
খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া (খুলনা)প্রতিনিধিঃ
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় চিংড়িতে জেলি ও পানি পুশ করে ওজন বাড়ানোর অপচেষ্টা রোধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে দুই ডিপো মালিককে জরিমানা এবং পুশকৃত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর ২০২৫) বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করে ডুমুরিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়।
‘মৎস্য ও মৎস্য পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ১৯৯৭ (সংশোধিত ২০০৮)’ অনুসারে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান। অভিযানে প্রথমে মেসার্স সাগর ফিসে চিংড়িতে জেলি পুশের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ১০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি ও প্রায় ৩০ কেজি জেলি জব্দ করা হয়। অন্যদিকে মেসার্স মোল্যা ফিসে পানি পুশের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেলে ডিপো মালিককে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে ভাই ভাই ফিস, আবির ফিস, আয়শা ফিস, সঞ্জিত ফিস এবং শ্রুতি ফিস এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটিকে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে এসব ডিপোতে কোনো পুশকৃত চিংড়ি পাওয়া যায়নি।
অভিযানে আরোও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী কেএম মহসিন আলম, অফিস সহকারী মোঃ সাইফুল্লাহ সহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। বাংলাদেশের চিংড়ি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে একটি বিশ্বস্ত পণ্য হিসেবে পরিচিত। কিন্তু জেলি বা পানি পুশের মতো অনৈতিক কার্যক্রম পুরো শিল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এতে শুধু ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন না, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন,পুশকৃত চিংড়ি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়মিত চলবে।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উপকূলীয় অঞ্চলে এরকম ধারাবাহিক অভিযান চালানো গেলে চিংড়ি শিল্প আবারও সুশৃঙ্খল হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
প্রতিনিধির নাম 
























