ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

বাঁশখালীতে বন রেইঞ্জারের নাকের ডগায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ দেখার কেউ নেই!

মোহাম্মদ ছৈয়দুল আলম, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

বাঁশখালী উপজেলার জঙ্গল চাম্বলে রেইঞ্জারের নাকের ডগায় পাহাড় কেটে দেদারসে গড়ে তুলছে অবৈধ স্থাপনা, এতে লাখ লাখ টাকা অবৈধ উপার্জন করে যাচ্ছে রেঞ্জ কর্তা আনিস, দেখার কেউ নেই।

২১ নভেম্বর (মঙ্গলবার), সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, চাম্বল ইউনিয়নের জঙ্গল চাম্বল ৯ নং ওয়ার্ড এলাকায় পাহাড়ি টিলা কেটে বেশ কয়েকটি অবৈধ ভাবে নতুন স্থাপনা নির্মাণের চলমান দৃশ্য।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বাঁশখালীতে যোগদানের পর থেকে ইকোপার্ক পার্শ্ববর্তী ও জঙ্গল চাম্বলের ৯ নং ওয়ার্ড এলাকা এবং জঙ্গল নাপোড়ার পাহাড়ি টিলা গুলো ধ্বংস করে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র একেরপর অবৈধ ভাবে গড়ে তুলছে। এতে একদিকে সাবাড় হচ্ছে পাহাড়, অপরদিকে ধ্বংসের মূখে পরিবেশ। এবিষয়ে অনেক বার বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হলেও বন কর্তা আনিসের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কতৃপক্ষ। এতে আরো বেপরোয়া ভাবে সরকার জায়গা দেদারসে অবৈধ দখল দিয়ে যাচ্ছে আনিস।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান এর সাথে আঁতাত করে পাহাড়ি টিলা দখল করে প্রতিযোগিতা মুলক অবৈধ বসতি স্থাপনা গড়ে তুলছে, এমন অভিযোগ সচেতন মহলের।

প্রভাবশালীদের লেলিয়ে দিয়ে স্থানীয়দের উপর অত্যাচার, নির্যাতন চালায়,তাই ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না বলেও জানায় তারা। এছাড়াও বাঁশখালীর চাম্বল, নাপোড়া ও পুঁইছড়ি পাহাড়ি বনাঞ্চল সাবাড় করার অভিযোগও রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাম্বল এলাকার এক করাত মিলের কয়েকজন শ্রমিক বলেন, শেখেরখীল, চাম্বল ও নাপোড়ার অনেক সামিলে নিয়মিত পাহাড়ি গাছ আসে। বাঁশখালীতে অনেক বছর যাবত কর্মরত থাকার সুবাদে সব জায়গাতেই চলে আনিস সাহেবের আধিপত্য। কেউ কিছুই করতে পারেনা, কারণ তার সাথে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সম্পর্ক রয়েছে। কিছু বললেই উল্টো নির্যাতনের শিকার হয় সাধারণ মানুষ। গাছ কেটে পুরো বনাঞ্চল সাবাড় করার ফলে প্রতিনিয়ত বন্যহাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

গত ২ নভেম্বর স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ মালেকসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ কাজে বাঁধা দিলে কিছুক্ষণের জন্যে কাজ বন্ধ রাখা হলেও বন কর্তা আনিসের কারিশমাতেই পুনরায় নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বনের জায়গা রক্ষা করা বন কর্মকর্তার দায়িত্ব, কিন্তু আনিস সাহেবকে বিষয়টি অবহিত করার পরেও তিনি পদক্ষেপ না নিলে আমাদের করার কিছুই নেই বলে জানান গ্রাম পুলিশ।

এবিষয়ে বাঁশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ এর কাছ থেকে জানতে চাইলে সত্যতা স্বীকার করে প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার পরদিন উচ্ছেদ করে দিবে বলে কখনো শীলকূপের চেয়ারম্যানের বাহনা আবার কখনো চাম্বল চেয়ারম্যানের বাহনা দেখিয়ে আজকাল করে সময় ক্ষেপণ করলেও অদ্যবদি পর্যন্ত ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কোন পদক্ষেপ নেননি কর্মকর্তা আনিস।

এবিষয়ে শীলকূপের চেয়ারম্যান কায়েস সরওয়ার সুমন বলেন, এই বিষয়ে আমিতো কিছুই জানিনা, এসময় তিনি উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, বন বিভাগের জায়গা রক্ষা করা কি আমার দায়িত্ব নাকি বন কর্মকর্তার দায়িত্ব?

এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, বন বিভাগের জায়গাতে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বন বিভাগের লোকজন সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা করা বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে পুকুরে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

বাঁশখালীতে বন রেইঞ্জারের নাকের ডগায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ দেখার কেউ নেই!

০৭:১৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০২৩

মোহাম্মদ ছৈয়দুল আলম, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

বাঁশখালী উপজেলার জঙ্গল চাম্বলে রেইঞ্জারের নাকের ডগায় পাহাড় কেটে দেদারসে গড়ে তুলছে অবৈধ স্থাপনা, এতে লাখ লাখ টাকা অবৈধ উপার্জন করে যাচ্ছে রেঞ্জ কর্তা আনিস, দেখার কেউ নেই।

২১ নভেম্বর (মঙ্গলবার), সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, চাম্বল ইউনিয়নের জঙ্গল চাম্বল ৯ নং ওয়ার্ড এলাকায় পাহাড়ি টিলা কেটে বেশ কয়েকটি অবৈধ ভাবে নতুন স্থাপনা নির্মাণের চলমান দৃশ্য।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বাঁশখালীতে যোগদানের পর থেকে ইকোপার্ক পার্শ্ববর্তী ও জঙ্গল চাম্বলের ৯ নং ওয়ার্ড এলাকা এবং জঙ্গল নাপোড়ার পাহাড়ি টিলা গুলো ধ্বংস করে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র একেরপর অবৈধ ভাবে গড়ে তুলছে। এতে একদিকে সাবাড় হচ্ছে পাহাড়, অপরদিকে ধ্বংসের মূখে পরিবেশ। এবিষয়ে অনেক বার বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হলেও বন কর্তা আনিসের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কতৃপক্ষ। এতে আরো বেপরোয়া ভাবে সরকার জায়গা দেদারসে অবৈধ দখল দিয়ে যাচ্ছে আনিস।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান এর সাথে আঁতাত করে পাহাড়ি টিলা দখল করে প্রতিযোগিতা মুলক অবৈধ বসতি স্থাপনা গড়ে তুলছে, এমন অভিযোগ সচেতন মহলের।

প্রভাবশালীদের লেলিয়ে দিয়ে স্থানীয়দের উপর অত্যাচার, নির্যাতন চালায়,তাই ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না বলেও জানায় তারা। এছাড়াও বাঁশখালীর চাম্বল, নাপোড়া ও পুঁইছড়ি পাহাড়ি বনাঞ্চল সাবাড় করার অভিযোগও রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাম্বল এলাকার এক করাত মিলের কয়েকজন শ্রমিক বলেন, শেখেরখীল, চাম্বল ও নাপোড়ার অনেক সামিলে নিয়মিত পাহাড়ি গাছ আসে। বাঁশখালীতে অনেক বছর যাবত কর্মরত থাকার সুবাদে সব জায়গাতেই চলে আনিস সাহেবের আধিপত্য। কেউ কিছুই করতে পারেনা, কারণ তার সাথে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সম্পর্ক রয়েছে। কিছু বললেই উল্টো নির্যাতনের শিকার হয় সাধারণ মানুষ। গাছ কেটে পুরো বনাঞ্চল সাবাড় করার ফলে প্রতিনিয়ত বন্যহাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

গত ২ নভেম্বর স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ মালেকসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ কাজে বাঁধা দিলে কিছুক্ষণের জন্যে কাজ বন্ধ রাখা হলেও বন কর্তা আনিসের কারিশমাতেই পুনরায় নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বনের জায়গা রক্ষা করা বন কর্মকর্তার দায়িত্ব, কিন্তু আনিস সাহেবকে বিষয়টি অবহিত করার পরেও তিনি পদক্ষেপ না নিলে আমাদের করার কিছুই নেই বলে জানান গ্রাম পুলিশ।

এবিষয়ে বাঁশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ এর কাছ থেকে জানতে চাইলে সত্যতা স্বীকার করে প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার পরদিন উচ্ছেদ করে দিবে বলে কখনো শীলকূপের চেয়ারম্যানের বাহনা আবার কখনো চাম্বল চেয়ারম্যানের বাহনা দেখিয়ে আজকাল করে সময় ক্ষেপণ করলেও অদ্যবদি পর্যন্ত ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কোন পদক্ষেপ নেননি কর্মকর্তা আনিস।

এবিষয়ে শীলকূপের চেয়ারম্যান কায়েস সরওয়ার সুমন বলেন, এই বিষয়ে আমিতো কিছুই জানিনা, এসময় তিনি উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, বন বিভাগের জায়গা রক্ষা করা কি আমার দায়িত্ব নাকি বন কর্মকর্তার দায়িত্ব?

এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, বন বিভাগের জায়গাতে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বন বিভাগের লোকজন সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা করা বলে জানান তিনি।