
নুরুজ্জামান লিটন, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ
নওগাঁয় ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে হেলমেট ও মাস্ক পরা দুর্বৃত্তরা।
১৮ নভেম্বর,শনিবার রাত ৯টার দিকে নওগাঁ পৌরসভার ইয়াদ আলীর মোড় এলাকায় ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত তাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে পালিয়ে যায়।পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি ফয়সাল বিন আহসান।
নিহত কামাল আহমেদ (৫৪) নওগাঁ শহরের রজাকপুর এলাকার মমতাজ আলীর ছেলে। তিনি নওগাঁ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সভাপতি।
এছাড়া নওগাঁ ট্রাক বন্দোবস্তকারী সমিতির সাবেক সভাপতি, সাংস্কৃতিক সংগঠন নওগাঁ নজরুল একাডেমির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) নওগাঁ জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন কামাল আহমেদ।
বিএনপির অভিযোগ, আতঙ্ক ছাড়ানোর জন্য নওগাঁয় একের পর এক বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হেলমেট ও মাস্ক পরে হামলা করা হচ্ছে। অন্যদিকে এটি কোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয় দাবি করে এর পেছন কি কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কামাল হোসেনের ছেলে রাসেল ইমাম নবাব জানান, রাত ৯টার দিকে তার বাবা সান্তাহার রেলস্টেশন এলাকা থেকে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন।পথে নওগাঁ পৌরসভার ইয়াদ আলীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে হেলমেট পরা ছয়-সাতজন দুর্বৃত্ত অটোরিকশাটির পথ রোধ করে। তারা অটোরিকশা থেকে বাবাকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে অটোরিকশায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
রাতে নওগাঁ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে কামাল আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। তার ঘাড়ে ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বায়েজিদ হোসেন অভিযোগ করেন, চলমান আন্দোলনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের টার্গেট করে হামলা চালানো হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনও নীরব।
তিনি বলেন, “এ নিয়ে নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই ও সদর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে পাঁচটি ঘটনা ঘটলো। কিন্তু এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বিরোধী শক্তিকে কোণঠাসা করতেই ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হচ্ছে। “
এই ঘটনায় ১৯ নভেম্বর,রবিবার সকালে নিহতের ছেলে রাসেল ইমাম নবাব বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ রবিবার সকাল ১১টায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
ওসি ফয়সাল বিন আহসান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয় বলে মনে হচ্ছে। কী কারণে কারা তাঁকে হত্যা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরো জানান,ঘটনাস্থলের কাছে একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে আশা করছি।
প্রতিনিধির নাম 


















