
শফিক ইসলাম , খাগড়াছড়ি
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ফলজ বৃক্ষরোপণে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে খাগড়াছড়ি জেলার তিনটি মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের মাঝে ১ হাজার ৪০০টি ফলজ গাছের চারা বিতরণ করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দেশব্যাপী ২ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
জুমার নামাজ শেষে ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা মুসল্লিদের হাতে আম ও লিচুর চারা তুলে দেন এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
কর্মসূচির আওতায় দীঘিনালা উপজেলার মেরুং এলাকার বেলছড়ি জামে মসজিদে ৪০০টি (২০০টি আম ও ২০০টি লিচু), গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ৬০০টি (৩০০টি আম ও ৩০০টি লিচু) এবং পানছড়ি উপজেলার উল্টাছড়ি এলাকার মুসলিম নগর হযরত উমর (রা.) জামে মসজিদে ৪০০টি (২০০টি আম ও ২০০টি লিচু) ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এ সময় স্বেচ্ছাসেবীরা মুসল্লিদের নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের খালি জায়গায় গাছের চারা রোপণ এবং সঠিক পরিচর্যার আহ্বান জানান। তারা বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সবুজ পৃথিবী গড়তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে খাগড়াছড়ি জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন এলাকায় ফলজ গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মাঝে মোট ৮ হাজার ৮৩৫টি ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, পাতাছড়া, গুইমারা, মাটিরাঙ্গা, খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চারা বিতরণ করা হয়।
শুক্রবার তিনটি মসজিদে আরও ১ হাজার ৪০০টি চারা বিতরণের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি জেলায় মোট ১০ হাজার ২৩৫টি ফলজ গাছের চারা বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন জানায়, দেশব্যাপী চলমান এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ফলজ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলা। পাশাপাশি সাদাকায়ে জারিয়াহর অংশ হিসেবে মানুষকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয় মুসল্লিরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, মসজিদকেন্দ্রিক এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম একদিকে যেমন পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।
প্রতিনিধির নাম 



















