
গোলাম রাব্বি, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বরগুনার বামনা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় ছনিয়া আফরোজ নামের ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীকে আসামি করা হয়েছে। মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী ও তার স্বামী গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে বেরাচ্ছেন।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের শালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত না মানা কারনেই এ মামলায় তাদের (স্বামী-স্ত্রী) দুজনকে আসামী করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন ভুক্তভোগী ওই অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী নারীর স্বামী সাদ্দাম হোসেন। অপরদিকে ওই মামলায় উল্লেখিত ঘটনাস্থল থেকে আটক আসামীদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্যে সূত্রধরে স্বামী সাদ্দাম হোসেন ও স্ত্রী ছনিয়া আফরোজাকে আসামী করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তুষার কুমার মন্ডল।
২৩জুলাই বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৯৭৪ এর ১৫ (১)(ক) ধারায় বামনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন বামনা থানার উপ-পরিদর্শক (এস/আই) রফিকুল ইসলাম মৃধা(নিরস্ত্র)। মামলার এজাহারে স্বামী সাদ্দাম হোসেনকে ৮ নম্বর আসামী ও ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী ছনিয়া আফরোজকে ১১নম্বর আসামী করে মোট ১৩জনের নাম উল্লেখ করে আরো ২০/২৫জন অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। বামনা থানার উপ-পরিদর্শক (এস/আই) দেবাশীষ হাওলাদার মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন
ভুক্তভোগী ছনিয়া আফরোজের স্বামী সাদ্দাম হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন,স্থানীয় ফরিদা বেগম এবং দুলিয়া বেগম নামে দুই নারীর সাথে আমাদের দীর্ঘদিন যাবৎ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ হোসেন হাওলাদার ফরিদা এবং দুলিয়ার পক্ষ হয়ে একবার সালিশি করলে আমরা সেই সালিশের রায় মানি নি। পরবর্তীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সবুজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শালিশ বৈঠকে বসি। সেই শালিশ বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ হোসেন হাওলাদারকে রাখা হয়নি।শালিশের রায় দুলিয়া এবং ফরিদা মেনে নেয়নি।
সাদ্দাম হোসেন আরো বলেন, দুলিয়া বেগম বরগুনার প্রাক্তন এক পুলিশ সুপারের বাসায় গৃহ পরিচারিকার কাজ করতেন এবং ওই পুলিশ সুপারের মাকে ধর্ম মা ডেকেছেন। পুলিশ সুপারের বাসায় কাজ করার সুবাদে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তুষার কুমার মন্ডল ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেবাশীষ হাওলাদার সরাসরি ফরিদা এবং দুলিয়ার পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন। আমি এবং আমার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ১০ মাসের আত্মসত্ত্বা স্ত্রীকে মামলায় ফাঁসাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আলতাফ হোসেন হাওলাদার। কারন আমরা তার শালিশের রায় না মেনে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ করলে সেই শালিশে তাকে রাখিনি। আর সেই ক্ষোভেই তিনি আমাদেরকে মিথ্যা মামলায় আসামি করতে সহযোগিতা করেছেন। এই মিথ্যে মামলার কারণে আমি এখন আমার ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী কে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন একজন কৃষক। তার স্ত্রী ছনিয়া একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী। ছনিয়া বর্তমানে ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তারা কখনোই কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলোনা। সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদেরকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ১নম্বর বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সবুজ বলেন, আমি শোনার সাথে সাথেই থানায় গিয়ে ওসির সাথে কথা বলে এর প্রতিবাদ করেছি। আমি তাকে বলেছি এই মেয়েটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এবং ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আগস্টের ০৮ তারিখে মেয়েটির বাচ্চা ডেলিভারি হওয়ার কথা রয়েছে। সুতরাং এই মেয়েটিকে যেন কোনভাবেই মামলায় আসামী করা না হয়। ওসি সাহেব আমার কথা শুনেননি। তিনি মেয়েটি এবং তার স্বামীকে মামলায় আসামি করেছেন। তিনি আমাকে বলেছেন তার কাছে প্রমান আছে। প্রমান ছাড়া কাউকে আসামী করা হয়নি।
এই বিষয়ে বামনা থানার ওসি তুষার কুমার মণ্ডল বলেন, ২৩ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের আমতলী গ্রামে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী একত্রিত হচ্ছিল। এ সময় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত নেতাকর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় সাইমুন ও জাফর নামের দুজন কে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ, বাকী আসামীরা পালিয়ে যায়। আটককৃতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যদের ভিত্তিতে ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকায় আসামী সোনিয়া আফরোজ এবং তার স্বামী সাদ্দাম হোসেন কে মামলার আসামী করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে, তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা না থাকলে আসামী থেকে বাদ দেওয়া হবে। এজাহার নামীয় আসামী হওয়ায় বর্তমানে গ্রেপ্তারের ভয়ে অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী ছনিয়া ও তার স্বামী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন! এ বিষয় জানতে চাইলে তুষার কুমার মন্ডল বলেন, এটা তাদের ব্যাপার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বামনা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করা, মুক্তিযোদ্ধাদের মনে ভয়ের সৃষ্টি করাসহ থানা এলাকায় সরকারি, বেসরকারি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে একদল দুষ্কৃতিকারী সদর ইউনিয়নের উত্তর আমতলী গ্রামের জনৈক সাইমুন হুসাইনের বাড়ীতে গোপন বৈঠকে মিলিত হওয়ার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে সাইমুন হুসাইন ও জাফর নামের দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, বাকি আসামীরা পালিয়ে যায়। এসময় সাইমুম হুসাইনের ঘর থেকে বেশ কিছু জিহাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রতিনিধির নাম 
























