ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

বরগুনায় তিনজনে চলছে আ.লীগ, অভিভাবকহীন বিএনপি

বরগুনা প্রতিনিধি :
বছর পার হলেও সম্মেলনের সময় ঘোষিত তিন সদস্যের কমিটিতেই চলছে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় সংগঠনটির কার্যক্রম পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন দলটির সাবেক ও পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। এদিকে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে অভিভাবকহীন জেলা বিএনপির কার্যক্রম। আর জাতীয় পার্টি (জাপা) আছে নিষ্ক্রিয় অবস্থায়। তাদের কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবিরকে সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাদের পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা করে কেন্দ্রে জমা দিতে নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু এক বছর পাঁচ মাসেও জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

ঘোষণা করা হয়নি। জেলা কমিটি গঠন না করাই গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জখ্যাত আওয়ামী লীগের এ ঘাঁটিতে বরগুনা-১ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব মৃধা কালবেলাকে বলেন, ‘বরগুনার আওয়ামী পরিবারে চলছে দুর্বিষহ সংকট, সমন্বয়হীনতা ও শৃঙ্খলার অভাব। জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণের পথে। এখনো হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগসহ প্রায় সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ। এভাবে চলতে থাকলে বরগুনা আওয়ামী পরিবার চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন মোবাইল ফোন আলাপে বলেন, ‘জেলা কমিটি কেন পূর্ণাঙ্গ করছে না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য কেন্দ্র থেকে দুবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে পাঠিয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে জানান, ‘কিছুদিন আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। হয়তো তাদের হাতে কাগজ পৌঁছে গেছে।’ একই কথা জানালেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরও।

এদিকে ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেলার আংশিক আহ্বায়ক কমিটির কথা জানান। মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লাকে আহ্বায়ক এবং তারিকুজ্জামান টিটুকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টিটু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হলে একই বছরের ১৭ এপ্রিল রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের তদন্ত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে।

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা কালবেলাকে বলেন, ‘বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে কোনো তালিকাও জমা দিচ্ছেন না। কেন্দ্র থেকেও কমিটি দেওয়ার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বরগুনা জেলা কমিটি ঘোষণা করা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে।’

অন্যদিকে জেলা জাতীয় পার্টি এক প্রকার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় তাদের কার্যক্রম কোনোমতে চলছে বলে জানিয়েছেন পার্টির একাধিক নেতাকর্মী। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জেলার ছয়টি উপজেলায় নিয়ে গঠিত দুটি আসনে মনোনয়ন দেওয়ার পরে দলটির নেতাকর্মীরা কিছুটা সক্রিয় হলেও বর্তমান জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের অবস্থান তলানিতে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস

বরগুনায় তিনজনে চলছে আ.লীগ, অভিভাবকহীন বিএনপি

০৩:১৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪

বরগুনা প্রতিনিধি :
বছর পার হলেও সম্মেলনের সময় ঘোষিত তিন সদস্যের কমিটিতেই চলছে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় সংগঠনটির কার্যক্রম পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন দলটির সাবেক ও পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। এদিকে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে অভিভাবকহীন জেলা বিএনপির কার্যক্রম। আর জাতীয় পার্টি (জাপা) আছে নিষ্ক্রিয় অবস্থায়। তাদের কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবিরকে সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাদের পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা করে কেন্দ্রে জমা দিতে নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু এক বছর পাঁচ মাসেও জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

ঘোষণা করা হয়নি। জেলা কমিটি গঠন না করাই গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জখ্যাত আওয়ামী লীগের এ ঘাঁটিতে বরগুনা-১ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব মৃধা কালবেলাকে বলেন, ‘বরগুনার আওয়ামী পরিবারে চলছে দুর্বিষহ সংকট, সমন্বয়হীনতা ও শৃঙ্খলার অভাব। জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণের পথে। এখনো হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগসহ প্রায় সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ। এভাবে চলতে থাকলে বরগুনা আওয়ামী পরিবার চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন মোবাইল ফোন আলাপে বলেন, ‘জেলা কমিটি কেন পূর্ণাঙ্গ করছে না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য কেন্দ্র থেকে দুবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে পাঠিয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে জানান, ‘কিছুদিন আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। হয়তো তাদের হাতে কাগজ পৌঁছে গেছে।’ একই কথা জানালেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরও।

এদিকে ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেলার আংশিক আহ্বায়ক কমিটির কথা জানান। মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লাকে আহ্বায়ক এবং তারিকুজ্জামান টিটুকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টিটু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হলে একই বছরের ১৭ এপ্রিল রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের তদন্ত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে।

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা কালবেলাকে বলেন, ‘বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে কোনো তালিকাও জমা দিচ্ছেন না। কেন্দ্র থেকেও কমিটি দেওয়ার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বরগুনা জেলা কমিটি ঘোষণা করা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে।’

অন্যদিকে জেলা জাতীয় পার্টি এক প্রকার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় তাদের কার্যক্রম কোনোমতে চলছে বলে জানিয়েছেন পার্টির একাধিক নেতাকর্মী। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জেলার ছয়টি উপজেলায় নিয়ে গঠিত দুটি আসনে মনোনয়ন দেওয়ার পরে দলটির নেতাকর্মীরা কিছুটা সক্রিয় হলেও বর্তমান জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের অবস্থান তলানিতে।