ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

মহা-বাটপারির বাটপার জসিম থেকে বাঁচতে পারেনি সাবেক এমপি কাজল

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

পুলিশের সাবেক প্রধান বেনজীর আহমেদের
ক্যাশিয়ার খ্যাত জসীম উদ্দিনের বাটপাড়ির
যেন কোনো শেষ নেই। বাটপাড় জসীম এবার
কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য ও
বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক
লুৎফুর রহমান কাজলের সঙ্গে বাটপাড়ি করে
নজির স্থাপন করেছেন। বিএনপি নেতা
কাজলের কাছ থেকে উপকার পেয়ে এখন
তারই বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছেন জসীম
উদ্দিন। লুৎফুর রহমান কাজল
বিষয়টি নিয়ে গতকাল শনিবার বিকালে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির
কেন্দ্রীয় মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর
রহমান কাজল। তিনি সাংবাদিকদের
জানিয়েছেন, কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক তারকা মানের আবাসিক হোটেল রামাদা নিয়ে দুই পক্ষের একটি বিরোধ নিয়ে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী। শাহেদ তার কাছে আসেন। জসীম উদ্দিনের বন্ধু শাহেদ। হোটেল রামাদার মালিকানা নিয়ে রংধনু
গ্রুপ ও জসীমের মধ্যে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাজলকে অনুরোধ জানান শাহেদ। বিষয়টি নিয়ে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও আলাপ করেন বিএনপি নেতা কাজল। লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমি বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণ করি। জসীম তখন হত্যাচেষ্টা ও প্রতারণার মামলায় কারাগারে ছিলেন। জসীমের ভাই এবং বন্ধুরা দফায় দফায় আমার কাছে আসতে থাকেন। উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রামাদা হোটেলের ৫০ শতাংশের মালিক রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। ব্যাংকের মাধ্যমে ২৮৭ কোটি
টাকা জসীমকে দেওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করেন তিনি। মূলত জসীমের স্ত্রী তানজিনা সুলতানা তার শেয়ারটি রংধনু গ্রুপকে বিক্রি করে দেন। জসীম স্বীকার করেন রংধনু গ্রুপ থেকে এ পর্যন্ত ১৯৯ কোটি টাকা নিয়েছেন। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শেয়ার হস্তান্তরের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। জসীমকে জামিনে মুক্ত করতে সবধরনের সহযোগিতা করেন রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর শেয়ার হস্তান্তর করবেন- এমন আশ্বাস দেওয়া হয় জসীমের পক্ষ থেকে। এই সিদ্ধান্ত দুটি লিখিত স্ট্যাম্পের মাধ্যমে করা হয়। স্ট্যাম্প দুটি দেখিয়ে কাজল বলেন, জসীম কারাগারে থাকায় তার স্ত্রী স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন।
শর্ত অনুযায়ী আদালত থেকে জসীম জামিন পেয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন। আমি বারবার চুক্তিমতে তাকে শেয়ার হস্তান্তরের কথা বলি। কিন্তু এর মধ্যে
তিনি বলেন, রামাদা হোটেল নিয়ে যে বিরোধ
চলছে, তা নিয়ে তারা আদালতেও যেতেন
পারতেন। আমার কাছে সহযোগিতা চেয়েছে,
আমি সহযোগিতা করেছি মাত্র। যে প্রমাণপত্র
আমি দেখেছি এতে রামাদার ৫০ শতাংশের
মালিক রংধনু গ্রুপ। দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে আমাকে নিয়েও কুৎসা প্রচার করে যাওয়া জসীমের কী ধরনের প্রতারণা সাংবাদিক ভাইরা একটু ভেবে দেখেন। এ ব্যাপারে জসীমের বন্ধু চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটি অনলাইন মানবার চট্টগ্রামভিত্তিক আমি জসীমের পক্ষেই লুৎফুর রহমান কাজল জসীমের উদ্ধৃতি দিয়ে
একটি সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। সেখানে পুরো ঘটনা নিয়ে জসীম মিথ্যাচার করেছেন। আমি তার মিথ্যাচার দেখে হতবাক হয়েছি। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যেখানে জসীম তার বন্ধুকে পাঠিয়ে আমাকে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানাল, সেখানে জসীম এখন বলছে ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আমি কখনও কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এলাকার মানুষ আমার সম্পর্কে জানেন। জসীম আমাকে নিয়ে প্রতারণা করছে। একই সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যমটি জসীমের বক্তব্য প্রচার করলেও তারা আমার কোনো বক্তব্য নেয়নি। আমি এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ নিয়েছি। সাহেবের কাছে গিয়ে মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণের
ব্যবস্থা করেছিলাম। যেখানে কাজল সাহেবের
নামে কুৎসা রটনা করা খুবই দুঃখজনক।
মীমাংসা মতে, রামাদার বিষয়টি ৫০ শতাংশ করে উভয় পক্ষের মালিকানা রয়েছে। এখন জসীম কুৎসা করছেন কেন, তা বুঝতেছি না।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান জসীম উদ্দিন। কারাগার থেকে বেরিয়ে রংধনু গ্রুপের হেড অব মিডিয়া মো. সাইফুল ইসলামকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেন জসীম উদ্দিন। হুমকির ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা। গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

মহা-বাটপারির বাটপার জসিম থেকে বাঁচতে পারেনি সাবেক এমপি কাজল

০৩:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৫

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

পুলিশের সাবেক প্রধান বেনজীর আহমেদের
ক্যাশিয়ার খ্যাত জসীম উদ্দিনের বাটপাড়ির
যেন কোনো শেষ নেই। বাটপাড় জসীম এবার
কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য ও
বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক
লুৎফুর রহমান কাজলের সঙ্গে বাটপাড়ি করে
নজির স্থাপন করেছেন। বিএনপি নেতা
কাজলের কাছ থেকে উপকার পেয়ে এখন
তারই বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছেন জসীম
উদ্দিন। লুৎফুর রহমান কাজল
বিষয়টি নিয়ে গতকাল শনিবার বিকালে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির
কেন্দ্রীয় মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর
রহমান কাজল। তিনি সাংবাদিকদের
জানিয়েছেন, কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক তারকা মানের আবাসিক হোটেল রামাদা নিয়ে দুই পক্ষের একটি বিরোধ নিয়ে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী। শাহেদ তার কাছে আসেন। জসীম উদ্দিনের বন্ধু শাহেদ। হোটেল রামাদার মালিকানা নিয়ে রংধনু
গ্রুপ ও জসীমের মধ্যে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাজলকে অনুরোধ জানান শাহেদ। বিষয়টি নিয়ে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও আলাপ করেন বিএনপি নেতা কাজল। লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমি বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণ করি। জসীম তখন হত্যাচেষ্টা ও প্রতারণার মামলায় কারাগারে ছিলেন। জসীমের ভাই এবং বন্ধুরা দফায় দফায় আমার কাছে আসতে থাকেন। উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রামাদা হোটেলের ৫০ শতাংশের মালিক রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। ব্যাংকের মাধ্যমে ২৮৭ কোটি
টাকা জসীমকে দেওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করেন তিনি। মূলত জসীমের স্ত্রী তানজিনা সুলতানা তার শেয়ারটি রংধনু গ্রুপকে বিক্রি করে দেন। জসীম স্বীকার করেন রংধনু গ্রুপ থেকে এ পর্যন্ত ১৯৯ কোটি টাকা নিয়েছেন। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শেয়ার হস্তান্তরের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। জসীমকে জামিনে মুক্ত করতে সবধরনের সহযোগিতা করেন রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর শেয়ার হস্তান্তর করবেন- এমন আশ্বাস দেওয়া হয় জসীমের পক্ষ থেকে। এই সিদ্ধান্ত দুটি লিখিত স্ট্যাম্পের মাধ্যমে করা হয়। স্ট্যাম্প দুটি দেখিয়ে কাজল বলেন, জসীম কারাগারে থাকায় তার স্ত্রী স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন।
শর্ত অনুযায়ী আদালত থেকে জসীম জামিন পেয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন। আমি বারবার চুক্তিমতে তাকে শেয়ার হস্তান্তরের কথা বলি। কিন্তু এর মধ্যে
তিনি বলেন, রামাদা হোটেল নিয়ে যে বিরোধ
চলছে, তা নিয়ে তারা আদালতেও যেতেন
পারতেন। আমার কাছে সহযোগিতা চেয়েছে,
আমি সহযোগিতা করেছি মাত্র। যে প্রমাণপত্র
আমি দেখেছি এতে রামাদার ৫০ শতাংশের
মালিক রংধনু গ্রুপ। দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে আমাকে নিয়েও কুৎসা প্রচার করে যাওয়া জসীমের কী ধরনের প্রতারণা সাংবাদিক ভাইরা একটু ভেবে দেখেন। এ ব্যাপারে জসীমের বন্ধু চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটি অনলাইন মানবার চট্টগ্রামভিত্তিক আমি জসীমের পক্ষেই লুৎফুর রহমান কাজল জসীমের উদ্ধৃতি দিয়ে
একটি সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। সেখানে পুরো ঘটনা নিয়ে জসীম মিথ্যাচার করেছেন। আমি তার মিথ্যাচার দেখে হতবাক হয়েছি। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যেখানে জসীম তার বন্ধুকে পাঠিয়ে আমাকে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানাল, সেখানে জসীম এখন বলছে ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আমি কখনও কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এলাকার মানুষ আমার সম্পর্কে জানেন। জসীম আমাকে নিয়ে প্রতারণা করছে। একই সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যমটি জসীমের বক্তব্য প্রচার করলেও তারা আমার কোনো বক্তব্য নেয়নি। আমি এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ নিয়েছি। সাহেবের কাছে গিয়ে মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণের
ব্যবস্থা করেছিলাম। যেখানে কাজল সাহেবের
নামে কুৎসা রটনা করা খুবই দুঃখজনক।
মীমাংসা মতে, রামাদার বিষয়টি ৫০ শতাংশ করে উভয় পক্ষের মালিকানা রয়েছে। এখন জসীম কুৎসা করছেন কেন, তা বুঝতেছি না।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান জসীম উদ্দিন। কারাগার থেকে বেরিয়ে রংধনু গ্রুপের হেড অব মিডিয়া মো. সাইফুল ইসলামকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেন জসীম উদ্দিন। হুমকির ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা। গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।