
গোলাম রাব্বি (বরগুনা প্রতিনিধি)
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে বিভিন্ন এলাকার চায়ের কাপে আড্ডার সঙ্গে জমে উঠেছে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। এই আসনটিতে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও শেষ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
এই আসনে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু (ঈগল), আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ—কমিটির সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক খলিলুর রহমান (ট্রাক) ও আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার ফোরকান (কাঁচি) দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।
ভোটাররা বলছেন বরগুনা-১ আসনে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও ফলাফলে খুব একটা প্রভাব পড়বে না। কারণ, নির্বাচনে জয়লাভ করতে হলে তিন উপজেলাতেই ভালো ভোট পেতে হবে প্রার্থীদের। এখানকার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রত্যেকেরই এলাকাভিত্তিক কিছু ভোট থাকলেও তিন উপজেলাকে হিসেবে নিলে কেউই ভালো অবস্থানে নেই। তারা জানিয়েছেন, ঈগল প্রতীকের গোলাম সরোয়ার টুকু এবং ট্রাক প্রতীকের খলিলুর রহমানের বরগুনা সদরে কিছু ভোট থাকলেও অন্য দুই উপজেলায় অবস্থা একেবারে শোচনীয়। অন্যদিকে কাঁচি প্রতীকের গোলাম সরোয়ার ফোরকানের তালতলীর বাইরে দৃশ্যমান কোন জনসমর্থন নেই। তারা নিজ উপজেলার বাইরের পথসভা—জনসভা হলে বাস-ট্রাক ভরে লোকজন নিয়ে সমাবেশ ভরেন। এসব কারণে বরাবরের মতো নৌকার দক্ষ মাঝি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুই এখানে হাসবেন শেষ হাসি।
একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও ভোটারদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে এই আসন থেকে ৫ বারের নির্বাচিত এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর নাম। কেননা এককালের অবহেলিত এই জনপদ বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে উন্নয়নের এক রোল মডেলে পরিণত হয়েছে তার হাত ধরেই।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বরগুনা বাজারের ধর্মতলায় অবস্থিত একাধিক চায়ের দোকানে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন ভোটাররা। আহসানুল কবীর চৌধুরী লাটিম নামে বরগুনা বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, বরগুনার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভেতরে এখন যারা উন্নয়নের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা নির্বাচিত হলে এলাকার অবস্থা খুবই খারাপের দিকে যাবে। কারণ, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংসদে বিরোধীদলের সদস্যদের মতোই বিবেচিত হবে। যেটা ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদে আমরা দেখেছি। সংসদে তাদের আসন থাকে বিরোধী দলের কাতারে, তাদের প্রতি সরকারের বরাদ্দও থাকে অনেক কম। বিশেষ বরাদ্দের হিসেব বাদ দিন, উন্নয়নের সাধারণ বরাদ্দই তখন অনেক কমে যাবে। অল্পদিনেই মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে। ফলে ক্ষনিক মেয়াদে এলাকার উন্নয়নের চেয়ে নিজের উন্নয়নের দিকেই তারা বেশি মনযোগী হতে পারেন।
ধর্মতলার আরেক চায়ের দোকান থেকে ঠিকাদার আসলাম শরীফ বলেন, ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর বরগুনাবাসী যেরকমভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, পুনরায় একই অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। এ সময় বরগুনার আর্থসামাজিক উন্নয়নের দিকে দৃষ্টিপাত করে তিনি বলেন, ‘এই বরগুনাকে আগে মানুষ দেশের ৬৪ নম্বর জেলা বলতো। কিন্তু ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ’৯৬ সালে মন্ত্রীত্ব পেয়ে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হলে অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে। আর গত ১৫ বছরে তো তিনি সমগ্র বরগুনার দৃশ্যপটই পরিবর্তন করে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এমপি শম্ভু বরগুনার এতো উন্নয়ন করেছেন যে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও এখন উন্নয়ন নিয়ে হাস্যকর সব কথা বলতে শুরু করেছেন। তারা পার্শ্ববর্তী জেলার সাথে বরগুনাকে তুলনা করেন অথচ তাদের এটা মনে থাকে না যে, সেটি বরগুনার আরও ১৫ বছর আগে জেলায় রূপান্তরিত হয়েছে! তাই সে জেলা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বরগুনার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক, কিন্তু তারা সেটা নিয়ে গুজব সৃষ্টি করছেন। তারা নৌকার প্রার্থীর সমালোচনা করতে যেয়ে কৌশলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতেও পিছপা হচ্ছেন না। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, তাদের যোগ্যতা কি, তারা বরগুনার জন্য কি করতে পেরেছেন? যতটুকু যা হয়েছে তা এমপি শম্ভুর মাধ্যমেই হয়েছে।
আমতলী পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় কিছু ছোট ছোট চায়ের টং দোকান। সেখানেও গিয়ে দেখা যায়, চায়ের কাপে ঝড় উঠছে রাজনৈতিক আলাপে। জাতীয় নানা বিষয়ের পাশাপাশি উঠে এসেছে বরগুনা-১ আসনের ভোটের আলাপও। রশীদ মিয়া নামে পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন ব্যক্তি প্রতিবেদককে জানান, ‘গত ১৫ বছরে সব দিক দিয়েই বরগুনা এগিয়ে গেছে। বরগুনার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও যে উন্নয়ন হয়েছে তার তুলনা হয় না। শুধু গ্রামীণ রাস্তাঘাটগুলোর সংস্কারের কাজ হচ্ছিল না করোনার কারণে। তবে এই অর্থবছরে ৭৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ এসেছে এমপি শম্ভুর মাধ্যমে।’ তাই তিনি এবারও নির্দ্বিধায় নৌকাতে এমপি শম্ভুকেই ভোট দেবেন।
সেখানেই সাইফুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, ‘ব্যাপক উন্নয়নের কারণে বরগুনা, আমতলী, তালতলী এখন আকর্ষণীয় এলাকা। এর পেছনে কৃতিত্ব ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীরাসহ কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তিস্বার্থে তার বিরুদ্ধে নানারকমের ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। এতকিছুর পরও আমি মনে করি, এমপি শম্ভু অপ্রতিরোধ্য। বরগুনা-১ আসনে তিনি আওয়ামী লীগের একমাত্র বিকল্পহীন প্রার্থী।’
তালতলীর ছোট বগী ইউনিয়ন পরিষদের পাশে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন কয়েকজন। রফিক মিয়া নামে সত্তরোর্ধ্ব একজন বলেন, ‘মাত্র এক যুগ আগেও তালতলী ছিল সাধারণ একটা ইউনিয়ন। ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু একক প্রচেষ্টায় তালতলীকে উপজেলায় রূপান্তর করেন। এখন সেখানে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, পাকা রাস্তাঘাট করে দেওয়া হয়েছে, হাসপাতাল হয়েছে, ফায়ার সার্ভিস সিভিল স্টেশন
প্রতিনিধির নাম 



















