে বলে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ১০ মার্চ এই সন্ত্রাসীদের  বিরুদ্ধে আদালতে একটি ১৪৪ ধারায় মামলা করি। 

আদালত আমার যাবতীয় কাগজপত্র দেখে সন্তুষ্ট হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে ঘেরে প্রবেশে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু তারা এই ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে পুনরায় আমার ঘেরে  যায়। আমার ঘেরের কাজের লোকটাকে মেরে বের করে দেয়, ঘের দখল করে। গত দুইদিন ধরে ঘের থেকে  মাছ ধরে বিক্রি করছে তারা। এপর্যন্ত তারা আমার ঘের থেকে মাছ ধরে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার সহায়তা চাইলেও তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিমুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ঘের দখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জমির মালিকের কাছ থেকে বাৎসরিক হারির টাকা দেওয়ার মাধ্যমে ঘেরটি আমরা ভোগ দখলে নিয়েছি। বিগত দিনে ইমাম হোসেন জমির মালিকদের হারির টাকা ঠিকমত প্রদান না করায় তাকে চলতি বছর থেকে ওই ঘেরে মৎস্য চাষ করিতে দিবে না।

জানতে চাইলে বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহমুদ উল হাসান বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শ করে ১৪৪ ধারা নোটিশটি জারি করেছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।