
বিশেষ প্রতিবেদক
সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশনের সুফল যখন সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাচ্ছে, ঠিক তখনই একশ্রেণীর ভুঁইফোড় সাংবাদিক নামধারীদের অসৎ উদ্দেশ্য ও চাঁদাবাজির মুখে পড়ছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। সম্প্রতি বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল-১ (মিরপুর)-এর মোটরযান পরিদর্শক খুলদ হাসান এবং সেবা প্রদানকারী কর্মী নাজমুলকে জড়িয়ে ‘আমাদের সংগ্রাম’, ‘দৈনিক ঢাকার ক্রাইম’ এবং ‘মুক্তির চেতনায় বাংলাদেশ’ নামের তিনটি অনলাইন পোর্টালে হুবহু একই বিবরণ সম্বলিত একটি মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই সংবাদের পেছনে কোনো জনস্বার্থ বা অনুসন্ধানী তথ্য নেই; বরং অনৈতিক সুবিধা ও দাবি করা চাঁদা না পেয়ে ব্যক্তি আক্রোশ মেটাতেই এ অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
পেশাদার সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালা তো দূরে থাক, প্রচারিত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নামটিও সঠিকভাবে লেখা হয়নি। ‘খুলদ হাসান’-এর নাম বিকৃত করে লেখা হয়েছে ‘খুলুল হাসান’। সংবাদটিতে অজস্র বানানের ভুল, অসংলগ্ন শব্দচয়ন এবং নিম্নমানের ভাষার ব্যবহার স্পষ্ট। সচেতন মহলের মতে, এটি কোনো প্রকৃত সাংবাদিকতা নয়, বরং সুনির্দিষ্ট আক্রোশ ও ব্ল্যাকমেইলের সস্তা চেষ্টা।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত বা প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টালের সরকারি তালিকায় এই তিনটি সাইটের কোনোটিরই নাম নেই। প্রিন্ট পত্রিকা বা নিরপেক্ষ জাতীয় গণমাধ্যমের আড়ালে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে পাঠকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনটি ভিন্ন ডোমেইনে একই ভুল বানান এবং শব্দে শব্দে মিলে যাওয়া টেক্সট প্রমাণ করে, এটি কোনো সরেজমিন বা নিরপেক্ষ প্রতিবেদন নয়। এটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের পূর্বে তৈরি করা একটি স্ক্রিপ্ট, যা একযোগে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাইদ মৃধা নামের এক কথিত সংবাদকর্মী ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্রের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিআরটিএ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা হাসিলের চেষ্টা করছিলেন। সম্প্রতি তিনি বিআরটিএ কর্মী নাজমুলের কাছে মাসোহারা হিসেবে নিয়মিত ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন। নাজমুল এই অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইদ মৃধা নিজের তৈরি মনগড়া লেখাটি ওই তিনটি ভুঁইফোড় পোর্টালে প্রকাশ করে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন।
বর্তমানে বিআরটিএ-এর অধিকাংশ সেবা শতভাগ ডিজিটাল। অনলাইনে ফি প্রদান এবং ডিজিটাল ফাইল ট্র্যাকিংয়ের সুযোগ থাকায় ব্যক্তিগতভাবে ফাইল আটকে রাখা বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। ভুক্তভোগীদের মতে, একটি অসৎ চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে নাম-বানান ভুল লিখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল-১ এ সেবা নিতে আসা একাধিক গ্রাহক জানান, “ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে এখন আর মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের কাছে যেতে হয় না। তবে প্রাঙ্গণের বাইরে কিছু লোক সাংবাদিক পরিচয়ে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং ডিস্টার্ব করে। তাদের কথামতো কাজ না করলে বা টাকা না দিলে মনগড়া খবর লিখে নাম খারাপ করার হুমকি দেয়। এই অপচক্রকে দ্রুত বিআরটিএ এলাকা থেকে দূর করা দরকার।”
স্থানীয় মূলধারার জাতীয় গণমাধ্যমের একাধিক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়া, এমনকি নাম ও বানান পর্যন্ত ভুল লিখে যা ইচ্ছে তাই ছেপে দেওয়া বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চরম পরিপন্থী। অনুমোদনহীন সাইট ও ভুয়া পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের কারণে আজ পেশাদার সাংবাদিক সমাজ লজ্জিত। একই ভুল টেক্সট যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশ করায় ওই পোর্টালগুলোর সম্পাদকদের দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতা নিয়েও বড় প্রশ্ন ওঠে।
ভুক্তভোগী পক্ষ ও বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, অনতিবিলম্বে এসব বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর সংবাদ অনলাইন থেকে অপসারণ না করা হলে এবং জড়িতরা প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে সংশ্লিষ্ট পোর্টালের সম্পাদক ও তথাকথিত প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং দণ্ডবিধির মানহানি ধারায় (৪৯৯/৫০০) আদালতে মামলা দায়েরের সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিনিধির নাম 


















