ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

মাটিরাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপেক্ষিত

নুরনবী অন্তর মাহমুদ, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

এবার পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ন্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ২০২৪ পালিত হয়নি ।

দিবসটি পালন উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, রেলি ও আলোচনা সভার মতো কোন রাজনৈতিক কর্মসুচী পালন করেনি এ বছর মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ । অথচ দিবসটি সারাদেশে আওয়ামী লীগ সহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে ।

তাহলে কি? সদ্য মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী আবুল কাশেম ভুইয়ার দেয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষপদ ছিনিয়ে নেয়ার ঘোষনায় বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগ শঙ্কিত । নিজেদের মধ্যে চলমান সমন্বয়হীনতা কিসের পূর্বাভাস ।

আওয়ামী লীগের এমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি কেন মাটিরাঙ্গায় পালন করা হয়নি জানতে চাইলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সুবাস চাকমা জানান, আমি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনের কর্মসুচি সম্পর্কে জানিয়েছিলাম কিন্তু তিনি আমাকে কোন নির্দেশনা দেননি, আমি সম্পাদক হিসেবে তাঁর পরামর্শের অপেক্ষায় ছিলাম কিন্তু তিনি কর্মসূচীর বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি ।
এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ হারুনুর রশিদ ফরাজী বলেছেন, দলের চেইন অফ কমান্ড কার্যকর নয়, যদি চেইন অফ কমান্ড কার্যকর থাকতো তাহলে দলের প্রার্থীরা কেন সদ্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হলো? এ ছাড়াও তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা পাইনি বলেও জানান।

বিষয়টি সম্পর্কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি এম হুমায়ুন মোরশেদ খানকে বক্তব্যের জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের করা হলে, তিনি প্রথম বার মসজিদে অবস্থান করছেন বলে জানান, এরপর বিকাল ৩ টা ১০ মিনিটের দিকে পুনরায় ফোন করা হলে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন সংক্রান্ত কোন ছবি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে মুঠোফোন কেটে দেন । এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও আর সংযোগ করা সম্ভব হযনি ।

আজকের এই দিনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন জীবন শেষে তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। এসময় ঝড় বৃষ্টিতে নগরজীবন প্রায় বিপন্ন। রাস্তাঘাট, স্বাভাবিক জীবন যখন ব্যাহত তখন সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন কয়েক লাখ মানুষ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি গণসংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হন তিনি ।
১৯৮১ সালের ১৭ মে ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দ অশ্রুতে অবগাহন করে শেরেবাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা । ১৯৭৫’র ১৫ আগস্টের পর যখন ঘাতক গোষ্ঠী প্রিয় মাতৃভূমিকে ক্ষত-বিক্ষত করে তুলেছিল জাতীয় জীবন, তখন শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল শ্রাবণের বারিধারার মতো পাহাড় সমান বাঁধা জয়ের অনন্ত অনুপ্রেরণা। সেদিন বঙ্গবন্ধুকন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে অশ্রু-বারিসিক্ত জন্মভূমিতে সঙ্কটজয়ের বীজ রোপিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রদীপ্ত অগ্নিশপথের রৌদ্রালোকে উদ্ভাসিত হয়েছিল বাঙালি জাতি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

মাটিরাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপেক্ষিত

০৭:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪

নুরনবী অন্তর মাহমুদ, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

এবার পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ন্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ২০২৪ পালিত হয়নি ।

দিবসটি পালন উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, রেলি ও আলোচনা সভার মতো কোন রাজনৈতিক কর্মসুচী পালন করেনি এ বছর মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ । অথচ দিবসটি সারাদেশে আওয়ামী লীগ সহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে ।

তাহলে কি? সদ্য মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী আবুল কাশেম ভুইয়ার দেয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষপদ ছিনিয়ে নেয়ার ঘোষনায় বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগ শঙ্কিত । নিজেদের মধ্যে চলমান সমন্বয়হীনতা কিসের পূর্বাভাস ।

আওয়ামী লীগের এমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি কেন মাটিরাঙ্গায় পালন করা হয়নি জানতে চাইলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সুবাস চাকমা জানান, আমি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনের কর্মসুচি সম্পর্কে জানিয়েছিলাম কিন্তু তিনি আমাকে কোন নির্দেশনা দেননি, আমি সম্পাদক হিসেবে তাঁর পরামর্শের অপেক্ষায় ছিলাম কিন্তু তিনি কর্মসূচীর বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি ।
এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ হারুনুর রশিদ ফরাজী বলেছেন, দলের চেইন অফ কমান্ড কার্যকর নয়, যদি চেইন অফ কমান্ড কার্যকর থাকতো তাহলে দলের প্রার্থীরা কেন সদ্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হলো? এ ছাড়াও তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা পাইনি বলেও জানান।

বিষয়টি সম্পর্কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি এম হুমায়ুন মোরশেদ খানকে বক্তব্যের জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের করা হলে, তিনি প্রথম বার মসজিদে অবস্থান করছেন বলে জানান, এরপর বিকাল ৩ টা ১০ মিনিটের দিকে পুনরায় ফোন করা হলে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন সংক্রান্ত কোন ছবি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে মুঠোফোন কেটে দেন । এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও আর সংযোগ করা সম্ভব হযনি ।

আজকের এই দিনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন জীবন শেষে তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। এসময় ঝড় বৃষ্টিতে নগরজীবন প্রায় বিপন্ন। রাস্তাঘাট, স্বাভাবিক জীবন যখন ব্যাহত তখন সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন কয়েক লাখ মানুষ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি গণসংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হন তিনি ।
১৯৮১ সালের ১৭ মে ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দ অশ্রুতে অবগাহন করে শেরেবাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা । ১৯৭৫’র ১৫ আগস্টের পর যখন ঘাতক গোষ্ঠী প্রিয় মাতৃভূমিকে ক্ষত-বিক্ষত করে তুলেছিল জাতীয় জীবন, তখন শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল শ্রাবণের বারিধারার মতো পাহাড় সমান বাঁধা জয়ের অনন্ত অনুপ্রেরণা। সেদিন বঙ্গবন্ধুকন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে অশ্রু-বারিসিক্ত জন্মভূমিতে সঙ্কটজয়ের বীজ রোপিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রদীপ্ত অগ্নিশপথের রৌদ্রালোকে উদ্ভাসিত হয়েছিল বাঙালি জাতি।